বছরের শেষ দিকে কিংবা নতুন সংগ্রহ বাজারে আনার আগে অনেক দোকানে দেখা যায় ‘স্টক ক্লিয়ারেন্স সেল’। অবিক্রীত পণ্য বিক্রি করতে তখন ছাড় দেয়া হয় ৩০, ৫০, এমনকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। ক্রেতাদের জন্য এটি কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ। কিন্তু বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে হিসাবটা আলাদা। গুচি, বারবেরি কিংবা ব্রুনেলো কুচিনেলির মতো ব্র্যান্ডের কাছে অবিক্রীত সামগ্রী শুধু মজুদ পণ্য নয়, বরং ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও বিশেষত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই একটা নির্দিষ্ট সময় পর বড় ছাড়ে বিক্রির বদলে এসব পণ্য ধ্বংস করা, বিশেষ করে পুড়িয়ে ফেলার পথ বেছে নেয় কিছু প্রতিষ্ঠান।
কোম্পানিগুলোর যুক্তি, পণ্যের দাম ও সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। তবে পরিবেশের ক্ষতি ও অপচয় নিয়ে সমালোচনার মুখে এবার সে চর্চা বদলানোর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিয়মে বলা আছে, অবিক্রীত পণ্য নষ্ট বা ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করতে হবে বিলাস ব্র্যান্ডগুলোকে।
ফলে সম্প্রতি অনলাইন বিক্রয় প্লাটফর্ম ইয়ক্সে ব্রুনেলো কুচিনেলি, গুচি ও বারবেরির বেশকিছু পণ্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে বিক্রি হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি ধনী ক্রেতারা ব্যয় কমিয়ে আনায় লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। তবে সাধারণ পণ্যের মতো অতিরিক্ত মজুদ দ্রুত ছাড়ে বিক্রি করতে চায় না বিলাসী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে পণ্যের বিশেষত্ব ও উচ্চ মূল্যের গ্রহণযোগ্যতা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। বাজারে পণ্যের সহজলভ্যতা বেড়ে গেলে ব্র্যান্ডের একচেটিয়া প্রভাবও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কিছু প্রতিষ্ঠান এ কারণেই অবিক্রীত পণ্য পুড়িয়ে ফেলে বা কুচি কুচি করে ধ্বংস করে। তবে এ চর্চা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশবাদী ও ভোক্তা অধিকারকর্মীদের সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ইইউতেও অবিক্রীত পণ্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ চালু হয়েছে।
নতুন নিয়মের আওতায় আগামী মার্চ থেকে বিলাসপণ্য নির্মাতাদের জানাতে হবে, তারা কী পরিমাণ অবিক্রীত পণ্য ধ্বংস করেছে এবং কেন করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে দুটি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে অবিক্রীত পণ্য ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ পেলে গ্রাহক ও পরিবেশবাদীদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে ব্র্যান্ডগুলো। অন্যদিকে কোন পণ্যের চাহিদা কম বা কত পণ্য অবিক্রীত থাকছে, সে তথ্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিলাসপণ্য খাতের পরামর্শক জুলি এল ঘুজি এ পরিস্থিতিকে ‘দ্বিগুণ ক্ষতি’র ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কোনো কাজ জনসাধারণের কাছে নিন্দনীয় বলে বিবেচিত হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর বিলাসপণ্যের বাজারে সুনামই ক্রেতার কাছে পণ্যের আকর্ষণ ধরে রাখার অন্যতম ভিত্তি। —খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট










