ব্যালন ডি'অর জেতার স্বপ্ন নিয়ে লিভারপুল ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। কিন্তু নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে তার খেলার সময় সীমিত হয়ে পড়েছে। রিয়াল ওভিদোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তিনি মাত্র তিন মিনিট মাঠে ছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে, বিশেষ করে লিভারপুল সমর্থকদের মধ্যে বেশ হাস্যরস তৈরি হয়েছে।
জাবি আলোনসো তার দলের খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানো বা রোটেশন নীতির জন্য পরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি সেরা দল সাজাতে পছন্দ করেন। ফলে আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে সীমিত সময়ের জন্য মাঠে নামার বিষয়ে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে। ব্যালন ডি'অর জেতার আকাঙ্ক্ষাই তার লিভারপুল ছাড়ার অন্যতম কারণ— এমনটাই জানিয়েছিলেন এই ইংলিশ রাইট ব্যাক। কিন্তু এই পুরস্কার জিততে হলে তাকে নিয়মিত খেলতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত।
আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে রিয়াল মাদ্রিদে জায়গার জন্য স্প্যানিশ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। কিন্তু শক্তিশালী ডিফেন্ডার এবং অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন কারভাহাল। আলোনসো কারভাহালের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন, যা ট্রেন্টের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুজনের খেলার ধরন ভিন্ন হলেও রক্ষণাত্মক দক্ষতা এবং দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া কারভাহালকে এগিয়ে রেখেছে।
তবে আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের খেলার কৌশল বহুমাত্রিক। ইংল্যান্ডের হয়ে তাকে মাঝেমধ্যে মাঝমাঠে খেলতে দেখা গেছে। পাসিং এবং দূর থেকে শট নেয়ার ক্ষমতা তাকে একজন প্রথাগত 'নাম্বার ৮' হিসেবে সফল করতে পারে। জাবি আলোনসোও দলের খেলোয়াড়দের পজিশন পরিবর্তন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আগ্রহী। তাই ভবিষ্যতে কারভাহাল এবং ট্রেন্টকে একসঙ্গে মাঠে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সেক্ষেত্রে ট্রেন্ট একজন মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে পারেন।
জাবি আলোনসো জানিয়েছেন, তিনি দলের সব খেলোয়াড়কেই সুযোগ দেবেন এবং তাদের থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে কয়েক মিনিটের জন্যও মাঠে নামা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।‘ কিন্তু শেষ পর্যন্ত, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা এল ক্লাসিকোর মতো বড় ম্যাচের জন্য আলোনসোকে সেরা একাদশ বেছে নিতে হবে। তখনই বোঝা যাবে, তার কৌশল শুধুই খেলোয়াড়দের ঘোরানো, নাকি তিনি তার প্রথম বড় সাইনিংয়ের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না।














