মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বর্ণিত ‘ডিউ প্রক্রিয়া’ বা যথাযথ আইনি অধিকার সম্পর্কে দ্বিধান্বিত মন্তব্য করেছেন। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেয়া এক বিস্তৃত এবং কিছুটা বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও অনাগরিকদের ন্যায্য আইনি অধিকার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি জানি না। আমি তো আইনজীবী নই।‘ খবর এপি।

এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি অধিকারের মৌলিক ধারণাকে খর্ব করার অভিযোগ করে আসছিল। কিলমার আব্রেগো গার্সিয়ার ঘটনাকে সামনে এনে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে। সালভাদরের নাগরিক গার্সিয়াকে ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসন দিয়ে এল সালভাদরে পাঠিয়ে জেলে রাখা হয় এবং আদালতের আদেশ সত্ত্বেও তাকে ফেরত আনা হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, আব্রেগো গার্সিয়া একটি ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক গ্যাংয়ের সদস্য এবং তিনি মার্কিন জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত বহিষ্কার করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হয়েছি এসব লোককে এখান থেকে বের করে দেয়ার জন্য। কিন্তু আদালত এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য করার ইচ্ছা থাকলেও সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না। যদিও তিনি এই বক্তব্য আগে বহুবার দিয়েছেন, এবার কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি না এতে সেনাবাহিনী প্রয়োজন হবে। আমি সৎভাবেই বলছি।‘

তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তিনি আগের মতোই আগ্রহী জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য সেটা দরকার।‘

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্লেষকদের উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প বলেন, দেশ এখন একটি রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনীতি দারুণভাবে ভালো করবে। তবে প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতিতে শূন্য দশমিক ৩% পতনের দায় তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘ভালো দিকগুলো ট্রাম্প অর্থনীতি আর খারাপ দিকগুলো বাইডেন অর্থনীতি।‘

এছাড়াও, শুল্ক বাড়ানোর ফলে শিশুদের খেলনার সংখ্যা কমে আসবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘৩০টি পুতুল লাগবে না, তিনটিই যথেষ্ট। ২৫০টি পেন্সিলের দরকার নেই, পাঁচটিতে চলবে।‘

তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানো নিয়ে প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি না বললেও বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তার ভাষায়, ‘মানুষ চায় আমি থাকি। কিন্তু দেখা যাক কী হয়।‘