কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও সেবা সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের চাহিদা। এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও বিকাশে বৈশ্বিক খরচও বাড়ছে দ্রুত। চলতি বছর শেষে এ খাতে ব্যয় পৌঁছতে পারে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০২৮ সালের মধ্যে তা বেড়ে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএফএ) গ্লোবাল রিসার্চ। খবর রয়টার্স।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগ গত শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, এআই-ভিত্তিক সেবার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি এসব সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণও দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। এতে ডেটা সেন্টার খাতের আকার ও বিনিয়োগ—দুটিই বেড়ে চলছে।
ডেটা সেন্টার হলো এমন অবকাঠামো, যেখানে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার সার্ভার ও তথ্য সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি রাখা হয়। ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই পরিচালনায় এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ছে।
বিওএফএ গ্লোবাল রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে ডেটা সেন্টার বাজারের আকার ছিল ২৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে এ বাজারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) হতে পারে ৩৭ শতাংশ।
ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের এ প্রবণতা থেকে লাভবান হচ্ছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও। জেনারেটর, নির্মাণ সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা, সুইচগিয়ার ও শীতলীকরণ যন্ত্র তৈরি করে এমন কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ছে। পাশাপাশি বড় সুবিধা পাচ্ছে এআই অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত চিপ ও সার্ভার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও।
প্রতিবেদনে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়েছে। প্রতি মেগাওয়াট সক্ষমতার ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যয় হতে পারে গড়ে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট খরচের হিস্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ সার্ভার, নেটওয়ার্কিং ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত সরঞ্জামেই মোট ব্যয়ের বড় অংশ চলে যায়।
‘নিওক্লাউড’ নামে পরিচিত এআই-কেন্দ্রিক ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যয় আরো বেশি। এ ধরনের অবকাঠামো তৈরিতে প্রতি মেগাওয়াট সক্ষমতায় প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ হতে পারে। তবে প্রচলিত ডেটা সেন্টারের তুলনায় এসব কেন্দ্রের জন্য কম জায়গা লাগে।
ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যায় সার্ভার কেনা ও স্থাপনে। বিওএফএর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মেগাওয়াট সক্ষমতার জন্য সার্ভার খাতে ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার।
এরপর রয়েছে নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম। এ খাতে ব্যয় হতে পারে ৪৮ লাখ ডলার।
এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, সুইচগিয়ার, জেনারেটর, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং শীতলীকরণ সরঞ্জামেও ব্যয় করতে হয়। এসব পৃথক ব্যবস্থার প্রতিটিতে প্রতি মেগাওয়াট সক্ষমতার জন্য প্রায় ১-১১ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।










