কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ (এসপিআর) থেকে আরো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ কমে আসায় দ্রুত সরবরাহযোগ্য তেলের চাহিদা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরগাস মিডিয়ার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাইট বলেন, ‘বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে আরো জ্বালানি তেল ধার দেয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ বাস্তব। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসপিআর থেকে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন। এর আওতায় এরই মধ্যে ১৩ কোটি ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল ঋণ দেয়া হয়েছে। যা নির্ধারিত মোট পরিমাণের তিন- চতুর্থাংশের বেশি। আরো ৩০ লাখ ব্যারেল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছাড়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল এখনও রিজার্ভে সংরক্ষিত রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজারে যদি বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে অবশিষ্ট তেলও ধার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। জ্বালানি বাজার এখনো অতিরিক্ত সরবরাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে সরকারও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অক্টোবরের সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে পৌঁছায়। এর পরই এ পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বর্তমানে আগামী ছয় মাসের অগ্রিম সরবরাহ চুক্তির তুলনায় তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

তেলের বাজারের এ পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়। এতে ভবিষ্যত চুক্তির তুলনায় বর্তমানে সরবরাহযোগ্য জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি মজুদ থেকে তেল ধার বা ঋণ নেয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিকভাবে বেশ লাভজনক হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঋণদান কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো সরকার থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ধার নেয়। পরে তা অতিরিক্ত কিছু তেলসহ ফেরত দিতে হয়। আগের চুক্তি অনুযায়ী, ধার নেয়া প্রতি এক ব্যারেলের বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ২৫ ব্যারেল জ্বালানি তেল এসপিআরে ফেরত দিতে হবে।

জ্বালানি তেল ধার দেয়ার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এসপিআরে মজুদ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ১৯৮২ সালের পর এটি সর্বনিম্ন মজুদ। রাইট জানিয়েছেন, ধার দেয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ফেরত আসা শুরু হতে পারে আগামী বছরের শুরুতে। এ ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া ২০২৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।