রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলি হামলা—এসব ঘটনায় বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতার মতো ঘটনা দেখা যাচ্ছে। ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে এসবের প্রভাব পড়েছে কি?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা গাজায় ইসরায়েলি হামলার ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পণ্যের  সরবরাহ চেইনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ইলেকট্রনিকস বা কনজিউমার ইলেকট্রনিকস, হোম অ্যাপ্লায়েন্সও এর বাইরে নয়। এসব আগ্রাসী হামলার ফলে অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, খাদ্য ও পণ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির করাল গ্রাসে পড়ছে মানুষ। নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব আগ্রাসন যে কেবল বাজার অস্থিতিশীল করছে তা নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বহু গুণ। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পণ্য উৎপাদনকারীকে দাম বাড়াতে হচ্ছে।

ডলারের দাম বৃদ্ধি দেশের কোম্পানিগুলোকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যায় ফেলছে কি?

কভিড মহামারীর সংকট কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেটিকে বাধাগ্রস্ত করছে। যার প্রভাব বাংলাদেশসহ  বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়ছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডলার সংকট ও দাম বাড়ার ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন পণ্য উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে ইলেকট্রনিক পণ্য বিশেষত গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার এখন কী অবস্থায় আছে? দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার মানি ভ্যালুতে কত হবে?

ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনুষঙ্গ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত গৃহস্থালিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স। গত এক দশকে ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্প খাতে বিপুল অগ্রগতি হয়েছে। এক সময় যেটি ছিল নিতান্তই শখের জিনিস, বর্তমানে সেটিই প্রয়োজনীয় উপকরণ। বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এসব পণ্যের শোরুম দেখা যায়। কনজিউমার ইলেকট্রনিকস জগতে যমুনার পথচলা শুরু ২০১৪ সালে। যদিও দেশীয় বাজারে রেফ্রিজারেটর ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসায় আমাদের কোম্পানিগুলো দুই দশকেরও বেশি সময় ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিন্তু ভালো মানের পণ্যের সরবরাহের ঘাটতি থেকেই আমাদের গ্রুপের প্রয়াত সম্মানিত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল মনে করলেন, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জনগণের দুয়ারে সেরা পণ্যটি পৌঁছে দিতে হবে। সে লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিঃ ২০১৪ সালে বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন শুরু করে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, উন্নত কাঁচামাল ও প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনী উৎকর্ষ সাধনে যমুনা আজ দেশের ১ নম্বর কোয়ালিটি ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড। জীবনের সব প্রয়োজন-আয়োজনে পাশে থাকতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠী যমুনার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস দেশের ১ নম্বর কোয়ালিটি হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। আমাদের উৎপাদিত হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মধ্যে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এলইডি টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, গ্যাস স্টোভসহ অন্যান্য স্মল অ্যাপ্লায়েন্স। ক্রমবর্ধমান চাহিদা আর ক্রেতা সন্তুষ্টির দিকে নজর রেখে যমুনা ইলেকট্রনিকস নিত্যনতুন প্রযুক্তি, উন্নত কাঁচামাল ও একদল নিবেদিতপ্রাণ দক্ষ জনবল দ্বারা নিজস্ব কারখানায় এসব হোম অ্যাপ্লায়েন্স তৈরি করছে।

ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে বিদেশী পণ্য পেছনে ফেলে দেশীয় কোম্পানিগুলো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। দেশী কোম্পানিগুলো আরো বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা আপনার চোখে ধরা পড়েছে কি?

সময়ের পথপরিক্রমায় বিদেশী ব্র্যান্ডের পণ্য পেছনে ফেলে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো ক্রেতাদের কাছে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। একসময়ের পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এ শিল্পে বর্তমানে দেশীয় কোম্পানিগুলো আধিপত্য বিস্তার করে আছে। ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বাজার বেশ বড় হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সাশ্রয়ীমূল্যে সেরা পণ্যটি গ্রাহকের হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে।  বর্তমান সময়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। তা ছাড়া শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের সংযোগ। প্রাত্যহিক জীবনে মানুষের ব্যস্ততা ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা বাড়িয়েছে, ফলে দিন দিন এ শিল্প বিকশিত হচ্ছে।

গত বছর শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদায় বিরাট উল্লম্ফন দেখা গেছে। এ বছর পরিস্থিতি কেমন হতে পারে? 

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও Global Warming-এর bad effect আমাদের দেশেও এসে পড়েছে। প্রতিনিয়ত তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে অনেকেই এসি কিনছেন। তাছাড়া জীবনযাত্রার মানের উন্নতি আর সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা উন্নতির ফলে শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলেও এসির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। প্রতি বছরে ২০-২৫ শতাংশ হারে গ্রাহক চাহিদা বাড়ছে যা এ শিল্পের জন্য ইতিবাচক। তাছাড়া প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার এসিতে বিদ্যুৎ বিল কম হয় তাই মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত অনেকে এসি কিনছে। যদিও একটা সময় এটিকে বিলাস পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো কিন্তু বর্তমানে এটি প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস পণ্য হয়ে উঠেছে।

ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার বিকাশে সরকারি নীতিসহায়তা কেমন পাওয়া গেছে? বর্তমান পরিস্থিতিতে এ খাতের জন্য নতুন কোনো সহায়তা প্রয়োজন দেখছেন কি?

আমাদের দেশের যেকোনো শিল্পের বড় প্রতিবন্ধকতা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি নীতিমালা ও এর বাস্তবায়ন। একসময়ের পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এ শিল্প বর্তমানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সফল পরিচালনায় শিল্প হিসেবে আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। স্থানীয় শিল্প কর, ভ্যাট, কাস্টমস শুল্কের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা এ শিল্পের অগ্রগতিকে কিছুটা শ্লথ করেছে। আমরা আশা করব সরকারি নীতিসহায়তা এ শিল্পের অগ্রগতিকে আরো বেগবান করবে।

ঈদ উৎসবে কোন কোন ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়ে?

উৎসব আয়োজনে ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্সের চাহিদা বাড়ে। রমজান এবং ঈদে সাধারণত গ্রাইন্ডার, জুসার, ব্লেন্ডার, মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ নানাবিধ হোম অ্যাপ্লায়েন্সের চাহিদা বাড়ে। তাছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

ঈদ উপলক্ষে আপনারা এবার কী ধরনের ছাড় বা অফার রাখছেন ক্রেতার জন্য?

এ ঈদে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পণ্য ক্যাশে কিংবা সহজ কিস্তিতে ক্রয় করে রেজিস্ট্রেশন করলেই প্রতি সপ্তাহে পাবেন মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি, স্মার্ট টিভি, ওভেনসহ অসংখ্য হোম অ্যাপলায়েন্স। এছাড়া সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ নগদ ডিসকাউন্ট থাকছে কাস্টমারদের জন্য।