সেই স্বপ্ন আর সংগ্রামের ফসল হিসেবে আজ তিনি ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধাক্রমে ৭০তম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আল-মামুনের বিসিএস স্বপ্নের পেছনে বড় কারিগর তার কাকা, যিনি নিজেও একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। কাকার মুখে জনসেবা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযানের গল্প শুনে ছোটবেলা থেকেই তার মনে প্রশাসনে যোগ দেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর অর্থনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও বেসরকারি চাকরির মোহ ত্যাগ করে তিনি বিসিএস প্রস্তুতির কঠিন পথ বেছে নেন।

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হয়েও তিনি হাল ছাড়েননি। বিশেষ করে তার মায়ের স্বপ্ন এবং বন্ধুদের ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ বলে ডাকা তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করত।

ভাইভা বোর্ডে তার আত্মবিশ্বাসের মূল শক্তি ছিল আল্লাহর ওপর আস্থা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও কেন ক্যাডার হতে চান—এমন চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নের উত্তর তিনি দেন অত্যন্ত যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। করোনার সময় গ্রামে ‘আধুনিক পাঠাগার’ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার অভিজ্ঞতা তার জনসেবার মানসিকতাকে আরো দৃঢ় করে।

ভবিষ্যতে একজন সৎ ও জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে সরকারের সচিব হওয়ার স্বপ্ন দেখেন আল-মামুন। তার বিশেষ লক্ষ্য গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখা।