মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো দেরি হচ্ছে। এতে চলতি বছর বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলেছে, জ্বালানির দাম বাড়ায় তেলের চাহিদা কমছে। তবে সরবরাহ এর থেকেও দ্রুত কমে আসছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে আইইএ জানিয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। অর্থাৎ সরবরাহ প্রায় ৬ শতাংশ কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে সংস্থাটি সরবরাহ ৪ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে তেলবাহী জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে গেছে। এর প্রভাবে চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে উঠেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির দামও দ্রুত বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানির বাজারে চাপ আরো বেড়েছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদও কমছে দ্রুত। আইইএর হিসাবে, আগস্টে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমেছে দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেল হারে। মজুদের পরিমাণ এখন ২০২৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।

আইইএ বলেছে, এত দিন মজুদ কমিয়ে বাজারে তেলের ঘাটতি সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মজুদ দ্রুত কমে যাওয়ায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। একই সময়ে বিশ্বের তেল পরিশোধনাগারগুলো প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চলছে। ফলে বাজারে আরো বড় সংকট এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে অগ্রগতি প্রয়োজন।

সৌদির জ্বালানি তেল উত্তোলনে বড় পতন

আগস্টে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল কমে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। সৌদি আরবের উত্তোলন কমেছে সবচেয়ে বেশি। দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেল কমে ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে গেছে। তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি দেশটির সর্বনিম্ন উত্তোলন।

জ্বালানি তেল স্থাপনা ও জাহাজ চলাচলের পথে হামলার কারণে সৌদির উত্তোলন ব্যাহত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব এলাকায় জাহাজ এবং সৌদির জাজান শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াও আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইয়েমেনের মোকা বন্দর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে।

কমছে জ্বালানি তেলের চাহিদাও

জ্বালানি আকাশচুম্বী দামের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল কমতে পারে বলে জানিয়েছে আইইএ। এর আগে সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল, চাহিদা কমবে ১৬ লাখ ব্যারেল। ওপেকের পূর্বাভাস ভিন্ন। সংস্থাটি টানা পঞ্চম মাসে পূর্বাভাস কমালেও এ বছর বিশ্বে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়বে বলে মনে করছে।

২০২৭ সালে জ্বালানি তেলের চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে আশা করছে আইইএ ও ওপেক। আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর চাহিদা দৈনিক ২৬ লাখ ব্যারেল বাড়বে। ওপেকের পূর্বাভাস ২৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল।