অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমতে থাকায় আসন্ন শীতে জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে যুক্তরাজ্য। এ পরিস্থিতিতে শীতকালীন চাহিদা সামাল দেয়া এবং জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে বেলজিয়ামের সঙ্গে একটি জরুরি প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির চুক্তি করেছে দেশটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

যুক্তরাজ্যের প্রাকৃতিক গ্যাস নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ন্যাশনাল গ্যাস’ ও বেলজিয়ামের পাইপলাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারকানেক্টর’-এর মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইন্টারকানেক্টর এর আগে ঘোষিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে আবার পূর্ণ মাত্রায় গ্যাস পাঠাতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম সতর্ক করে দিয়েছিল এ চুক্তি না হলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেশের বড় কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিকল হলে যুক্তরাজ্য তীব্র গ্যাস ঘাটতি বা ‘নেগেটিভ সাপ্লাই মার্জিন’-এর মুখোমুখি হতে পারত।

যুক্তরাজ্যের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় পাইপলাইন বা আমদানি টার্মিনাল অচল হয়ে গেলেও যেন নাগরিকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অফজেম জানিয়েছে, যদিও এমন বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি খুব কম, যদি এটি ঘটত, তার পরিণতি হতো অত্যন্ত ভয়াবহ।

অফজেমের হিসাব অনুযায়ী, বেলজিয়ামের সঙ্গে এ চুক্তির কারণে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে বছরে গড়ে অতিরিক্ত ১ দশমিক ১৯ পাউন্ড খরচ বহন করতে হবে।

বেলজিয়ামের জিব্রুগ থেকে যুক্তরাজ্যের নরফোকের ব্যাকটন পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আসা এ পাইপলাইনে শীতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৮ গিগাওয়াট গ্যাস আসবে। উল্লেখ্য, উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের কারণ দেখিয়ে ১ অক্টোবর থেকে সংস্থাটি এ সরবরাহ কমিয়ে ১৬ দশমিক ৫ গিগাওয়াটে নামিয়ে এনেছিল।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঘর গরম রাখার জন্য যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। গত বছরের তথ্যানুযায়ী, দেশটির মোট জ্বালানির ৩৫ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের নিজস্ব উত্তোলন দিয়ে চাহিদার অর্ধেকেরও কম মেটানো যায়। বাকি গ্যাস নরওয়ে, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাসের এ সংকট কাটাতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি উত্তর সাগরে ‘জ্যাকডক’ নামক একটি বড় নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।