বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অনুদান পাঠানো আরো সহজ করতে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের সঙ্গে চুক্তি করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ‘ইউনিসেফ’। এ অংশীদারত্বের ফলে শিশুদের সহায়তায় বিশেষ সংস্থাটির তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ আরো ত্বরান্বিত হবে এবং আরো অনেক বেশি মানুষ সহজেই বিকাশের মাধ্যমে তাদের সাহায্য পাঠাতে পারবেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের প্রাইভেট ফান্ডরাইজিং অ্যান্ড পার্টনারশিপের বৈশ্বিক পরিচালক কারলা হাদ্দাদ মারদিনি এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীরের উপস্থিতিতে অনুদান সংগ্রহ-সংক্রান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এমএফএস প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউনিসেফের প্রাইভেট ফান্ডরাইজিং অ্যান্ড পার্টনারশিপের বৈশ্বিক পরিচালক কারলা হাদ্দাদ মারদিনি বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম ‘বিকাশ’-এর সঙ্গে এ অংশীদারত্ব ইউনিসেফকে বাংলাদেশের মানুষ ও কমিউনিটির সঙ্গে খুব সহজে, নিরাপদে ও সরাসরি যুক্ত হয়ে শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে সহায়তা করবে।’
শিশুদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, শিক্ষা ও বিকশিত হওয়ার জন্য যেসব সেবা প্রয়োজন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আরো বেশি সংখ্যক শিশুর কাছে তা পৌঁছে দিতে পারব। সহায়তার পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, সেটা একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে ও সুন্দর ভবিষ্যতের পথ খুলে দিতে পারে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চুক্তির আওতায় বিকাশের গ্রাহকরা এখন সহজেই বিকাশ অ্যাপে লগইন করে ‘ডোনেশন’ অপশন থেকে ইউনিসেফ বেছে নিয়ে সরাসরি অনুদান দিতে পারবেন। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিকাশের বিস্তৃত অফলাইন মার্চেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও সহায়তা পাঠানো যাবে।
বিকাশের সিইও কামাল কাদীর বলেন, ‘সমাজের এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিতে বিকাশ কার্যকর সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে। দেশের প্রথম ডিজিটাল ডোনেশন প্লাটফর্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের পছন্দসই জায়গায় নিশ্চিন্তে অনুদান পাঠানোর সুযোগ করে দিয়েছে।’ ইউনিসেফের সঙ্গে এ যৌথ উদ্যোগ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টাকে আরো ত্বরান্বিত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিকাশ জানিয়েছে, এ অংশীদারত্বের আওতায় বিকাশ অ্যাপের ডোনেশন সেকশনে স্থায়ীভাবে ইউনিসেফের উপস্থিতি থাকবে। এর মধ্য দিয়ে অনুদান পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ উদ্যোগের আওতায় যে তহবিল সংগৃহীত হবে, তার পুরোটা বাংলাদেশে শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের নেয়া কর্মসূচিগুলোয় ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা, সহিংসতা ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান।










