৪ ফেব্রুয়ারি ইউআইসিসির আহ্বানে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হচ্ছে দুনিয়ার সব দেশে। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে আসলে আমাদের তিন বছর ধরে মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ’। ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপের অর্থ আমরা বারবার বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি সবাইকে। ক্যান্সারের চিকিৎসা, স্ক্রিনিং ও ক্যান্সারের আর্লি ডিটেকশনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, সমাজ থেকে সমাজ, দেশ থেকে দেশ, জেলা থেকে জেলা এবং এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে অনেক বৈষম্য বিরাজ করছে। এ বৈষম্যকে কমিয়ে এনে সবার জন্য সর্বজনীন ক্যান্সার রোগ নির্ণয়, স্ক্রিনিং ও ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই ইউআইসিসির লক্ষ্য। এ লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে আমরা তিন বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। কিছু প্রাপ্তি আমাদের আছে, তবে আরো অনেক কিছু করতে হবে। সে করা বিষয়গুলোকে ধরেই আমাদের ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এগিয়ে যাচ্ছে। 

রেডিওথেরাপির জন্য বাংলাদেশে প্রায় ১৬০ মেশিনের দরকার। ১৬০টি অনেক দূরে, ৩০-৪০টি মেশিন নিয়ে বাংলাদেশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে আপনারা শুনলে খুশি হবেন, আমাদের ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন চালু রেখেছি, আগামীতে সংখ্যাটা আরো বাড়াব। আমাদের পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের আরো বিভিন্ন অঞ্চলে রেডিওথেরাপি সেন্টার করার। ক্যান্সার হাসপাতাল করার। এর মধ্য দিয়ে রেডিওথেরাপি সেবার ক্ষেত্রে গ্যাপটা কিছুটা হলেও দূর হবে। জাতি ও দেশকে আমরা সহযোগিতা করতে পারবে। এছাড়া ল্যাবএইড হাসপাতালে আমরা প্রতিনিয়ত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার পরিকল্পনা করে থাকি। এটা কিন্তু ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য খুব জরুরি ব্যাপার। আমি ক্যান্সার দিবসের আলোচনায় সবাইকে সচেতন করতে চাই। এমনকি আমরা যারা ডাক্তার আছি, তাদেরও। ক্যান্সার চিকিৎসাটা আসলে আমাদের কারোরই এককভাবে পরিকল্পনা করা উচিত না। এ চিকিৎসার শুরুতে যদি বোর্ডের মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা করি; তাহলেই রোগীকে সর্বোত্তম চিকিৎসা দিতে পারব। আমরা ল্যাবএইড হাসপাতালে এটা করে যাচ্ছি। এর বাইরে আমাদের এখানে আধুনিক মানের ডে কেয়ার সেন্টার আছে। সেখানে কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি পারফেক্টলি দেয়া যায়। কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো বিষয়গুলো যেখানে সেখানে দেয়া ঠিক না। কারণ এগুলো নির্দিষ্ট মাপ, সময় ও কতগুলো কেয়ার নিয়ে দিতে হয়। এর যথাযথ ফল পাওয়ার জন্য একে ঠিক ভাবেই দেয়া উচিত। যেটা আমাদের ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের ডে কেয়ার সেন্টারে করি। তাছাড়া আমাদের এখানে শিগগিরই বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে হেমাটোলজিক্যাল ক্যান্সারসহ আরো কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসায় আমাদের সহযোগিতা হবে। আমরাও সহযোগিতা করতে পারব দেশকে। 

সামাজিক সচেতনতার দিক থেকেও সরব ল্যাবএইড। সামাজিক দায়িত্বের কারণে আমরা আশা করি, আমাদের জনসংখ্যাকে ক্যান্সারের বিষয়ে আরো সচেতন করতে পারব, যেন ক্যান্সারকে আরো দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এর মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ ক্যান্সারের দুর্বিষহ অবস্থা থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হবে। এভাবে ল্যাবএইড হাসপাতালের মতো আরো হাসপাতাল হওয়া দরকার। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান যারা আছে, তাদের উচিত ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ করে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো। যেন বিদেশে ক্যান্সার রোগীদের যাওয়া কমানো যায় ও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা যায়।