ডেভিড এলিসন শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। জয়ের পর বেশ সাহসী একটি সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। একীভূত ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও প্যারামাউন্ট প্লাসের নাম রেখেছেন স্কাইড্যান্স করপোরেশন। নামটি এসেছে তার মূল চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্কাইড্যান্স থেকে। প্রতিষ্ঠানটি গত ১৪ মাসে হলিউডের দুটি স্টুডিওকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করেছে।
সব ধরনের জটিলতা পার হয়ে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিহত করে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিকল্পনা সফল করেছেন এলিসন। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি কিনে নিয়েছেন তিনি। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ১১১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এ অধিগ্রহণের পর স্কাইড্যান্স করপোরেশনকে একটি লাভজনক বিনোদন সাম্রাজ্যে পরিণত করা। কিন্তু সন্দেহ থাকে সুচারুভাবে কাজটি করতে না পারলে বিপুল ঋণের জালে ডুবে যেতে পারেন তিনি।
একীভূতকরণ চুক্তিটি আগামীকাল চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অবশ্য একীভূতকরণ হয়ে গেছে বলেই মনে করেন বিনোদন অঙ্গনের সবাই। পাশাপাশি ধরেই নেয়া হচ্ছে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিপণনে অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে স্কাইড্যান্স করপোরেশন।
তবে এ চুক্তি সৃজনশীল অঙ্গনে ব্যাপক বিভাজন তৈরি করেছে। বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখ প্রকাশ্যেই এ একীভবনের বিরোধিতা করেছেন। অবশ্য প্রতিযোগিতার বাজারের চরিত্রই এ রকম। তাই আপাতত এভাবেই পথচলা শুরু করতে হবে এলিসনকে। তার সঙ্গে আছেন ম্যাটেল থেকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ইয়োন ক্রেইজ। সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (কো-সিইও) হিসেবে স্কাইড্যান্সে যুক্ত হয়েছেন তিনি।
এ নতুন নেতৃত্বের সামনে আরো একটা চ্যালেঞ্জ আছে। তাদের একই সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে বিপুল ঋণ কমাতে হবে, অন্যদিকে চলচ্চিত্র, লিনিয়ার টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং—সব ক্ষেত্রেই মুনাফা বাড়াতে হবে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাওয়াদ হুসেইন বলেন, ‘ঋণের বোঝা যত দ্রুত সম্ভব কমানোর জন্য তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং যে বিষয়ের দিকে আমরা সবচেয়ে বেশি নজর রাখব, তা হলো একীভবন ও এর বাস্তবায়ন।’
দুই বছর আগেও স্কাইড্যান্স মিডিয়া ছিল তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিষ্ঠান। বছরে মাত্র কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করত। কিন্তু এলিসন তাকে নিয়ে এসেছেন ভিন্ন বাস্তবতায়। সে কারণেই চ্যালেঞ্জটি বড়।
সূত্র: ভ্যারাইটি










