পতিত শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ না বলে সরাসরি ‘মাফিয়া রেজিম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ডা. জাহেদ উর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,‘আগের মাফিয়া শাসনব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট বলছি না। এটি ছিল সরাসরি একটি মাফিয়া শাসনব্যবস্থা।’

অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকারের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ প্রসঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, গণমাধ্যম ও তথ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে "একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের জন্য মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি স্কিলস" শীর্ষক এক সেমিনার ও বিশেষ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনেস্কো ঢাকা অফিস এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের নির্বাচনী প্রকল্প 'ব্যালট'-এর -এর যৌথ সহযোগিতায় বিশ্ব মিডিয়া ও তথ্য সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬-এর দেশব্যাপী উদযাপনের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর আইনি ও অন্যান্য কাঠামো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত ও সত্যতা যাচাই করতে জানতে হবে। শুধু সচেতনতামূলক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; মানুষ প্রকৃত তথ্য জানতে আগ্রহী কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পোস্ট-ট্রুথ যুগে মানুষ অনেক সময় সঠিক তথ্যের পরিবর্তে নিজের পছন্দের তথ্য পেতে বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘সত্য সব সময় স্বস্তিদায়ক হয় না, কখনো তা অপ্রিয় বা অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু সত্য জানতে চাইলে সেটি গ্রহণ করতে হবে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রবণতাকে ‘ইকো চেম্বার’ ধারণার সঙ্গে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ এমন তথ্যের পরিসরে আটকে যাচ্ছে, যেখানে নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যই বারবার সামনে আসে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে ভিন্নমত ও প্রকৃত তথ্য গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করা জরুরি।

অপতথ্য শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে এর বিস্তার আরো প্রকট হয়। বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, অধ্যাপক ড. এম আশিক মোসাদ্দিক, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ড. সুসান ভাইজ এবং জাতিসংঘের নির্বাচনী প্রকল্প 'ব্যালট' বাংলাদেশের প্রতিনিধি, আন্দ্রেস দেল কাস্তিলো সানচেজ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন, অধ্যাপক ড. দিলারা বেগম। প্রবন্ধ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক। সেমিনার শেষে সপ্তাহব্যাপী মিডিয়া লিটারেসি কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।