বিশ্ববাজারে আকরিক লোহার দাম প্রতি টনে ৯০ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। খনি থেকে আকরিক উত্তোলন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের এ নতুন দর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর হেলেনিক শপিং নিউজ।

সংস্থাটির বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে খনি খাতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি তেল, শ্রমিকের মজুরি এবং জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল থেকে চীনে পণ্য পরিবহনের ভাড়া দ্বিগুণ বেড়ে টনপ্রতি প্রায় ৪০ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোতে খনির মান কমে যাওয়া ও উৎপাদন হ্রাস পাওয়াও সার্বিক খরচ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

সম্প্রতি বাজারে আকরিক লোহার সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে চীনে ইস্পাত উৎপাদন কমে গিয়েছে। এতে পণ্যটির দাম কমে প্রতি টনে প্রায় ৯৫ ডলারে নেমেছে। গত দুই থেকে তিন বছরে এ ধাতুর গড় দাম ছিল ১০৫ ডলার। পশ্চিম আফ্রিকার সিমান্দু প্রকল্প থেকে নতুন সরবরাহ শুরু হওয়া এবং অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের বড় উত্তোলকদের রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মন্দা দেখা দেয়।

গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, আকরিক লোহার দাম ৯০ থেকে ৯৫ ডলারের নিচে নামলে বিশ্বের বহু খনি কোম্পানি লোকসানের মুখে পড়বে। এরই মধ্যে কিছু ব্যয়বহুল খনি উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। ব্যাংকটি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৭ সালে লোহা আকরিকের গড় দাম টনপ্রতি ৯৬ ডলার হতে পারে।