সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দি‌য়ে ক‌মেছে জিরা আমদা‌নি। গত অর্থবছ‌রের প্রথম তিন মা‌সের তুলনায় চল‌তি অর্থবছ‌রের প্রথম তিন মা‌সে মসলাপণ্যটির আমদা‌নি ক‌মে‌ছে অন্তত ৪০ শতাংশ। ব‌্যবসায়ী ও আমদা‌নিকারকরা জানিয়েছেন, দেশের বাজা‌রে ইরান ও তুরস্কের জিরার চা‌হিদা বে‌ড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি ভারতীয় জিরা আমদা‌নি ক‌মে ‌গে‌ছে।

ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব বিভাগের অথ্যানুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছ‌রের জুলাই-সে‌প্টেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দি‌য়ে ৯ কো‌টি ৪৬ লাখ টাকার ২১২ টন জিরা আমদা‌নি হ‌য়ে‌ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রের একই সময়ে পণ্যটি আমদানি করা হয় ৩৯২ টন, যার মূল‌্য ছি‌ল ১৭ কো‌টি ৫ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী চল‌তি অর্থবছ‌রের জুলাই-সে‌প্টেম্বর পর্যন্ত আমদা‌নি ক‌মে‌ছে ১৮০ টন।

ভোমরা স্থলবন্দ‌রে মস‌লাপণ্য আমদা‌নিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বা‌ধিকারী মো. আবু হাসান জানান, দে‌শের বাজা‌রে চা‌হিদা ক‌মে গেছে। যার কার‌ণে সম্প্রতি জিরা আমদা‌নি কমে অন্তত ৩৫-৪০ শতাংশ। যেকো‌নো পণ্যের আমদা‌নির পরিমাণ নির্ভর করে মূলত ব‌্যবসায়ী‌দের চা‌হিদার ওপর‌।

এদি‌কে আমদা‌নি ক‌মলেও সাতক্ষীরার মসলা বাজা‌রে ভারতীয় জিরার দাম স্থি‌তিশীল ছিল। তবে বেড়েছে ইরান ও তুরস্কের জিরার দাম। গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদ‌রের স‌ুলতানপুর বড় বাজা‌রের মেসার্স ঠাকুর স্টো‌রে প্রতি কে‌জি ভারতীয় জিরা পাইকারিতে বিক্রি হয় ৪৫০ টাকায়। খুচরা পর্যা‌য়ে তা বিক্রি হয় ৪৮০ টাকা দ‌রে। এক-‌দেড় মাস ধরে দাম একই রয়েছে ব‌লে জানান প্রতিষ্ঠান‌টির প‌রিচাল দুলাল চন্দ্র সাহা।

এ সময় ইরানি ও টার্কিশ জিরার দাম কে‌জি‌তে ৫০ টাকা বে‌ড়ে‌ছে ব‌লে জানান তি‌নি। তিনি ব‌লেন, ‘এক মাস আগেও ইরান ও তুর‌স্কের জিরা খুচরা পর্যা‌য়ে বিক্রি হতো প্রতি কে‌জি ৭৫০ টাকায়। বর্তমানে তা বি‌ক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। বাজা‌রে এ দুই জাতের জিরার চা‌হিদা বাড়ায় দামও কিছুটা বেড়ে‌ছে। তবে এ সময় স্থি‌তিশীল র‌য়ে‌ছে ভারতীয় জিরার দাম।’

সাতক্ষীরার জেলা কৃ‌ষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ ব‌ণিক বার্তা‌কে জানান, চা‌হিদা বে‌ড়ে যাওয়ায় মূলত ইরান ও তুর‌স্ক থেকে আসা জিরার দাম বাজা‌রে কিছুটা বে‌ড়ে‌ছে। ত‌বে ভারতীয় জিরার দাম বাজা‌রে কম।