সময়টা এখন কর্মব্যস্ততার। বর্তমানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঘরে-বাইরে ব্যস্ত সময় পার করেন। সেই কর্মব্যস্ত জীবনে ঘরে ফিরে একটা বড় সময় কেটে যায় রান্নাঘরে। শিল্প হোক বা প্রাত্যহিক কাজ, রান্না করা বরাবরই পরিশ্রমসাধ্য। সেই পরিশ্রম কমাতে সাহায্য করতে পারে স্মার্ট কিচেন। তবে শুধু চুলা কিংবা হাঁড়ি-পাতিলের সঙ্গেই নয়, রান্নাঘরের দেয়াল কিংবা মেঝেতে স্মার্ট কিছু পরিবর্তনও প্রয়োজন রান্নাঘরের সময়টাকে স্বল্প এবং আরামদায়ক করার জন্য। রান্নাঘরের তেমনই একটি অনুষঙ্গ টাইলস।

স্মার্ট কিচেনের সূচনা হয় রান্নাঘরের দেয়ালে ও মেঝেতে টাইলসের ব্যবহারের মাধ্যমে। একটি স্মার্ট কিচেনের মেঝে ও দেয়ালের পুরোটাজুড়েই থাকে টাইলস। আর সেই টাইলসে যদি থাকে নান্দনিকতার ছোঁয়া তাহলে রান্নাঘরে সময় কাটানোও কিছুটা আনন্দদায়ক হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখতেও টাইলসের বিকল্প নেই। 

শুরুর দিকে মানুষ কেবল মেঝেতে টাইলস ব্যবহার করলেও ধীরে ধীরে চুলা ও সিংকের ওপরের অংশের দেয়ালে টাইলসের ব্যবহার শুরু হয়। এখন সময় বদলেছে, সেই সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচিও। বর্তমানে রান্নাঘরের পুরো মেঝে ও দেয়ালজুড়েই টাইলসের ব্যবহার বেড়েছে। চাহিদা বেড়েছে বাহারি ডিজাইনের টাইলসেরও। 

মেঝের টাইলস হিসেবে বর্তমানে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ম্যাট সারফেস টাইলস। আকিজ বশির গ্রুপের অপারেশন্স ডিরেক্টর (বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস) মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মতে, রান্নাঘরের মেঝে প্রায়ই পানি পড়ে ভিজে যায়। এ বিষয় মাথায় রেখে রান্নাঘরের টাইলস ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিচ্ছিল টাইলস ব্যবহার করা উচিত না। যেমন পলিশড টাইলস অল্প পানি পড়লেই পিচ্ছিল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে যিনি রান্নাঘরে কাজ করছেন, পিচ্ছিল টাইলসে পড়ে যেতে পারেন। 

রান্নাঘরের দেয়াল ও মেঝের জন্য দেশের সব টাইলস কোম্পানির আলাদা সিরিজ টাইলস আছে। এসব টাইলসের সাইজের ভিন্নতা থাকে। সাইজভেদে দামের ভিন্নতা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৪০ বাই ৪০ বা ৩০ বাই ৩০ সাইজের টাইলস বেশি ব্যবহৃত হয় বলেও জানান তিনি। তবে রান্নাঘর বড় হলে ৩০ বাই ৬০ বা ৬০ বাই ৬০ বড় সাইজের টাইলসও ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নাঘরের দেয়ালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ৩০ বাই ৫০ বা ৩০ বাই ৬০ সাইজের গ্লসি টাইলস বেশি ব্যবহার হচ্ছে।

সহজে পরিষ্কারযোগ্য বলেই রান্নাঘরের দেয়ালের জন্য গ্লসি টাইলসের চাহিদা বেশি। তবে মেঝের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আজকাল বাহারি ডিজাইনের নান্দনিক সব টাইলস পছন্দ করছেন বলে জানান খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের দেশের আর্কিটেক্ট বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা গ্লসি টাইলস থেকে বের হয়ে ধীরে ধীরে ম্যাট টাইলসের দিকে যাচ্ছেন। কারণ যত দিন যাচ্ছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।’

বর্তমানে টাইলসের ডিজাইনেও এসেছে ভিন্নতা। ম্যাট টাইলসের সারফেসে অনেক ধরনের নকশা থাকে বলে মানুষ এর দিকে ঝুঁকছে আজকাল। এ টাইলসে বাহারি নকশা থাকে। কিছু কিছুতে উডেন টেক্সচার থাকে, ব্যাম্বো টেক্সচারও থাকে। এ ধরনের ডিজাইনই এখন বেশি চলছে বলে জানান খোরশেদ আলম।