ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দিল্লিতে স্বাভাবিক মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং মানুষের চলাচলে অপ্রয়োজনীয় বাধা না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে একদিনের ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও চলাচলে বিধিনিষেধের পর রোববার এ বিষয়ে জরুরি শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। শুনানিতে আদালত বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হওয়া কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী চালু রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা সাপেক্ষে ইন্টারনেট পরিষেবাও সচল রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না দিতেও বলা হয়েছে।

আগের দিনের বিধিনিষেধ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে বলেছেন আদালত। একই সঙ্গে মেট্রো ও রেল পরিষেবা বন্ধের মাধ্যমে আদালতের আগের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে করা আদালত অবমাননার আবেদনে কেন্দ্রকে নোটিস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হেবিয়াস করপাস আবেদনসহ বিষয়গুলো আগামী ১৩ অক্টোবর আবার শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

এর মধ্যেই রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লিজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সিজেপি নেতা আজিঙ্কা সিন্ধে বলেন, যত মানুষকেই আটক করা হোক, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। যন্তর মন্তরে নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। সিজেপির দাবি, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেয়া বা পরিবর্তনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও অসহযোগ কর্মসূচি চলবে।

শনিবারের বিক্ষোভের আগে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ। রোববার তাদের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর এক বছর ‘শান্তিভঙ্গ না করার’ শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়। মুক্তির পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন দীপকে।