ফ্রিদা কাহলো এক নামে পরিচিত। তিনি মেক্সিকান চিত্রশিল্পী। ফ্রিদার বিখ্যাত ছবি ‘এল সুয়েনো (লা কামা)’, ইংরেজিতে দ্য ড্রিম (দ্য বেড) ঘিরে বেশ আলোচনা চলছে শিল্পজগতে। আগামীকাল নিউইয়র্কে এটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে নিলামঘর সদবি’জ। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী এর দাম উঠতে পারে প্রায় ৪ থেকে ৬ কোটি ডলারে। যদি তা হয়, তবে এটিই হবে কোনো নারী বা লাতিন আমেরিকান শিল্পীর আঁকা সবচেয়ে দামি ছবি।
ফ্রিদার আঁকা ছবিটি যেন স্বপ্ন ও মৃত্যুর মিশ্র এক পৃথিবী! তিনি এটি আঁকেন ১৯৪০ সালে, যখন প্যারিস সফরে গিয়ে সুররিয়ালিস্ট (স্বপ্ন ও অবচেতন মনকে কেন্দ্র করে গড়া শিল্পধারা) শিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত হন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিছানার ওপর ঘুমন্ত ফ্রিদা। আর ঠিক মাথার ওপরে অন্য একটি স্তরে শোয়ানো অবস্থায় রাখা এক কঙ্কাল অবয়ব—ঠিক যেন মৃত্যুর ছায়া! অনেকে ভেবেছিলেন এটি ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের কঙ্কাল। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এটি আসলে এক ‘জুদাস’ পুতুল, যা মেক্সিকোর একধরনের কাগজের মূর্তি। সাধারণত এটি ইস্টারের সময় আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুভশক্তির জয় আর পাপের দহনকেই বোঝানো হয়।
মেক্সিকান শিল্প ইতিহাসবিদ হেলেনা চাভেজ মাক গ্রেগর বলেন, ‘মৃত্যুর অপেক্ষায় বিছানায় অনেক সময় কাটিয়েছেন কাহলো। নানা অসুস্থতা আর শারীরিক কষ্টের কারণে তার জীবন ছিল বেশ জটিল।’
ছবিটির কঙ্কাল অবয়বের গায়ে জড়ানো আতশবাজি আর পাঁজরে পরানো ফুল। দেখে মনে হবে এর মুখে হাসির ভঙ্গিমা, যার নকশার ধারণা এসেছে একটি কাগজের কঙ্কাল পুতুল থেকে। কাহলো নিজের বিছানার ওপরের স্তরে সত্যিই এ রকম পুতুল ঝুলিয়ে রাখতেন।
ছবিটি সুররিয়ালিস্ট শিল্পীদের কাজের সঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে। নিলামের আগে এটি লন্ডন, আবুধাবি, হংকং ও প্যারিসে প্রদর্শিত হয়েছে। সেখানে সালভাদর দালি, রেনে মাগ্রিত, ম্যাক্স আর্নস্ট ও ডোরোথিয়া ট্যানিংয়ের মতো বিখ্যাত শিল্পীর ছবিও আছে।
এল সুয়েনোর একটি রূপক অর্থও দাঁড় করানো হয়। আর তা হলো বিছানায় শুয়ে থাকা ফ্রিদা যেন নিজের জীবনের যন্ত্রণাকে মৃদু হাসিতে গ্রহণ করছেন। আকাশে ভাসতে থাকা সেই বিছানা, লতাপাতায় জড়ানো শরীর—সবই যেন জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর মেলবন্ধনের গল্প।
নব্বইয়ের দশকের পর ছবিটি আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এখন আবার নিলামে উঠছে সেটি। বিক্রি হয়ে গেলে হয়তো কোনো ধনী সংগ্রাহকের গোপন ঘরে মিলিয়ে যাবে। এর আগে ২০২১ সালে ফ্রিদার আরেকটি ছবি ‘দিয়েগো ই ইয়ো’, ইংরেজিতে ‘ডিয়েগো অ্যান্ড আই’ বিক্রি হয়েছিল ৩ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে। ছবিটিতে তিনি নিজের কপালে স্বামী দিয়েগো রিভেরার মুখ এঁকেছিলেন।
চিত্রকর্মটি কিনেছিলেন আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী এদুয়ার্দো কোস্তান্তিনি। পরে তিনি সেটি বুয়েন্স আয়ার্সে মিউজিয়াম অব লাতিন আমেরিকান আর্ট অব বুয়েন্স আয়ার্সে (মালবা) প্রদর্শনের জন্য দেন।
নারী শিল্পীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ছবি হলো মার্কিন চিত্রশিল্পী জর্জিয়া ও’কিফের ‘জিমসন উইড/হোয়াইট ফ্লাওয়ার নাম্বার ওয়ান’। এটি ২০১৪ সালে বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে। অন্যদিকে পুরুষ শিল্পীদের মধ্যে রেকর্ড এখনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘সালভাতর মুন্ডি’। ২০১৭ সালে ছবিটি বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ডলারে।
সূত্র: এপি










