বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার প্রভাব ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে পড়েছে কি?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজায় ইসরায়েলি হামলার মতো ঘটনার প্রভাব পড়েছে ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর। বর্তমান বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থায় প্রত্যেকটা দেশই কোনো না কোনোভাবে আরেকটা দেশের ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু আমাদের ব্যবসাগুলোও সারা বিশ্বে বিস্তৃত। স্বাভাবিকভাবেই এক দেশের অর্থনীতির ওপর যদি কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাহলে অন্য দেশের অর্থনীতিতেও তার আঁচড় লাগে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ওপর প্রভাব পড়েছে। সেই তেল ও গ্যাস আবার ভীষণভাবে প্রভাব ফেলেছে ইউরোপের অনেক দেশের ওপর। তাদের দ্রব্যমূল্যে দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বগতি। বেড়ে গেছে কলকারখানার জিনিসপত্রের দামও। কারণ তেল ও গ্যাস ছাড়া তো উৎপাদন সম্ভব না। যখন তারা তেল ও গ্যাস সরবরাহ কম পেয়েছে, তাদের উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে। কিংবা যেটাই উৎপাদন করতে গেছে, সেই জিনিসটার পেছনে খরচ বেশি হয়েছে। ফলে উৎপাদিত পণ্যেরও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে, যার ফল সুদূরপ্রসারী। রাশিয়া বা চীন থেকে যখন আমরা পণ্য নিয়ে আসছি, তখন আবার বাজারমূল্য বেড়েছে। ফলে যেকোনো দেশের যুদ্ধ-বিগ্রহই অন্য দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। আমাদের ওপরও তার প্রভাব ফেলছে।
ডলারের দাম বৃদ্ধি দেশের কোম্পানিগুলোকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যায় ফেলছে কি?
সোজা কথায় বললে ফেলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে আমরা দেখছি আমাদের বাংলাদেশেই প্রচুর পরিমাণে ডলার সংকট তৈরি হয়েছে একটা সময়। ২০২২-২৩ সালে আমরা ডলার সংকটের জন্য কাঁচামাল আমদানি করতে পারিনি। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ছোট ছোট কোম্পানি। ইলেকট্রনিক কোম্পানি থেকে শুরু করে অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাণ-আরএফএলের মতো জায়ান্ট কোম্পানি যারা আছে, তারা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও টিকে আছে। কিছু বিদেশী কোম্পানি ও ব্র্যান্ডও টিকে আছে। আমাদের ক্ষেত্রে আমরা কিছু উপায় বের করেছি। যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের ব্যবসা আছে। বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ওই দেশ থেকে আমরা অর্থমূল্য আনিনি। আমরা সেখানে পণ্য এক্সপোর্ট করেছি। এক্সপোর্টের যে অর্থমূল্য ছিল, সেই অর্থমূল্য দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করেছি। তার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রতিকূলতা তৈরি করেছিল, আমাদের ডলার দিচ্ছিল না, বড় বড় কোম্পানিকেও ডলার ক্রাইসিসে রাখছিল; আমরা সেই ডলার ক্রাইসিসে পড়িনি। আমরা এক্সপোর্ট করেছি, তারপর সেই অর্থমূল্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে না নিয়ে সমমূল্যের কাঁচামাল বাইরে থেকে নিয়ে এসেছি। সেক্ষেত্রে আমাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। তবে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে ডলারের দাম বৃদ্ধি প্রভাব পড়েছিল। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানিতে।
ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার বিকাশে সরকারি নীতিসহায়তা কেমন পাওয়া গেছে?
এখন পর্যন্ত সরকার আমাদের বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, যাতে আমরা আরো ভালো অবস্থানে যাই। তবে যে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এটা আসলে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত না। সরকার যদি আমাদের আরো বেশি সহযোগিতা করে, কাঁচামাল আমদানির ওপর যদি আরো শুল্ক কমায় সেক্ষেত্রে দেশী পণ্যের যে ছোট ছোট কোম্পানি আছে বা আমাদের মতো যে জায়ান্ট কোম্পানিগুলো, তারা আরো বিকশিত হবে। শুধু বিকশিত হবে না, আমরা এখানে স্থানীয়ভাবে এ প্রডাক্টগুলো উৎপাদন করি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ প্রডাক্টগুলো আমরা রফতানি করতে পারি। এখন সারা বিশ্বে কিন্তু অ্যাপ্লায়েন্সের প্রচুর চাহিদা আছে। গভর্নমেন্ট যদি এখানে আরো পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তাহলে আমার মনে হয় দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব, যেটা দেশের অর্থনীতিতে ভালো একটা প্রভাব ফেলবে।
ঈদ উপলক্ষে আপনারা এবার কী ধরনের ছাড় বা অফার রাখছেন ক্রেতাদের জন্য?
বিভিন্ন উৎসবে গ্রাহককে সংযুক্ত করার জন্য আমরা নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিই। এ বছরও আমরা মোটামুটি কিছু প্রোগ্রাম দিয়েছি এখানে আমাদের ইলেকট্রনিকস আইটেম কেনার সময় তারা একটি প্রডাক্টের সঙ্গে আরেকটি সম্পূরক বা পরিপূরক একটা প্রডাক্ট নিতে পারেন। একটা প্রডাক্ট নিলে হয়তো আমরা আরেকটা প্রডাক্ট গিফট হিসেবে দিচ্ছি। একটি পণ্যের সঙ্গে আরেকটি ভিন্ন পণ্য দিচ্ছি। এটা হতে পারে ব্লেন্ডারের সঙ্গে আমরা চামচ ফ্রি দিচ্ছি বা রাইস কুকারের সঙ্গে হয়তো বোল ফ্রি দিচ্ছি। একটা প্রডাক্টের সঙ্গে আরেকটা প্রডাক্ট দেয়ার চেষ্টা করছি, পাশাপাশি আমাদের কিছু মানি ব্যাক বা ক্যাশ ব্যাক অফারও চলছে ঈদ উপলক্ষে। এ ধরনের ছোট ছোট কনজিউমার প্রডাক্ট রাখলে যেটা সুবিধা হয় ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেক্ষেত্রে কাস্টমাররা খুশি হয়, তাদের কথা চিন্তা করি। তাদের যতটা খুশি রাখা সম্ভব, সেই জায়গাটা আমরা চিন্তা করি।





