কতকিছুই তো ভাঙে। অসাবধানে হাত লেগে ভেঙে যায় শখের ফুলদানি। ঘুম ভেঙে চশমা খুঁজতে গিয়ে হয়তো দেখেন, ঘুমের ঘোরে পিঠের নিচে পড়ে ভেঙে গেছে চশমার ফ্রেম। কিংবা হুট করে একদিন হয়তো দেখলেন, ভেঙে গেছে তিল তিল করে জমানো ভালোবাসার সম্পর্ক। খুব চেনা সম্পর্ক বদলে গেছে একটি পলকে। তারপর?
মূলত, জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। এটা জানার পরও অনেকেই বুঝতে পারেন না তখন আসলে কী করা উচিত। আবার আবেগ অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করাও এ সময় হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। তবুও নিজেকে সামলে নিতে মেনে চলতে পারেন কিছু পরামর্শ-
সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিন
বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরাতন সঙ্গীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে অবশ্য এই ইচ্ছে হওয়াই স্বাভাবিক। তার ওপর আজকাল তো ইন্টারনেটের কল্যাণে এক ক্লিকেই প্রাক্তনের খোঁজ জানা যায়, ফলে নিজেকে সংবরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু একটু কষ্ট করে এই কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা গেলেই বিচ্ছেদের ধকল সামলে নেয়া কিছুটা সহজ হয়।
যোগাযোগ রাখলে পিছুটান কাটবে না, একা চলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন না। তাই কোনো ধরনের ক্ষুদে বার্তা পাঠানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসরণ করা অথবা ফোন করা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
নিজের চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করুন
প্রাক্তন সঙ্গীকে নিয়ে সর্বক্ষণ চিন্তা করা বন্ধ করুন। কাজটি সহজ না হলেও চেষ্টা করতে থাকুন। প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো সুসময় কিংবা দুঃসময় – দুটোর কোনোটাই মাথায় না আনার চেষ্টা করুন। এ সময়টায় ইতিবাচক কাজে মনোনিবেশ করুন। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন। আড্ডা দিন।
নিজেকে খুঁজুন
নিজের ইচ্ছা, শখকে প্রাধান্য দিন। নিজের মননশীলতাকে কাজে লাগান। শিখতে পারেন শখের কোনো বাদ্যযন্ত্র, পড়তে পারেন পছন্দের বই। ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দের কাছে বাকি সবই তুচ্ছ মনে হবে একটা সময়ে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
অনেকভাবে চেষ্টা করার পরও অনেকেই বিচ্ছেদের ধকল সামলাতে পারেন না। একটা সময়ে বিচ্ছেদ জীবনে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চাইলেও মানসিক ট্রমা, হতাশা থেকে বের হওয়া যায় না। অ্যাবিউজিভ সম্পর্ক থেকে থাকলে তো দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যায়ও ভুগতে পারেন। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা বহু মানুষ পোস্ট ট্রমাটিক ডিজঅর্ডারেও ভোগেন। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মনরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।










