জাপানের টোকিওতে ঘুরতে গেলে একটি বিষয় অনেক পর্যটকের চোখে পড়তে পারে। শহরের রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ঝুড়ি বা ডাস্টবিন খুব বেশি নেই। ফলে বাইরে খাওয়া বা কেনাকাটার পর তৈরি হওয়া উচ্ছিষ্ট কোথায় ফেলবেন, তা নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন অনেকে। এ সমস্যার সমাধানে এবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে টোকিও মহানগর সরকার। পর্যটকদের বিনা মূল্যে দেয়া হচ্ছে ‘ফুরোশিকি’। খবর জাপান টুডে।
ফুরোশিকি জাপানের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের কাপড়। বিশেষভাবে বাঁধলে সহজেই এটি ব্যাগে পরিণত করা যায়। সেই ব্যাগে পর্যটকেরা নিজেদের ময়লা বহন করে আবাসস্থলে নিয়ে যেতে পারবেন।
জাপানে প্রকাশ্য স্থানে ডাস্টবিনের সংখ্যা নেই বললেই চলে। ১৯৯৫ সালে টোকিও পাতালরেলে সারিন গ্যাস হামলার পর নিরাপত্তার কারণে অনেক ডাস্টবিন সরিয়ে নেয়া হয়। কারণ এসব জায়গায় বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা সহজ হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। এরপর থেকেই জাপানিদের নিজেদের ময়লা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তাদের অনেকেই দেশটির এ নিয়ম সম্পর্কে জানেন না। আবর্জনা আলাদা করে ফেলার নিয়মও অনেকের অজানা। ফলে টোকিওর কিছু এলাকায় রাস্তায় ময়লা ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে চলতি বছর কয়েকটি এলাকায় আবর্জনা ফেলার বিরুদ্ধে জরিমানাও চালু করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবার নতুন প্রচারাভিযান শুরু করেছে টোকিও মহানগর সরকার। ‘টোকিও ক্লিন-আপ অ্যাকশন’ নামের এ কর্মসূচির মূল বার্তা— ‘কিপ টোকিও ক্লিন’ (টোকিওকে আবর্জনামুক্ত রাখা)। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদেরও শহর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
সাধারণত বর্গাকার আকৃতির কাপড়টি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। এটি দিয়ে জিনিসপত্র মোড়ানো, ব্যাগ তৈরি করা বা সাজসজ্জার কাজও করা হয়। বারবার ব্যবহার করা যায় বলে এটি পরিবেশবান্ধবও।















