আর্টের ইতিহাসে খুব কম শিল্পীর নামই ক্লদ মনেঁর মতো প্রতীতি তৈরি করে। মূলত তার নাম বললেই চিত্রকর্ম ও তার একটা ধারা চোখের সামনে আসে। নদী, বাগান, ফুল ও ফসলের মাঠ এঁকেছেন তিনি। তার চিত্রকর্ম দিয়ে ইমপ্রেশনিস্ট আন্দোলনকে সংজ্ঞায়িত করা যায়। তার কাছাকাছি সময়েই ইমপ্রেশনিস্ট ঘরানার চিত্রকর্মে এগিয়ে ছিলেন তারই সৎকন্যা ব্ল্যানচ হোশিড-মনেঁ। বাবার পরিচিতি নয়, ব্ল্যানচ বিখ্যাত হয়েছিলেন নিজের প্রতিভায়। নিজের সময়েই তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার ভাই জ্যঁ-পিয়ের হোশিডের ভাষায়, ক্লদ মনেঁর ছায়ায় নয়, ব্ল্যানচ তার আলো পেয়েছিলেন। এরপর অনেকদিন আলোচনার বাইরে থাকলেও ব্ল্যানচকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
ব্ল্যানচ হোশিডের ৩০০ চিত্রকর্মের মধ্যে অনেকগুলোই ছিল ব্যক্তিমালিকানায়। ইমপ্রেশনিস্টদের বেশির ভাগ চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে দ্য ম্যুজে ডিওরসেতে। কিন্তু সেখানে ব্র্যানচের মাত্র দুটো চিত্রকর্মই আছে। এর কোনোটিই প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত নয়। আমেরিকান পাবলিক কালেকশনে আছে কেবল একটি। ব্রিটিশ পাবলিক কালেকশনে একটিও নেই। নতুন করে তাকে নিয়ে কাজ হচ্ছে। ম্যুজে ব্ল্যানচ হোশিড-মনেঁ বাদেও ফ্রান্সের ভারননে একটি স্থানীয় জাদুঘর ব্ল্যানচের নামে নামকরণের মাধ্যমে তাকে সম্মান জানানো হয়েছে।

এর চেয়েও বড় একটি ব্যাপার করছে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি। সেখানে এসকেনাজি মিউজিয়াম অব আর্টে ‘ব্ল্যানচ হোশিড-মনেঁ ইন দ্য লাইট’ নামে যুক্তরাষ্ট্রে ব্ল্যানচ হোশিড-মনেঁর একটি একক প্রদর্শনী আয়োজন করছে। এ বিষয়ে জাদুঘরের একজন কিউরেটর হলি পিয়ার্স বলেন, ‘ইমপ্রেশনিজম নিয়ে অনেক কথা ও প্রশংসা হলেও ব্ল্যানচ হোশিড-মনেঁকে নিয়ে কথা কম হয়। আমি আশা করি এ প্রদর্শনীতে হোশিডের আঁকা ও তার সময়ের শিল্পকে ছড়িয়ে নিতে অবদান রাখবে।’
হোশিড-মনেঁ ১৮৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন প্যারিসের একজন বড় ব্যবসায়ী। একসময় হোশিডই ক্লদ মনেঁর ‘ইমপ্রেশন, সানরাইজ’ (১৮৭২) ছবিটি কিনে নেন। এ ছবির নাম থেকেই ইমপ্রেশনিজমের নাম এসেছিল।
জীবনের একটা সময়, প্রায় তিন বছর হোশিড তার সৎবাবার কাছ থেকে চিত্রকলার শিক্ষা নেন। কিটন এভান্স ব্ল্যাক নামে একজন আর্ট থেরাপিস্ট বলেন, ‘ক্লদ ও হোশিড একই এলাকায় গিয়ে একই সময়ে ছবি এঁকেছেন। এছাড়া ক্লদ মনেঁর ইজেল ও ক্যানভাস বয়ে নিতেন হোশিড।’
কিন্তু চিত্রকর্মের ধারা ও অ্যাসথেটিকসে ক্লদ মনেঁর প্রভাব থাকলেও হোশিডের চিত্র নিজস্বতা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করেছে। মনেঁর বিখ্যাত ছবি ‘হেস্ট্যাক’ হোশিড এঁকেছেন নিজের মতো করে। এমন আরো অনেক ছবি আছে যাতে হোশিডের নিজস্বতার ছাপ আছে।
হোশিড দীর্ঘ সময় ক্লদ মনেঁর সঙ্গে ছিলেন। গবেষকরা বলেন, হোশিড না থাকলে ক্লদ মনেঁর একাকিত্ব বাড়ত। তিনি সেখান থেকে মনেঁকে উদ্ধার করেছিলেন। সেই সঙ্গে দুজনেই হয়ে উঠেছিলেন ইমপ্রেশনিজমের দুই চিত্রকর।










