ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩-এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ২০০ জনের বেশি। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১৪ জন। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।

আগের দিন শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। প্রাদেশিক গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির আহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ানোর তথ্য জানিয়েছেন।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল-আলিমি জানান, হামলায় নিহতরা নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাসদস্য। এ হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। তার অভিযোগ, নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বোঝা যায়, চাপের মুখে হুথিরা সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নিচ্ছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সৌদি বাহিনী পরিচালনা করছিল। সৌদি আরব সমর্থিত বাহিনীর সদস্যরা যেখানে অবস্থান করবেন, সেসব স্থানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’ 

এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সংঘাত চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের পর সংঘাত আরো বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি এ বছর ভেঙে পড়ার পর লড়াই নতুন করে তীব্র হয়েছে।