ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরান নৌচলাচল বন্ধ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি ট্যাংকার মালিকানা প্রতিষ্ঠান, বড় জ্বালানি তেল কোম্পানি ও বাণিজ্যিক ট্রেডিং হাউজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবহন স্থগিত করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

একটি শীর্ষ ট্রেডিং হাউজের এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো কয়েক দিন নোঙর করে থাকবে।’

ট্যাংকার ট্র্যাকিং স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহসহ বড় বড় বন্দরের আশপাশে জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে এবং হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে না।

ইউরোপীয় নৌ-মিশন অ্যাসপিডিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকায় থাকা একাধিক জাহাজ ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের ভিএইচএফ বার্তা পেয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।’

ব্রিটিশ নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের এ নির্দেশ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পুরোপুরি বন্ধ না হলেও জাহাজ চলাচলে দ্রুত বিঘ্ন বাড়ছে বলে ক্লায়েন্টদের কাছে পাঠানো এক নোটে জানিয়েছে শিপব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোটেন অ্যান্ড পার্টনার্স।

ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকো বলছে, মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, উত্তর আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালিসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌচলাচল থেকে বিরত থাকতে সর্তকবার্তা দিয়েছে। একইসঙ্গে জানিয়েছে, এ এলাকায় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গ্রিসের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নৌযানকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ রুট ধরে রফতানি হয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত ও ইরানে উত্তোলিত জ্বালানি তেল। এছাড়া কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজিও এ পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক লরা পেজ জানান, অন্তত ১৪টি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি বা তার আশপাশে গতি কমিয়েছে, দিক পরিবর্তন করেছে বা থেমে গেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে, যা কাতারের এলএনজি রফতানির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

জার্মান কনটেইনার শিপিং কোম্পানি হাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব জাহাজ চলাচল স্থগিত করছে। উপসাগরীয় বন্দরে যেসব সেবা রয়েছে, সেগুলো বিলম্ব, রুট পরিবর্তন বা সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

ডেনমার্কের মায়েরস্কের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে সব কার্যক্রমে নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য গ্রহণ কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে।

ফরাসি শিপিং গ্রুপ সিএমএ সিজিএম জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর উপসাগরে থাকা বা ওই অঞ্চলের দিকে যাত্রারত জাহাজগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।