আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল রফতানি আবার ধীরগতির হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জুলাইয়ের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের রফতানি কিছুটা বাড়ে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মক কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

জ্বালানি বাজার ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথমার্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরাক, কুয়েত ও ইরান থেকে দিনে গড়ে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কনডেনসেট (খুব হালকা ও উচ্চমানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) রফতানি হয়েছে। এটি জুনের দৈনিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আরেক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ভার্টেক্সার মতে, এ সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল দিনে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল। মূলত সৌদি আরব, ইরান ও ইরাকের রফতানি বৃদ্ধির কারণে জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল এবং জ্বালানি তেলের দামও সাময়িকভাবে কমেছিল।

তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাময়িক চুক্তিটি ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার পর গত ১৬ জুলাই পর্যন্ত পাঁচদিনে মাত্র তিনটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

কেপলারের বিশ্লেষক ইয়োহানেস রাউবাল জানান, পরিবহনজনিত সমস্যার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো উত্তোলন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। জুলাইয়ের শুরুতে সরবরাহ সাময়িক বাড়লেও বর্তমান রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের (ফেব্রুয়ারি) সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম।

এদিকে লোহিত সাগরেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় ইরান লোহিত সাগরে হামলা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরব অধিকাংশ জ্বালানি তেল রফতানি লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পরিচালনা করছে।