এ তীব্র তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় খেটে খাওয়া মানুষ, বয়স্ক নাগরিক, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা। ঠিক এ বাস্তব ছবিটাই চোখের সামনে রেখে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী আসমা-উল হুসনা ভাবতে শুরু করেন—কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষকে এ গরমের সময় একটু নিরাপদ রাখা যায়। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় তার প্রকল্প ‘বন্ধুগাইব: নগরের জন্য এক ডিজিটাল বন্ধু’। এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগই আসমাকে এনে দেয় বড় সাফল্য।

‘কল ফর আইডিয়াস—জলবায়ু সহনশীল নগর উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় মোট ৯০৩টি ধারণা জমা পড়ে। একাধিক ধাপে মূল্যায়নের পর এর মধ্য থেকে ৩৬টি ধারণা উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়। পরে চার ধাপের কঠোর মূল্যায়ন শেষে মাত্র ১২টি ধারণা পুরস্কার লাভ করে, যার একটি আসমার ‘বন্ধুগাইব’।

এ প্রকল্পটি নির্বাচিত হয় ‘চরম তাপপ্রবাহের সময় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা’ শীর্ষক চ্যালেঞ্জে, যা গাইবান্ধা পৌরসভা কেন্দ্রিক সমস্যার সমাধানকে সামনে রেখে নির্ধারিত ছিল। ‘বন্ধুগাইব’ মূলত গাইবান্ধার নগরবাসীর জন্য তৈরি একটি ডিজিটাল সহায়তা ধারণা। প্রচণ্ড গরমের সময় কী করণীয়, কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কীভাবে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখা যায়—এ তথ্যগুলো সহজ ও বোধগম্য ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই এর প্রধান লক্ষ্য। বিশেষভাবে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রকল্পটির নকশা করা হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।

এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইনোভেশনস ফর ক্লাইমেট–স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (ইনক্লুড) প্রকল্প। এটি বাস্তবায়ন করছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এবং অর্থায়ন করছে জার্মান সরকারের ফেডারেল মন্ত্রণালয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আসমা-উল হুসনা বলেন, এ উদ্যোগটি সত্যিই খুবই প্রশংসনীয় ও কার্যকর। যেসব এলাকায় এ ধারণাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, সেখানকার জনগোষ্ঠীর উন্নতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তরুণদের ও সাধারণ মানুষকে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে, নতুন ধারণা নিয়ে ভাবতে এবং এমন সমাধান দিতে উৎসাহিত করবে, যা ভবিষ্যতে তাদের কাজে আসবে। এ প্রকল্পের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। অনেক ভিন্ন চিন্তাধারার মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, যদিও শুরুতে আমার মনে হয়েছিল আমি হয়তো বিজয়ী হতে পারব না। আলহামদুলিল্লাহ, আমি বিজয়ীর পুরস্কার পেয়েছি। পুরো অভিজ্ঞতাটাই ছিল অসাধারণ ও মনে রাখার মতো।