অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে জোটটি দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল অতিরিক্ত উত্তোলনের কোটা অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি জোটের সাতটি মূল সদস্যদেশের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি নিজেদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। ২০২৩ সালে স্বেচ্ছায় দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। অন্যদিকে ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খবর রয়টার্স ও ইউরো নিউজ।

বাজারের তথ্যে দেখা গেছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের অক্টোবরের সরবরাহ চুক্তিমূল্য ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে গেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৩ ডলার ৩৯ সেন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) সেপ্টেম্বরের সরবরাহের চুক্তিমূল্য প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৯ ডলার ৬৬ সেন্টে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সংকেতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার বিষয়টি প্রভাব ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত ও আলোচনার কথা জানিয়েছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ছিল তা কিছুটা কমেছে।

ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান দেশ—সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে। গত ২ আগস্ট প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, বিশ্ববাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সেপ্টেম্বরে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত জ্বালানি তেল উত্তোলনের সমন্বয় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

Opec-to

তবে কোটা বাড়ানো হলেও বাস্তবে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে তেলের সরবরাহ কতটা বাড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাতের কারণে মূল রফতানি চ্যানেলগুলোয় এখনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

জ্বালানিসংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জর্জ লিওন জানান, সাময়িকভাবে ওপেকের এ সিদ্ধান্ত বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে না। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সরবরাহের প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে না। জোটটি এখন আগামী বছরের নতুন কোটা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জোটটি অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ওপেক প্লাসের পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।