যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রায় দুই সপ্তাহের নিরলস বিমান হামলার পরেও ইরানের নেতৃত্বের কাঠামো এখনো অটুট রয়েছে এবং দেশটির সরকার অদূর ভবিষ্যতে পতনের ঝুঁকিতে নেই বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এ বিষয়ে অবগত তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখনো দেশটির জনসাধারণের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহত হবার পরও তাদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের সংহতি অটুট রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে ইরানের বর্তমান ধর্মীয় সরকার নিশ্চিতভাবে ভেঙে পড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং যেকোনো সময়ে এর গতিপ্রকৃতি বদলে যেতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বা অন্য কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত সরাসরি স্থল আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে বড় ধরনের স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে। কুর্দি নেতারা দাবি করছেন যে, মার্কিন সমর্থন পেলে তাদের হাজার হাজার তরুণ সরকারবিরোধী লড়াইয়ে যোগ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তাদের কাছে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও জনবল নেই। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান সরকার পরিবর্তন বা কুর্দিদের দিয়ে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ঘটানোর পরিকল্পনা আপাতত তিনি বিবেচনায় আনছেন না।















