রফতানি খাতের যে উন্নয়ন সেটা এ সরকারের আমলে হয়েছে। ২০১০ সালের পর এর গ্রোথ বেড়েছে। শুধু পোশাক পণ্যের রফতানি ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আমার ধারণা আগামী অর্থবছর পণ্যটির রফতানি ৫০ বিলিয়ন ক্রস করবে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে একটা মন্দার আশঙ্কা করছি। কিন্তু আমরা যে পণ্য রফতানি করি তার চাহিদা কমবে না। নীতিগত সহায়তা পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আমাদের নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। আরো এগিয়ে যেতে পারতাম, সেটি হয়নি কাস্টমসের পলিসিগত দীনতার কারণে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, কাস্টমসের লোকেরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনেক নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। আমরা যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এ খাতের জন্য পরিশ্রম করছি তাদের জন্য এটা খুবই দুঃখজনক। আমদানি-রফতানির জন্য সবচেয়ে বড় বাধাই হচ্ছে কাস্টমস।
আমাদের একটার পর একটা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কভিড পরিস্থিতি একটা পর্যায়ে কমে এসেছিল, তখন হয়তো ভেবেছিলাম আমরা সবাই সুস্থ হয়ে কাজে নেমে পড়েছি। এদিকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে একটা টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার আমাদের দেশে ভয়াবহ বন্যা। আমরা যেটা দেখছি স্মরণকালে মনে হয় এত বড় বন্যা আর কখনো হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ভালো অবস্থানে নেই। বলা হচ্ছে, আমাদের সেল কমে গিয়েছে, অর্থাৎ একটা অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে পড়েছে। কিছুদিন আগে ইউএস তাদের ডলারের ইনভেস্টমেন্টের বিপরীতে তাদের ইন্টারেস্ট রেট বাড়িয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু আমরা একটা সংকটের দিকে যাচ্ছি।
ডলার সংকট, রেমিট্যান্স কমছে, রিজার্ভ কমছে সব মিলিয়ে একটা অশনিসংকেত আমরা দেখছি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়েছে। বাংলাদেশের কয়েকটা মেগা প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এতে আমরা একটু আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এককভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যদি আমাদের সবার সম্মিলিত সহযোগিতা থাকে আমরা হয়তো এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।
আমরা যদি রফতানি খাত বিবেচনা করি তাহলে প্রথমে বলব সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, গত বছর বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কোন জিনিসটার দাম বাড়েনি? আমাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ক্রেতারা মূল্য কম দিচ্ছে। এ অবস্থায় পণ্যের উৎপাদন খরচ কমানো না গেলে টিকে থাকা যাবে না। সেজন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকঋণের সুদহার কম বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে কম নয়। বাংলাদেশ সরকার এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য অনেক ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করছে। কিন্তু এ নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকারের শুল্ক বিভাগের ভোগান্তি রয়েছে। আমরা এনবিআরের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেকবার আলোচনা করলেও সমস্যাগুলো থেকেই যাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে বন্দর সমস্যা। চট্টগ্রামে যে সমুদ্রবন্দরটি রয়েছে সেটির সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। আমরা ৫০-এর পর ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানির স্বপ্ন দেখছি। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেকগুলো দক্ষ বন্দর লাগবে। আর খুব দ্রুত আমাদের একটি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করতে হবে।





