দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তীব্র খরায় কমে যেতে পারে পাম অয়েল উৎপাদন। অন্যদিকে বায়োডিজেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও বাড়াচ্ছে ভোজ্যতেলটির বাজারের চাপ। এ দুই কারণে আগামী বছরও আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

মালয়েশিয়ার বুরসা মালয়েশিয়া এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত পাম অয়েলের আগাম সরবরাহ চুক্তিতে গত সপ্তাহে টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত বা ১ হাজার ১৭৬ ডলারে লেনদেন হয়। বছরের শুরুতে এ দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার রিঙ্গিত। গত আগস্টের শেষ দিকে দাম বেড়ে ৫ হাজার রিঙ্গিত ছাড়িয়ে যায়।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইস্টা মিয়েলকের নির্বাহী পরিচালক থমাস মিয়েলকের তথ্যমতে, আগামী বছরের জানুয়ারিতেই পাম অয়েলের দাম আবার টনপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিতে পৌঁছতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল ফোরামে তিনি বলেন, ‘সরবরাহ হ্রাস ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে সূর্যমুখী তেল রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

বিশ্বের মোট পাম অয়েল উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি আসে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। ফলে দেশ দুটিতে উৎপাদন কমলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ চাপে পড়তে পারে।

মালয়েশিয়ার হং লিয়ং ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে এল নিনোর প্রভাব পাম অয়েল উৎপাদনে আরো বেশি হতে পারে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে পামগাছের ফলন কমতে সময় লাগে। তাই উৎপাদন হ্রাসের পুরো চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধি করা যায় না।

এদিকে বায়োডিজেল ব্যবহারে সরকারি নীতি এবং ডিজেলের উচ্চমূল্য পাম অয়েলের চাহিদা বাড়াচ্ছে। তবে পণ্যটির দাম সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের তুলনায় বেশি বেড়ে গেলে ক্রেতারা বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভানের পরিচালক নিখিল ভাল্লাভান বলেন, ‘উৎপাদন কমার আশঙ্কায় ক্রেতারা আগাম পাম অয়েলের মজুদ বাড়াচ্ছেন। আগামী বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ভোজ্যতেল ও জৈব জ্বালানির দাম বাড়লে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। এতে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তা, উভয়ের রয়েছে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা।’