কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। শেকড়ের প্রতি টান, সৃজনশীল ক্যারিয়ার গড়ার তাগিদ এবং ভাষাপ্রেম থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন অসংখ্য তরুণ-তরুণী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (অনার্স) এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি।
আধুনিক ও যুগোপযোগী সিলেবাসের জন্য ইউল্যাব বেশ সমাদৃত। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথাগত সাহিত্যের পাশাপাশি সৃজনশীল লেখালেখি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটাতে এ প্রতিষ্ঠানটি চমৎকার কাজ করছে। মানবিক অনুষদের জন্য ইউডার আলাদা একটি পরিচিতি রয়েছে। এখানে বাংলা বিভাগে বিএ (অনার্স) এবং এমএ পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরুতেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অনুমোদন নেয়। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ইউডার বাংলা বিভাগ ব্যতিক্রমধর্মী। এখানকার বাংলা বিভাগে বাংলা ও ইংরেজি ফাউন্ডেশন কোর্সের পাশাপাশি কম্পিউটার বিজ্ঞান, চিত্রকলা, ভাষাবিজ্ঞান, ইংরেজি সাহিত্য, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ের ওপর রয়েছে বাধ্যতামূলক ও ঐচ্ছিক কোর্স।
রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বাংলা বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামে পাঠদান করা হচ্ছে। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ঢাকার বাইরে উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি পর্যায়ে রাজশাহী শহরের নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য বিভাগে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কেবল ভাষা শিখছি না, আমরা আমাদের সংস্কৃতি ও মনস্তত্ত্বকে বুঝতে শিখছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবিধা হলো আমরা সাহিত্যের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও বিপণন সম্পর্কেও ধারণা পাচ্ছি, যা ক্যারিয়ারে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।”










