সৌদি আরবে নিজেদের উপস্থিতি আরো জোরদার করছে সদবি’জ। চলতি মাসের শেষ দিকে দেশটিতে তারা দ্বিতীয়বারের মতো নিলাম আয়োজন করতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নতুন আর্ট বাসেল কাতার ফেয়ারের আগেই এটি আয়োজন করা হচ্ছে। তাই তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। এতে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে অনিশ কাপুর, অ্যান্ডি ওয়ারহল এবং বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শিল্পীর কাজ, যার মধ্যে সৌদি আরবের সাফেয়া বিনজাগরের কাজও অন্তর্ভুক্ত। তবে এ আয়োজনের আগেই আলোচনায় এসে গেছে সাফেয়া ও পাবলো পিকাসোর কাজ।
কার্ডবোর্ডে আঁকা পিকাসোর শেষ দিকের একটি চিত্রকর্ম, ‘পেইসেজ’-এর (১৯৬৫) মূল্য ধরা হয়েছে ২০-৩০ লাখ ডলার। চিত্রটিতে ফরাসি উপকূলের প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। মূলত ছবিতে উপস্থাপিত স্থানটি মুজাঁ গ্রামের আশপাশে অবস্থিত। মুজাঁয় শিল্পীজীবনের শেষ বছরগুলো পিকাসো তার শেষ স্ত্রী জ্যাকলিন রোকের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন।
রিয়াদের বাইরে দিরিয়াহ শহরে অনুষ্ঠিতব্য এ নিলামে ৭০টিরও বেশি শিল্পকর্ম ও বস্তু একত্র করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকছে প্রাচীন ভাস্কর্য, বিংশ শতাব্দীর নকশা ও প্রিন্ট, মধ্যপ্রাচ্যের শিল্প, আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকর্ম, লাতিন আমেরিকান শিল্প এবং আধুনিক ও সমকালীন দক্ষিণ এশীয় শিল্প।

পিকাসোর ছবির পাশাপাশি অনিশ কাপুরের নামহীন অবতল আয়নার ভাস্কর্যও নিলামে উঠবে। ২০০৫ সালে তৈরি ভাস্কর্যটির আনুমানিক মূল্য ৬-৮ লাখ ডলার। পাশাপাশি থাকছে অ্যান্ডি ওয়ারহলের ডিসকোয়েটিং মিউজেস (১৯৮২) ছবিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৮ থেকে ১২ লাখ ডলার। ১৯৭৮ সালে নির্মিত মুহাম্মদ আলির চারটি স্ক্রিনপ্রিন্টের সম্পূর্ণ সেটের সম্ভাব্য মূল্য ৩-৫ লাখ ডলার।
সাফেয়া বেনজাগরের ১৯৬৮ সালের ‘কফি শপ ইন মদিনা রোড’ ছবিটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলার। ছবিটিকে ‘সমকালীন সৌদি শিল্পের আধ্যাত্মিক জননী’ বলা হয়। এটি আলবার্তো মেস্তাস গার্সিয়ার সংগ্রহ থেকে নিলামে আনা হচ্ছে (তিনি অক্টোবর ১৯৬৬ থেকে মে ১৯৭৬ পর্যন্ত সৌদি আরবে স্পেনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন; তার স্ত্রী মার্সেদেস সুয়ারেজ দে তাংহিল গুসমানও এ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত)।
আরেক গুরুত্বপূর্ণ সৌদি শিল্পী মোহাম্মদ আল সেলিমের নামহীন একটি কাজও থাকছে। ১৯৮৯ সালে তৈরি শিল্পকর্মটির আনুমানিক মূল্য দেড় থেকে ২ লাখ ডলার ধরা হয়েছে। ‘হরাইজনিজম’-এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ—একটি বিমূর্ত শৈলী, যা রিয়াদের পরিবর্তনশীল বালির প্রেরণায় গড়ে উঠেছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘অরিজিনস সেল’-এ সদবি’জ জানায়, ২৫০ আসনের একটি উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত নিলামে আসন সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ ছিল। এতে ৪৫টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিক্রির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। লট অনুযায়ী বিক্রির হার ছিল ৬৭ শতাংশ এবং মূল্য অনুযায়ী ৭৪ শতাংশ। ক্রেতাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন সৌদি আরবের।
সেই বিক্রিতে জমা দেয়া আইটেমগুলোর অর্ধেক ছিল শিল্পকর্ম। এক-চতুর্থাংশ ছিল ঘড়ি ও গহনা। এছাড়া ছিল ১৭টি ডিজাইনের হ্যান্ডব্যাগ ও কিছু ক্রীড়া স্মারক। তবে আসন্ন এ নিলামে বিলাসবহুল পণ্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত।
এ নিলাম বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংগ্রাহক মোহাম্মদ আফখামি দি আর্ট নিউজপেপারকে বলেন, ‘আমি গত বছর উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে মনে হয় সদবি’জ ভবিষ্যতে সংগ্রহযোগ্য বিলাসবহুল জিনিসপত্রকে শিল্পকর্ম থেকে আলাদা করবে। কারণ সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সংগ্রাহকদের গভীরতা ও বৈচিত্র্য বাড়ছে।’
এ নিলামের সার্বিক পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে সৌদি এখন শিল্পকর্ম বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আর নিলামঘরটি (সদবি’জ) সৌদি আরবে ধীরে ধীরে শেকড় গেড়ে বসছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে সদবি’জ রিয়াদের আল ফয়সালিয়াহ টাওয়ারে একটি নতুন অফিস খুলেছে এবং সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি রিয়াদে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী কালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্সের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।










