ক্যানভাস ও ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে শিল্প কীভাবে স্থান-কালের সীমানা পেরিয়ে সর্বজনীন হয়ে ওঠে, তারই এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হলো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায়। শ্রীলংকা ও দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলার বিস্তার, সংরক্ষণ ও গবেষণাকে বেগবান করতে সেখানকার ফিনিক্স আর্ট মিউজিয়াম পেয়েছে ৫০ লাখ ডলারের অনুদান। অ্যারিজোনাভিত্তিক সমাজসেবক, চিকিৎসক ও বায়োটেকনোলজি নির্বাহী ড. সুকুমার নাগেন্দ্রন এ বিপুল অর্থায়ন করেছেন। তার প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রীলংকার শিল্প-ইতিহাস পশ্চিমা বিশ্বে আরো স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হবে। সেই সঙ্গে প্রাচ্যের নান্দনিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
এ অনুদানে ফিনিক্স আর্ট মিউজিয়ামের ‘আর্ট অব এশিয়া’ গ্যালারিটি পুনর্গঠন করে ছয় হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার বর্গফুট করা হচ্ছে। এর ভেতরেই গড়ে উঠবে দুই হাজার বর্গফুটের এক নতুন প্রদর্শনী কক্ষ, দাতার প্রতি সম্মান জানিয়ে যার নাম রাখা হচ্ছে ‘নাগেন্দ্রন গ্যালারি ফর দি আর্ট অব শ্রীলংকা অ্যান্ড সাউথ এশিয়া’। যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পাশাপাশি আত্মপ্রকাশ করছে ফিনিক্স শহর। এরই ধারাবাহিকতায় ফিনিক্স আর্ট মিউজিয়ামে ২১ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় চার হাজারই এশীয় শিল্পীদের তৈরি। নতুন এ গ্যালারি যুক্ত হওয়ায় মিউজিয়ামটির এশীয় সংগ্রহ আরো সমৃদ্ধ হবে।
মিউজিয়ামের পরিচালক জেরেমি মিকোলাজক্যাক বলেন, ‘ফিনিক্স দ্রুত বিকশিত ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত একটি শহর। এশীয় ও এশীয়-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বিস্তারের সঙ্গে শহরটির সাংস্কৃতিক পরিচয়ও বদলাচ্ছে। প্রচলিত শিল্প কেন্দ্রের বাইরে ফিনিক্সকে গবেষণা, শিল্পীদের ভাববিনিময় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে নাগেন্দ্রনের এ অনুদান।’
শ্রীলংকার জনপ্রিয় সমকালীন শিল্পী পালা পথুপিতিয়ের একক প্রদর্শনী দিয়ে আগামী নভেম্বরে যাত্রা করতে যাচ্ছে নতুন এ গ্যালারি। ‘ম্যাপিং আ শ্রীলংকান কনশাসনেস’ শীর্ষক প্রদর্শনীটির কিউরেশন করবেন তুশারা বিন্দু গুডে। এতে ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষত, সামাজিক জাতপ্রথা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকশিল্পের নানা রূপকের মধ্য দিয়ে শ্রীলংকার সামাজিক চেতনার রূপরেখা ফুটিয়ে তোলা হবে। প্রদর্শনীতে পথুপিতিয়ের তৈরি ভাস্কর্য, পেইন্টিং ও রূপান্তরিত মানচিত্রের পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে মিউজিয়ামের নিজস্ব সংগ্রহে থাকা শ্রীলংকার ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম। এর মধ্যে থাকবে তালপাতার পাণ্ডুলিপি, বুদ্ধমূর্তি ও বিংশ শতাব্দীর সংগ্রাহক কুইন্টাস ফার্নান্দোর তোলা নান্দনিক আলোকচিত্র।
ড. সুকুমার নাগেন্দ্রনের এ বিপুল অনুদানের পেছনে রয়েছে এক দশকেরও বেশি সময়ের শিল্প-অনুরাগ। শিল্প সংগ্রাহক কোলিন ও ব্যারি ফার্নান্দো দম্পতির মাধ্যমে এ জাদুঘরের সঙ্গে তার পরিচয়। ফার্নান্দো দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সংগৃহীত শতাধিক দুর্লভ শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে মিউজিয়ামটির দক্ষিণ এশীয় শিল্পভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেই পথ ধরেই এবার অ্যারিজোনার মরুভূমির বুকে এক চিলতে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পের এক নিরবচ্ছিন্ন সুর ধ্বনিত হতে যাচ্ছে।
দি আর্ট নিউজপেপার অবলম্বনে শামীমা ইসলাম










