জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে। হাইব্রিড প্লাটফর্মের মাধ্যমে গতকাল এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির। এ সময় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। জিপিএইচ ইস্পাতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় গ্রুপ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম; অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল; পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, মো. আব্দুল আহাদ ও মো. আজিজুল হক; স্বতন্ত্র পরিচালক শফিউল আলম খান চৌধুরী ও রেজিনা পারভীন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সাদমান সাইকা সেফা, সালেহীন মুশফিক সাদাফ ও সায়হাম সাদিক পিয়াল; গ্রুপ সিইও মো. মোক্তার হোসেন তালুকদার; গ্রুপ সিএফও এইচএম আশরাফুজ্জামান ও সিএফও মো. আতিকুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক, স্বতন্ত্র স্ক্রুটিনাইজার ও কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার সভায় যোগ দেন। সঞ্চালনায় ছিলেন কোম্পানি সচিব মো. মোশাররফ হোসেন।

সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের সঙ্গে দেশে মানসম্পন্ন ইস্পাতের চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি, অর্থায়ন ব্যয়ের স্থিতিশীলতা এবং নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে গতি ফিরলে ইস্পাত শিল্পেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।’ এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবসম্পদ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহারকে জিপিএইচ ইস্পাত গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের কার্যক্রম তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, চলতি মূলধন সংকট ও প্রতিকূল ব্যাংকিং পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো ও আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন মন্থর হওয়া, ইস্পাত শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং তীব্র প্রতিযোগিতা পণ্যের মূল্য ও মুনাফায় চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত ও অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন ব্যাহত করেছে।’ এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে বিক্রয় কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় রেখে পণ্যের মান ও গ্রাহক আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সভায় মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে পাঁচ বছরের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে রেজিনা পারভীনকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ এবং শফিউল আলম খান চৌধুরীকে একই মেয়াদে পুনর্নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়।