যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সাত দফা দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ইরান। প্রণালিটি পুনরায় খুলতে ইসলামাবাদ স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। খবর আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নূরনিউজ রোববার গালিবাফের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের কূটনৈতিক প্রস্তাবের জবাব দেয়ার কয়েকদিন পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানের কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।
গালিবাফ বলেন, সময়ক্ষেপণ ও একতরফা দাবি চাপিয়ে দেয়ার যুগ শেষ হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত। ইরানের অবস্থানও ‘স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইসলামাবাদ স্মারকের ভিত্তিতে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না। ইরান সামরিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নতুন চমক’ দিয়ে মোকাবেলা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে ইরান উচ্ছ্বসিতও নয়, ভীতও নয় উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, তেহরান একই সঙ্গে লড়াই ও আলোচনা চালিয়ে যাবে।
এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে তেহরানের আগ্রহের কথা জানান। তেহরানে বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার শর্তগুলো ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ বেছে নিয়ে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করবে বলে আশা করছে তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকবে এবং আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করেন আরাগচি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) মঞ্চে বিশ্বনেতাদের কাছে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো পরমাণু আলোচনা নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। বাঘাই বলেন, এ পর্যায়ে আমরা মূলত প্রণালিটির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো একটি সমাধানে পৌঁছানো এবং এ জলপথে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।










