জাপানের নাগোয়ায় গতকাল বাংলাদেশের সকাল শুরু হয়েছিল কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে। এ জয়ে পদকের স্বপ্ন জাগে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। বিকালে চাইনিজ তাইপেকে ৪৮-৪৭ পয়েন্টে হারানোর পর পদকের স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ নেয়ার কাছাকাছি চলে যায়।
চাইনিজ তাইপে ও বাংলাদেশের ম্যাচটি ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কখনো চাইনিজ তাইপে লিড নিয়েছে, আবার কখনো এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। একেবারে শেষ মিনিটে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছে। রেফারির ম্যাচ শেষের বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন বাংলাদেশ খেলোয়াড়রা। পদক এখনো নিশ্চিত না হলেও বাংলাদেশ যেন পদক জয়ের উল্লাসই করেছে।
চাইনিজ তাইপের কাছে হেরে বাংলাদেশ গত এশিয়াডে ব্রোঞ্জ পায়নি। তাই গতকাল ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশ সতর্ক ছিল। একপর্যায়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৭ পয়েন্টে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশের ভুলে তাইপে কিছু পয়েন্ট আদায় করে নেয়। এতে ২৪-২০ পয়েন্টে শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ চাপে পড়ে যায় কিছুটা। একপর্যায়ে তাইপে ৩৬-৩৫ পয়েন্টের লিডও নেয়। এরপর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। লাল-সবুজরা লিড নেয় ৪০-৩৯ পয়েন্টে। এমন বাস্তবতায় শেষ তিন মিনিট খুব লড়াই হয় দুই দলের মধ্যে। শেষ হাসি বাংলাদেশই হেসেছে।
টানা দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ পদক জয়ের পথে। আজ অপেক্ষাকৃত দুর্বল জাপানকে হারালেই বাংলাদেশের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত হবে। নিশ্চিত হবে পদকও।
চলতি এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে ‘এ’ গ্রুপে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জাপানের সঙ্গে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সেমিফাইনালে খেলবে। কাবাডিতে চার সেমিফাইনালিস্টই পদক পায়। ভারত ‘এ’ গ্রুপের টপ ফেভারিট। চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে বাংলাদেশ গ্রুপের রানার্সআপ হওয়ার দৌড়ে রয়েছে।
এর আগে গতকাল সকালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারায় বাংলাদেশ। তোখাই সিটিজেন জিমনেসিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে জমজমাট লড়াই হয়। প্রথমার্ধে ১৭-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরো বাড়ায় লাল-সবুজরা। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ২২-১৯ পয়েন্টে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। দুই অর্ধ মিলিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ৩৯-৩৫ পয়েন্ট ব্যবধানে।










