কোক স্টুডিও বাংলায় ‘মথুরা’ গান দিয়ে আলোচনায় আসেন সংগীতশিল্পী অংকন কুমার। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় তার গাওয়া ‘বড়াই করে’ গানটিও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। ক্যারিয়ার, সংগীত ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এ সংগীতশিল্পী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা চৌধুরী প্রিয়ন্তী

আপনার গানে প্রেমের অনুভূতি এত সহজভাবে প্রকাশ পায় যে শ্রোতার মনে হয়, এ যেন তারই কথা। গান লেখার সময় অনুভূতিগুলো কীভাবে তুলে আনেন—অভিজ্ঞতা থেকে, নাকি কল্পনা থেকেও?

প্রেম কখনো অভ্যাস, কখনো গভীরতা, কখনো অপেক্ষা কিংবা আকুলতা—সময় ও পরিস্থিতিভেদে এর প্রকাশ বদলে যায়। গান লেখা ও সুর করার সময় নিজের, পরিচিত কারো কিংবা কাল্পনিক কোনো চরিত্রের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতি কল্পনা করে সেই অনুভূতিটাই ধরার চেষ্টা করি। অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধু কল্পনা থেকেও এমন গান লেখা সম্ভব।

ছোটবেলা থেকেই কি শিল্পী হওয়ার ইচ্ছা ছিল?

ছোটবেলা থেকেই গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি একটা টান ছিল। ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছাও ছিল। হারমোনিয়াম, কি-বোর্ড কিংবা গিটারে হাত দেয়ার পর মনে হতো, সংগীতজীবনের সঙ্গে সবসময় থাকলে জীবনটা আরো সুন্দর হবে। গানে বিষণ্নতার উপস্থিতিও মূলত গানের ধরন ও জনরার ওপর নির্ভর করে। এখন পপ, আরঅ্যান্ডবি ও হিপহপ নিয়ে কাজ করছি, যেখানে অনুভূতির প্রকাশ ভিন্ন।

বাংলা গানের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা গানের পরিচিতি বাড়াতে শিল্পীদের চর্চা আরো জোরদার করতে হবে, তাদের পেছনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমার বিশ্বাস, সদিচ্ছা থাকলে পথ তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমানে সংগীতেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ভবিষ্যতে এআই শিল্পীদের জায়গা দখল করে নিতে পারে বলে মনে করেন?

এআইকে সহকারী বা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি শিল্পীর বিকল্প হবে বলে মনে করি না। এআই দিয়ে কোনো শিল্পীর গায়কির ধরন অনুকরণ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি যদি কেবল নকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা প্রকৃত শিল্পীর স্বাতন্ত্র্যকে আড়াল করতে পারে। বরং নিজের মৌলিক কাজের সঙ্গে এআইকে কাজে লাগালে প্রযুক্তির সুবিধা নেয়ার পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব প্রতিভাও অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।

সংগীতচর্চায় আপনার গুরু ও অনুপ্রেরণার মানুষ কারা? কোক স্টুডিও বাংলায় অর্ণবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ছোটবেলা থেকে সবার গান শুনেই অনেক কিছু শিখেছি, এখনো শিখছি, হয়তো সারা জীবনই শিখব। নির্দিষ্ট কোনো আদর্শ নেই। আমার মা-বাবা এবং সংগীতের শিক্ষক ড. মৃদুলকৃষ্ণ পাল ও তপন বৈদ্য আমাকে শিখিয়েছেন। প্রভাবের জায়গা থেকে দ্য বিটলস, বি জিস, মাইলস কেনেডি এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পীদের কথা বলতে হয়।

অর্ণব ভাই আমার কাছে অনেকটা নায়কের মতো। ছোটবেলা থেকেই তার গান শুনে মনে হতো, সেগুলো সময়ের চেয়ে এগিয়ে। তার সঙ্গে কাজ করতে পারা দারুণ অভিজ্ঞতা। পরামর্শদাতা হিসেবেও তিনি অসাধারণ। সংগীত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নানা সুযোগ-সুবিধা অর্ণব ভাই, শুভেন্দু ভাই ও বুনো ভাইয়েরা নিশ্চিত করেছেন। তারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন।

কোক স্টুডিও বাংলায় আপনার গান ‘মথুরা’র ধীর, বিষণ্ন আবহ নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। গানটির ভাবনা কীভাবে এসেছিল? এর দৃশ্যায়নের পেছনের গল্পই বা কী?

পাঁচ-ছয় বছর আগে খুলনায় এক ঝড়ের দিনে গিটার অ্যাম্পে লাগানো অবস্থায় ‘মথুরা’ লেখা ও সুর করা শুরু করি। গানটি আধা-শাস্ত্রীয় ঘরানার, যেখানে অপূর্ণ প্রেমের গল্প বলা হয়েছে। বিষয়বস্তুর মধ্যেই বিষণ্নতা রয়েছে, তাই গানটির গতি ও আবহ সেভাবেই রাখা হয়েছে।

দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে আদনান ভাই, আয়রিন আপুসহ পুরো দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভাবনাটি মূলত তাদের দিক থেকেই এসেছিল। সেই ভাবনার সঙ্গে নিজের ধারণাকে মিলিয়ে নেয়াই ছিল চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত সবাই কাজটির ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম।