নেপালে জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়ার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গুতেরেস জানান, তিনি নেপালের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেইসঙ্গে প্রাণহানিতে গভীরভাবে মর্মাহত। খবর দ্য হিমালয়ান।

সহিংসতার ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার আইন মেনে চলা, সংযম প্রদর্শন ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিবৃতিতে গুতেরেস আরো বলেন, বিক্ষোভ অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে হতে হবে, যেখানে জীবন ও সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় থাকবে।

মহাসচিবের এ বার্তাটির আগেই যৌথ বিবৃতি দিয়েছে নেপালস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়। সে বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ—এগুলো নেপালি ও আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়কেই সহিংসতা থেকে বিরত থাকার এবং প্রতিক্রিয়া যথোপযুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ।

সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সোমবার রাজপথে নামে আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের সিংহভাগই বয়সে তরুণ, যারা ‘জেনারেশন-জেড’ বা ‘জেন-জি’ প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত। আন্দোলন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহত হয় ১৯ জন। আহত হয় আরো কয়েকশ বিক্ষোভকারী। গতকাল সকালেও নিহত হয় দুজন। পরিস্থিতি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে পতন হয় অলি সরকারের। শুধু প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নন, মন্ত্রিসভার আরো কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী রামনাথ অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রদীপ পাউডেল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির ২১ জন সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক পার্টির সব সংসদ সদস্য দলগতভাবে পদত্যাগ করেছেন। ফলে কার্যত প্রশাসকবিহীন হয়ে পড়েছে নেপাল।

গতকাল সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি অবকাঠামো, গণমাধ্যম, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রধান কার্যালয় সিংহদরবারে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এখানে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর অবস্থিত। এছাড়া দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এদিকে, জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ ঘিরে বাড়তে থাকা অস্থিরতার জেরে নেপালি সেনাবাহিনী দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা ও কারফিউ জারি করেছে।