যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে যোগ দেয়ার কথা ছিল ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির কিন্তু এর আগেই তাকে আটক করে গুরুগাঁও পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক ভিডিও বার্তায় রাঠি দাবি করেন, তাকে আটক নয়, ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।

ইনস্টাগ্রামে দেয়া পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, আমাকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৩টার দিকে রাঠিকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সিজেপির পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের ভিডিওতে রাঠি প্রথমে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে বিদেশি পাসপোর্ট থাকার খবর নাকচ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তি পাওয়ার পরও তার বাসার বাইরে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন এবং তাকে বাইরে যেতে দিচ্ছিলেন না।

রাঠির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। হিন্দুস্তান টাইমসকে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি এবং পুলিশ সব নিয়মকানুন অনুসরণ করেছে।

ভিডিওতে রাঠি আরো দাবি করেন, শনিবার তার বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাঠির ভাষ্য, আমি প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই তারা আক্ষরিক অর্থেই আমাকে অপহরণ করে। আমি অপহরণ শব্দটি ব্যবহার করছি, কারণ এটি গ্রেফতার নয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

একাধিক থানায় নেয়ার পর তাকে গুরুগ্রামের অপরাধ তদন্ত শাখার কার্যালয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেন রাঠি। এ সময় পুলিশ তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দেয় বলে অভিযোগ তার।

ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো আইন ভঙ্গ না করে দেশের স্বার্থে সত্যের পক্ষে কথা বলা এবং উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি জানানোর কারণে একজন নাগরিককে বাড়ির শোবার ঘর থেকে এভাবে নিয়ে যাওয়া কোনো গণতান্ত্রিক দেশে গ্রহণযোগ্য কি না।

এছাড়া, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে অনশন করার হুমকি দেয়ায় আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ধন্যবাদ জানান রাঠি। ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক, দেশের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন।