ব্রাজিলে ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে ১৮ কোটি ৪০ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হতে পারে। ব্রাসিলিয়ায় মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) কৃষি বিশেষজ্ঞের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
প্রতিবেদনটি গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ মৌসুম ব্রাজিলের সয়াবিন উৎপাদন ১৮ কোটি ৪০ লাখ টন হতে পারে। তবে এটি ইউএসডিএর সরকারি পূর্বাভাসের চেয়ে কম। সংস্থাটির সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় দেশটিতে সয়াবিন উৎপাদন ১৮ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে ব্রাজিল বিশ্ববাজারে সয়াবিন উৎপাদন ও রফতানিতে শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষেও দেশটিতে ১৮ কোটি ৫ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হয়েছিল। নতুন পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে উৎপাদনের টানা প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৌসুমের শুরুতে প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোয় উপযুক্ত বৃষ্টিপাত বীজ বপন কার্যক্রমে সহায়তা করেছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য রিও গ্রান্দে দো সুলে একটানা ভারি বৃষ্টি এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খারাপ আবহাওয়া বীজ বপনের চেয়ে ফসল তোলার কাজে বেশি প্রভাব ফেলবে।
ব্রাজিলে এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সয়াবিনচাষীরা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। আবহাওয়া নিয়ে তাদের মূল উদ্বেগ প্রধান সয়াবিন ফসল ঘিরে নয়, বরং দ্বিতীয় মৌসুমের ভুট্টা ও তুলা চাষকে কেন্দ্র করে।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউএসডিএর প্রতিবেদনটি ২০২৬-২৭ মৌসুমে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ১১ কোটি ৭৫ লাখ টন নির্ধারণ করেছে। এটি আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি হলেও ইউএসডিএর সরকারি প্রাক্কলন ১১ কোটি ৮০ লাখ টনের চেয়ে সামান্য কম।
বিশ্বের কৃষিপণ্য বাজারে ব্রাজিলের সয়াবিন উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সার্বক্ষণিক দক্ষিণ আমেরিকার এ সরবরাহ পরিস্থিতি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক বীজ বপন প্রক্রিয়া এবং বার্ষিক ভালো ফলন আরেকটি সফল উৎপাদন মৌসুমের ইঙ্গিত দিচ্ছে।










