আগামী ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রাঙ্গণ হতে যাচ্ছে একটি বৈশ্বিক বুদ্ধিবৃত্তিক মিলন কেন্দ্র। ‘প্ল্যানেট ল্যাংলিট ২০২৬’ নামের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন নিয়ে একত্র হবেন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, স্পেন, মিসর ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ও চিন্তাবিদরা।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শীতকাল সাধারণত উৎসব, মেলা কিংবা সংগীতানুষ্ঠানের সময়। কিন্তু প্ল্যানেট ল্যাংলিট সেই পরিচিত ছকের বাইরে দাঁড়িয়ে এক ভিন্ন সাংস্কৃতিক মুহূর্তের জন্ম দিতে চলেছে, যেখানে বিনোদনের পরিবর্তে কেন্দ্রে থাকবে ভাবনা, সংলাপ ও নৈতিক অনুসন্ধান। গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগ আয়োজিত এ সম্মেলন মানববিদ্যাকে কেবল পাঠ্য বিষয় হিসেবে নয়, বরং সমকালীন সংকট মোকাবেলার এক জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে।
সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরাসরি উপস্থিতি ও একই সঙ্গে অনলাইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এর ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চিন্তাবিদদের সঙ্গে। এ দুইদিনে গ্রিন ইউনিভার্সিটির শ্রেণীকক্ষ ও মিলনায়তনগুলো হতে চলেছে আন্তঃদেশীয় ও আন্তঃপ্রজন্মের আলাপচারিতার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এ সম্মেলনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তকদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শায়লা সুলতানা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসাদ মোর্তুজা। তাদের অংশগ্রহণ সম্মেলনটিকে দেশের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত করবে।
আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্গান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, যার গবেষণায় প্রবাস, সংস্কৃতি ও সাহিত্য একসূত্রে যুক্ত। ভারতের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব হরিয়ানার অধ্যাপক ড. তনু গুপ্ত, যিনি পোস্টকলোনিয়াল ও তুলনামূলক সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। থাকছেন স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব আলকালার অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিসকো সায়েজ দে আদানা, যিনি বৈশ্বিক সাহিত্যতত্ত্বে পরিচিত নাম।
এ বৈশ্বিক সংলাপ আরো বিস্তৃত হতে চলেছে মিসরের আল-আজহার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহলাম ওসমান এবং অস্ট্রেলিয়ার দি ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ওবায়দুল হামিদের অংশগ্রহণে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাহিত্য প্রকাশনা ও সম্পাদকীয় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ড. সুমেধা ভাণ্ডারী সম্মেলনে যুক্ত করবেন জ্ঞান উৎপাদন ও বৈশ্বিক একাডেমিক প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।
প্ল্যানেট ল্যাংলিট ২০২৬-এর মূল ভাবনা গভীরভাবে প্রোথিত বর্তমান সময়ের সংকটের ভেতর। এখানে সাহিত্যকে নিছক নান্দনিক অনুশীলন হিসেবে নয়, বরং পরিবেশ, শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও মানবিক ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। আলোচনাগুলো ছড়িয়ে পড়বে উপনিবেশ-পরবর্তী প্রতিরোধ ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি থেকে শুরু করে পরিবেশগত মানববিদ্যা, ভাষাগত অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রশ্ন পর্যন্ত।
মূল বক্তৃতা ও প্যানেল আলোচনায় থাকবে জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে গল্প ও সাহিত্য কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, ভাষা কীভাবে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নির্ধারণ করে এবং সাহিত্য কীভাবে সংকটকালে মানবসমাজের নৈতিক দলিল হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও জলবায়ু ঝুঁকির বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এসব আলোচনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।










