এ সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা মীর রাব্বী। নিয়মিত কাজ করছেন ওটিটিতে। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা। ক্যারিয়ার, নতুন কাজসহ নানা বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
আপনার আসন্ন সিনেমা বকুলের বুকে রক্তকরবীতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি করতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল চরিত্রটির পোশাক, চেহারা ও আচরণ কেমন হবে, সেটা ঠিক করা। অন্যদের চরিত্র ও পোশাক মোটামুটি নির্ধারিত থাকলেও আমার চরিত্রের ক্ষেত্রে শুরুতে বিষয়টি পরিষ্কার ছিল না। তাই শুটিং শুরুর আগে দুদিন অন্যদের কাজ দেখেছিলাম। চরিত্রটির শুটিংয়ের দিন পরিত্যক্ত একটি বিশাল জুটমিলে ১০-১৫ মিনিট একা হাঁটতে হাঁটতেই চরিত্রটির মধ্যে ঢোকার একটা জায়গা তৈরি হয়ে যায়।
বকুলের বুকে রক্তকরবীতে প্রিয়ন্তী ঊর্বীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
প্রিয়ন্তী ঊর্বীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই ভালো। আমাদের দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি সম্পর্কটাও বন্ধুত্বপূর্ণ, যা কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক। ঊর্বী ভীষণ পরিশ্রমী এবং অভিনয়টা অনেক চেষ্টা ও আন্তরিকতার সঙ্গে করে। সহশিল্পী হিসেবেও সে অসাধারণ।
‘কুরকাব’ করতে গিয়ে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নতুন কী অভিজ্ঞতা হয়েছে?
কুরকাব করতে গিয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি জীবনযাপন ও দৃষ্টিভঙ্গির নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। পানির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, মিঠাপানি ও নোনাপানির পার্থক্য, একটি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও তাদের সংগ্রামকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সে বাস্তবতার মধ্যেই থাকতে হয়েছে এবং শুটিংয়ের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। পাশাপাশি মোশাররফ করিমের সঙ্গে অভিনয় এবং ড. শাহাদুজ্জামান স্যারের চিত্রনাট্যে কাজ করাও আমার কাছে অনেক বড় অভিজ্ঞতা।
আপনার নতুন নাটক বিষ পাখি মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দর্শকের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। কেউ ভালো বলছে, কেউ এতটা বলছে না। তবে অধিকাংশ মানুষই ভালো বলেছে। দেখা যাক, নাটকটি দর্শকের মনে কেমন প্রভাব তৈরি করে।
একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে আরো উন্নত করার ক্ষেত্রে কোন দিকগুলোকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
লেখাপড়া করা ও বিভিন্ন বিষয়ে আরো জানার চেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। অডিওবুক, পুরনো ভিডিও ও অভিনয় শেখানোর বিভিন্ন ক্লাসের পাশাপাশি কুরোসাওয়া, পোলানস্কি, হিচককের সিনেমা দেখি। জ্যাক নিকলসন, ড্যানিয়েল ডে-লুইস, ম্যাথিউ ম্যাককনাহে, রবার্ট ডি নিরো, ক্লিন্ট ইস্টউডসহ পছন্দের অভিনয়শিল্পীদের কাজ, তাদের অভিনয়ের প্রতি নিবেদন ও শেখার প্রক্রিয়া জানার চেষ্টা করছি।
একই ধরনের চরিত্রে না থেকে নিজেকে ভাঙার ক্ষেত্রে আপনি কতটা সচেতন?
আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে চেষ্টার পাশাপাশি কাজের সুযোগ পাওয়াটাও জরুরি। এখন যেসব কাজ করছি, সেগুলো আরো বেশি প্রকাশ পেলে হয়তো বোঝা যাবে, আমার সে সচেতনতা ঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কিনা।
নতুন কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে গল্প ও চরিত্রের কোন বিষয়গুলো আপনাকে বেশি আকৃষ্ট করে?
গল্প আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। তবে ইদানীং গল্পের পাশাপাশি সেটার উপস্থাপন কীভাবে হবে, সেটাও ভাবি। একটি ভালো গল্পকে সুন্দরভাবে পর্দায় তুলে ধরার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কম বাজেটের কাজ হলেও কীভাবে সেটিকে ভালো করা যায়, সেটাও ভাবি। তবে সবার আগে গল্প ও চরিত্র দেখি। ভালো একটি কাজ হয়ে উঠতে পারে মনে হলে তখন সেটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়।
ক্যারিয়ারে এমন কোনো কাজ করেছেন, যেটা ব্যক্তি হিসেবে আপনাকে বদলাতে পেরেছে?
নির্দিষ্ট কোনো একটি কাজ বলতে পারব না। যে চরিত্রগুলোয় যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তার প্রতিটিই কোনো না কোনোভাবে আমাকে বদলেছে। কোনো চরিত্রের ভেতর সত্যি সত্যি ঢুকে পড়তে পারলে কাজ শেষে নিজের কাছে ফিরে এলেও মানুষটি আর আগের মতো থাকে না। চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে জড়ানোর সুযোগ পেলে একজন শিল্পীকে নিজের কিছু অংশ সেখানে রেখে আসতে হয়। আমি সে রকম গভীর সম্পৃক্ততার অপেক্ষায় থাকি। একজন শিল্পীর জন্য সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ভিউ ও জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে অভিনয়ের সাফল্য বিচার করার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?
আমি এটাকে ভালো-মন্দের বিষয় হিসেবে না দেখে বাস্তবতা ও একটি তথ্য হিসেবে দেখি। ভালো প্রকল্পে কাজ করতে ভালো পরিচালক, প্রযোজনা পরিকল্পনা ও বাজেট প্রয়োজন। ভালো বাজেটের জন্য ভিউ দরকার। ভিউ না থাকলে ভালো বাজেট পাওয়াও কঠিন। তবে সবার ক্ষেত্রে এ বিষয় একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। আমি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে কাজ করে যাওয়ার পক্ষপাতী। গল্প ও চরিত্র ভালো লাগলে, পরিচালক বা তার ভাবনা ভালো লাগলে কিংবা পুরো কাজটি সম্ভাবনাময় মনে হলে আমি যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি।
ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে এমন কোনো চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন, যেটি আপনাকে অভিনেতা হিসেবে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দেবে?
আমি নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করতে চাই না। যেকোনো ভালো চরিত্রের জন্যই অপেক্ষা করতে চাই। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন অসাধারণ একটি লেখা পাওয়া যাবে। সে চরিত্রের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, নির্দেশনা, চিত্রগ্রহণ, দৃশ্যপরিকল্পনা ও গল্প বলার ধরনও প্রয়োজন। ছোট, বড় কিংবা মাঝারি যে ধরনের কাজই হোক, এমন একটি কাজের অপেক্ষায় থাকি, যেখানে নিজেকে আরো ভাঙার সুযোগ পাব এবং গল্প ও লেখনী আমাকে নতুন করে বদলাতে সাহায্য করবে।










