বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত জগতের অমর নাম আইয়ুব বাচ্চু। বেঁচে থাকলে আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) ৬৩ বছরে পা রাখতেন কিংবদন্তি এ শিল্পী। ১৯৬২ সালের এই দিনে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করা এ গিটার জাদুকর ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

আজ হাজারো ভক্ত ও অনুরাগী নানাভাবে স্মরণ করছেন তাকে। আইয়ুব বাচ্চুর রেখে যাওয়া সুর, গান ও রুপালি গিটার আজও প্রজন্মের প্রেরণা। তবে শুধু ব্যান্ডসংগীতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ছিলেন গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। আধুনিক গান, লোকগীতি বা সিনেমার প্লেব্যাক—সবখানেই তার ছিল অনন্য বিচরণ।

‘এলআরবি’ ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে আইয়ুব বাচ্চু উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তার কণ্ঠে ‘ফেরারি মন’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘রুপালি গিটার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’—সবই হয়ে উঠেছে চিরসবুজ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যান্ডসংগীতকে জনপ্রিয় ও শক্ত ভিতে দাঁড় করাতে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক।

একক ক্যারিয়ারেও আইয়ুব বাচ্চুর সাফল্য আকাশছোঁয়া। প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ ও দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’র মাধ্যমে শুরু হওয়া তার যাত্রা, যা পরবর্তীতে এলআরবি’র ডাবল অ্যালবাম ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘সুখ’ অ্যালবাম পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয়; জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি চেয়েছিলেন একজন ‘ভালো মানুষ’ হয়ে বাঁচতে। তাই তার মৃত্যু কেবল সংগীতাঙ্গন নয়, পুরো জাতিকেই কাঁদিয়েছিল। অনুরাগীদের কাছে তিনি ছিলেন এক জাদুকর, যিনি গিটারের তারে ফুটিয়ে তুলতেন জীবনের গল্প।