নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন
রিদাহ্ ফায়সাল
বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ
সিজিপিএ ৪.০০
সমাবর্তনে স্বর্ণপদক পাওয়া এবং ভ্যালিডিক্টোরিয়ান স্পিচ দেয়ার গৌরব অর্জন করায় আমি আনন্দিত। আল্লাহর অশেষ রহমতে এ প্রাপ্তি আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি ঘটনা। এ অর্জনের পেছনে ছিল আমার নিরন্তর পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল আস্থা। সাফল্যের এ পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। আমি এক উচ্চ-মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারে বড় হয়েছি, যেখানে শাসনের চেয়ে ভালোবাসাই ছিল বেশি। গুলশানের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ও এবং এ লেভেল শেষ করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। করোনা মহামারীর কারণে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হলেও অফলাইনে ক্লাস শুরুর পর প্রথম দুই সেমিস্টারেই সিজিপিএ ৪.০০ এবং শতভাগ স্কলারশিপ আমার আত্মবিশ্বাস বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ২০২২ সাল। সেমিস্টার ফাইনালের ঠিক আগে বাবা হার্ট অ্যাটাক করেন এবং তার বাইপাস সার্জারি হয়। পারিবারিক অস্থিরতা আর ছোট বোনের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে চরম মানসিক চাপের সেই সময়ে আমার মা ছিলেন একমাত্র অনুপ্রেরণা। মা বলেছিলেন স্কলারশিপের দরকার নেই, শুধু সেমিস্টার যেন ড্রপ না হয়। আমি নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই সেমিস্টারেও সিজিপিএ ৪.০০ ধরে রাখি। এছাড়া একবার ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় পরীক্ষা দেয়াও ছিল এক বড় পরীক্ষা।
আমি কখনই সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকতাম না। কখনো পরীক্ষার আগের রাত জেগে পড়েছি, আবার কখনো পড়া শেষ করে পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা মুভি দেখা আমার খুব পছন্দের। আমার এ সাফল্যে বাবা-মা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বন্ধুদের অবদান অপরিসীম। বর্তমানে আমি একটি বিদেশী কোম্পানিতে কর্মরত আছি। যারা ভালো ফল করতে চায়, তাদের উদ্দেশে আমার পরামর্শ হলো—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং নিয়ম মেনে চলা। ভালো ফলের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে একজন ভালো মানুষ হওয়াও জরুরি। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজ ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার কাছে আমি দোয়াপ্রার্থী।
অর্জনের প্রধান চাবিকাঠি ছিল পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা
মোহাম্মদ শাওকি আফতাব
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
সিজিপিএ ৪.০০
সাধারণত উৎসব-অনুষ্ঠান খুব একটা টানে না আমাকে, তবে কনভোকেশনের দিনটি ছিল ব্যতিক্রম। চূড়ান্ত ফল আর সমাবর্তনের সেই মুহূর্তগুলো আমাকে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি আনন্দ দিয়েছে। আমার এ অসামান্য অর্জনের প্রধান চাবিকাঠি ছিল পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা। আমি একটি কঠোর রুটিন মেনে চলতাম এবং সপ্তাহের পড়া সপ্তাহেই শেষ করে রাখতাম, যাতে পরীক্ষার আগে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে না হয়। এছাড়া দ্বিতীয় বর্ষ থেকে কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং চর্চা শুরু করি, যা আমার সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সাফল্যের এ পথচলায় পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। ছোট বাসা হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাকে আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল এবং ঘরের কাজ থেকে মুক্তি দিয়েছিল, যাতে আমি পুরোপুরি পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারি। এমনকি বন্ধুদের নোট দেয়া বা প্রবলেম সলভ করে দিতে গিয়েই আমার নিজের বেসিক আরো পরিষ্কার হয়েছে।
ব্যক্তিত্ব গঠনে আমার স্কুলের বন্ধু প্রাপনের প্রভাব অনেক। ওর বড় স্বপ্ন দেখা আর সত্য কথা বলার গুণ আমাকে অনুপ্রাণিত করত। শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার চাপে অনেক সময় বার্নআউট চলে আসত। আমি এ চাপকে বোঝা মনে না করে এক ধরনের পাজল হিসেবে দেখতাম। যখন মনে হতো আর পারছি না, তখন জোর করে না পড়ে দুই-তিনদিনের বিরতি নিতাম। রুটিন এমনভাবে সাজাতাম যেন সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের জন্য ফ্রি থাকে।
যারা ভালো ফল করতে চায়, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো—পড়াশোনার প্রতি লেগে থাকুন এবং বিষয়টিকে উপভোগ করুন। মনে রাখবেন, কেবল সিজিপিএ-ই সব নয়; এর পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা ও ক্রিটিক্যাল থিংকিং অর্জন করা সমান জরুরি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া এবং এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্যারিয়ারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া।










