ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সাংহাই র্যাংকিংয়ের ‘২০২৫ গ্লোবাল র্যাংকিং অব একাডেমিক সাবজেক্টস’-এর পাবলিক হেলথ শিক্ষায় বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৫৭টি বিষয়কে এ র্যাংকিংয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ন্যাচারাল সায়েন্স, লাইফ সায়েন্স, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল শিক্ষা। জনস্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে ৯৫ দশমিক ৯ স্কোর নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ এ র্যাংকিংয়ের ৩০১-৪০০তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশ্বমানের পাঠদান, শক্তিশালী গবেষণা কার্যক্রম এবং বিশ্বের অনেক স্বনাধমন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এ অর্জনে মূল ভূমিকা রেখেছে। এ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ছাড়াও জায়গা পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪০১-৫০০তম অবস্থানে রয়েছে।
সাংহাই র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নয়টি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। এ সূচকগুলো হলো বিশ্বমানের শিক্ষক, বিশ্বমানের গবেষণা, গবেষণার গুণগত মান, গবেষণার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন। ফলপ্রসূ গবেষণা ক্যাটাগরিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিশ্বের অন্যতম সেরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জায়গা করে নিয়েছে।

ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা এবং নীতিনির্ভর জনস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা করে আসছে। এসব গবেষণা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিভিন্ন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশেও পরিচালিত হচ্ছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা ও মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোকে কীভাবে বৈশ্বিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়, সে কাজটাই ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছে ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ।
ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) ডিগ্রি কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমানে এ শিক্ষা কার্যক্রমটি একটি গ্লোবাল ক্লাসরুম বা বৈশ্বিক শ্রেণীকক্ষে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে আসছেন। এ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও বলিভিয়া; ইউরোপের যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি এবং এশিয়া মহাদেশের আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ইয়েমেন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো রয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও ফিজি এবং আফ্রিকা মহাদেশের সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, মালাউই, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের মতো অসংখ্য দেশের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির এ মেলবন্ধন জনস্বাস্থ্য গবেষণায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচের ডেপুটি ডিন অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে শীর্ষ অবস্থান এবং বিশ্বে শীর্ষ ৪০০-তে জায়গা পাওয়ায় অত্যন্ত গর্বিত। এ সফলতা আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ আমাদের পার্টনারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা জনস্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়নে অক্লান্ত কাজ করছি। এ সফলতা জনস্বাস্থ্য বিষয়ে নেতৃত্ব তৈরি এবং প্রমাণভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনে আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আরো দৃঢ় করেছে।’
ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচের প্রতিষ্ঠাতা ডিন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর মোশতাক চৌধুরী বলেন, ‘এ অর্জন আমাদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য গবেষণার স্বীকৃতি।’
সাবেক ডিন অধ্যাপক সাবিনা ফয়েজ রশিদ বলেন, ‘আমাদের পাবলিক হেলথ স্কুলের অসাধারণ সহকর্মীদের অভিনন্দন। আমাদের গবেষণা বাস্তবধর্মী, সূক্ষ্ম এবং জনকল্যাণমুখী; আর এ র্যাংকিং মূলত আমাদের কাজের প্রভাবেরই প্রতিফলন।’
ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচের ডিন ড. লরা রাইকেনবাখ বলেন, ‘সাংহাই র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সেরা পাবলিক হেলথ স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা একে কেবল অতীতের অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখি না, বরং ভবিষ্যতে প্রভাব বিস্তারী গবেষণা, উদ্ভাবনী শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক দায়িত্ব হিসেবে মনে করি। আমাদের ফ্যাকাল্টি, গবেষক ও কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সমর্থন ছাড়া এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না।’










