কমান্ডো কায়দায় ‘‌দ্য গ্যালাক্সি লিডার’-জাহাজের ডেকে নামেন হুথি যোদ্ধারা। ডেকে তখন কোনো ক্রু নেই। মুখে স্লোগান নিয়ে আর এদিক ওদিক গুলি ছুড়ে ডেক পেরিয়ে যোদ্ধারা ঢুকে যান জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে। হঠাৎ বজ্রপাতের মতো দৃশ্যটি হতভম্ব করে দেয় সেখানে অবস্থান করা নাবিক ও ক্রুদের। বন্দুকের মুখে ক্রুদের জিম্মি করে জাহাজটিকে হুথি যোদ্ধারা নিয়ে নেয় নিয়ন্ত্রণে। ঘোষণা করা হয়, এটা গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের জবাব। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় আবারো মনোযোগ টানল ইয়েমেন ও হুথি। 

হুথি হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের অন্য নাম আনসারাল্লাহ। ইয়েমেনের অধিকাংশ অঞ্চল বর্তমানে তাদের দখলে। অনেকে হুথি যোদ্ধাদের ইরানের প্রক্সি মনে করতে চাইলেও তাদের রয়েছে নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও আদর্শিক পাটাতন। ঐতিহাসিক পরিচয়ের দিক থেকে হুথিরা জায়েদি শিয়া। তাই হুথি নিয়ে আলোচনার আগে জায়েদি ইসলাম আলোচনার দাবি রাখে। শিয়া সম্প্রদায় মুসলিম বিশ্বের সংখ্যালঘু আর শিয়াদের মধ্যে সংখ্যালঘু জায়েদিরা। তবে শিয়া ইসলামের অন্য সব উপদলের তুলনায় সুন্নিদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নৈকট্য তাদের। ইরানে আধিপত্য করা ইমামিয়া ও সিরিয়ায় আধিপত্য করা আলাভি শিয়া থেকে তাদের ফারাক বিস্তর। জায়েদি নামটা এসেছে মূলত জায়েদ বিন আলি থেকে। কারবালায় মর্মান্তিক শাহাদাতের পর হুসাইন (রা.)-এর পুত্র আলি ইবনে হুসাইন আস-সাজ্জাদ মদিনায় বসবাস করতে থাকেন। পরবর্তী জীবন তিনি অনেকটা নীরবেই যাপন করেছেন। তার মৃত্যুর পর অনুসারীরা নেতৃত্বের প্রশ্নে দুটি ধারায় বিভাজিত হয়ে পরে। বড় অংশই মেনে নেয় মুহম্মদ আল বাকিরকে, তবে উল্লেখযোগ্য একটা অংশ ইমাম হিসেবে জায়েদকে অনুসরণ করেন। জায়েদ ছিলেন একই সঙ্গে জ্ঞানী ও বীর। ৭৪০ সালে তিনি উমাইয়া শাসনে চলমান জুলুম ও বিদ্যমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। তার সে আন্দোলন ব্যর্থ হয় এবং তিনি শহীদ হন। কিন্তু জায়েদীয় আদর্শের মৃত্যু ঘটেনি। ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্রভাবে বিকাশ লাভ করেছে সে ভাবধারা। তারা মনে করে, নেতার ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে। বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেয়া হয় ইজতিহাদ ও কিয়াসকে। জায়েদি সায়্যিদরা হলেন রাসুল (সা.)-এর বংশধর। তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জ্ঞান ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে নির্বাচিত হন নেতা, যা এটি খুরুজ হিসেবে পরিচিত।

নবম শতাব্দী থেকেই জায়েদি ইমামরা ওই অঞ্চলের তৎপর ছিলেন। আধ্যাত্মিক জায়েদকে পৃথকভাবে মর্যাদা দেয়া হয়, কারণ তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। জায়েদ যেন জালিম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রতীক হিসেবে। অনেক বছর পর বর্তমানে হুথিরাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামকেই নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। নবম শতাব্দীতেই জায়েদের অনুসারীরা উত্তর ইয়েমেনের পার্বত্য অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। পরে হাজার বছরজুড়ে বিভিন্নভাবে তারা ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধ করেছে। তাদেরই একটা ধারা পরে উত্তরের দিকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে তারা একই সঙ্গে উসমানি খেলাফত ও ওয়াহাবি শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ১৯১৮ সালে উসমানি খেলাফত সংকুচিত হওয়ার পর উত্তর ইয়েমেনে একচ্ছত্র ক্ষমতা পায় জায়েদি রাজতন্ত্র, যা আল-মামালিকাল মুতাওয়াক্কিলিয়া আল ইয়েমিনিয়া নামে পরিচিত। যদিও অনেক আগে থেকেই ইমাম ছিলেন, একই সঙ্গে শাসক ও আধ্যাত্মিক নেতা। এবার যেন তা আরো সম্প্রসারণ হলো। ত্রিশের দশকেই সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাত হয় কয়েক দফা। উল্লেখযোগ্য ভূমি হারালেও উত্তর ইয়েমেনে বৈধ শাসনক্ষমতা পোক্ত করে। ১৯৬২ সালে বিপ্লবী বাহিনী মুতাওয়াক্কিল রাজ্যের শেষ ইমাম মুহম্মদ আল বদরকে উৎখাত করেন। সানাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয় ইয়েমেন আরব রিপাবলিক। আবদুল্লাহ আল সাল্লাল গ্রহণ করেন প্রেসিডেন্টের পদ। সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় মিসর সেখানে ১০ হাজার সৈন্য পাঠায়। জায়েদি অভিজাতরা পার্বত্য অঞ্চলের দিকে আস্তানা গড়ে তুলতে থাকে। সে সময় সৌদি আরব অভিজাতদের সহযোগিতা করতে থাকে মিসরের বিরুদ্ধে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর সৌদি আরব আর মিসর একটা সমঝোতায় চলে এলে ইয়েমেনে রিপাবলিকানদের জয় হয়। কিন্তু ইয়েমেন রিপাবলিকেও রাজনীতি স্থিতিশীল ছিল না। জেনারেল আলি আবদুল্লাহ সালেহ ১৯৭৮ সালে একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। পরবর্তী ৩৩ বছর ধরে সালেহ ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। তার সময়েই ১৯৯০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনকে একত্র করা হয়। রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল জটিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে আল কায়েদাবিরোধী অবস্থানে উভয়ের সঙ্গে কাজ করেন। আল কায়েদার হামলার পর সালেহ আমেরিকার কাছাকাছি চলে আসে। যদিও সেটা দীর্ঘ হয়নি।

প্রেসিডেন্ট সালেথের সময়েই ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দ্য বিলিভিং ইয়ুথ, যার শীর্ষে ছিলেন হোসাইন আল হুথি। প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল জায়েদি ধারাকে পুনরায় জীবিত করা। এজন্য তারা বিভিন্ন ক্লাব ও ক্যাম্প করতে থাকে। ১৯৯৪-৯৫ সালে ২০ হাজার ছাত্র তাদের ক্যাম্পে যোগ দেয়। তাদের সামনে ছিল লেবানিজ আলেম মুহম্মদ হোসাইন ফাদলাল্লাহ ও হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহর বক্তব্য। শুরুর দিকে সালেহ নিজেও হুথিদের সমর্থন দিতেন। মূলত ইয়েমেনের মাটিতে বাইরের শক্তির আক্রমণের প্রতিক্রিয়া ছিল হুথি। ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট আমলের দুর্নীতি, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ তাদের মধ্যে প্রতিরোধপ্রবণতা দাঁড় করিয়েছে। এদিকে হুসাইন আল হুথিও ছিলেন সফল ক্যারিশম্যাটিক নেতা। ২০০৩ সালে আমেরিকা ইরাকে হামলা চালালেই তিনি ও তার অনুসারীরা নড়েচড়ে বসেন। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন দেন সালেহ, যদিও ইয়েমেনের অধিকাংশ জনগণ ছিল এর বিরুদ্ধে। সুযোগটি কাজে লাগান আল-হুথি। জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাস্তায় নামিয়ে আনেন। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ধ্বংস কামনা স্লোগানে পরিণত হয়। হিজবুল্লাহ আগে ইসরায়েলি বাহিনীকে পরাজিত করেছিল। তারা হুথিদের জন্য পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ২০০৩ সালে সালেহ হুথিবিরোধী অভিযান চালান। ২০০৪ সালে তার সৈন্য হুসাইন আল হুথিকে নিহত করতে সক্ষম হন। আন্দোলন দমাতে ইয়েমেনি বিমানবাহিনী ও সৈন্যদের ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি সালেহকে সহযোগিতা দিতে থাকে। তার পরও হুথি যোদ্ধাদের পরাজিত করা যায়নি। নিজেদের তারা প্রমাণ করে চলেছে বছরের পর বছর। কোটি ডলার ব্যয় করে চালানো হরেক কিসিমের অভিযানের ব্যর্থতা সৌদি আরবের জন্য ছিল লজ্জাজনক। 

২০১১ সালে আরব বসন্তে সালেহের বিরুদ্ধে ইয়েমেনজুড়েই আন্দোলন হয়। হুথিরা দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সাআদা দখলে নিয়ে সালেহের শাসনের অবসানের দাবি করে। উপরাষ্ট্রপতি আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হন সালেহ, তবে সে সময় তার সরকারের আর তেমন জনপ্রিয়তা ছিল না। ২০১৪ সালে রাজধানী সানার বিভিন্ন অংশ দখলে নেয় হুথিরা। পরের বছরের শুরুতে তারা রাষ্ট্রপতির বাসভবনও দখল করে নেয়। হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। হুথিরা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে থাকে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেয়েছে সহযোগিতা। ক্রমে তারা প্রধান প্রধান বন্দর হোদেইদাহ ও এডেন দখলে নেয়। সৌদি আরবের রাজা সালমানের জন্য বিষয়টি ছিল উদ্বেগজনক। ওবামা প্রশাসন সমীকরণটিকে আরো জটিল করে তোলে। সৌদি আরব হাদির সহযোগিতায় শুরু করে অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম। তাতে যোগ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও অন্যান্য মিত্র। ওমান ও পাকিস্তান যুদ্ধের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে অপারগতা জানায়। সে সময় রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্স (আরএসএএফ) বিপুল হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ইয়েমেনের মাটিতে। সৌদি আরবের অবরোধের সূত্র ধরেই মানবিক সংকট দেখা দেয় অঞ্চলটিতে। লাখো ইয়েমেনি অভুক্ত ও অনাহারে জীবনযাপন করে। পুতুল শাসক হাদি কিন্তু তখন রিয়াদে অবস্থান করছেন। কিন্তু সৌদি আরবের এ প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। রিয়াদ হুথি যোদ্ধাদের ইরানীয় পুতুল হিসেবে হাজির করতে চাইলেও ইয়েমেনিদের বড় অংশই তাদের দেশপ্রেমিক গণ্য করে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও আমেরিকাকে দেখে শত্রু ও ইসরায়েলের রক্ষাকর্তা হিসেবে। সৌদি আরবের এ অভিযানের সূত্র ধরে আরো কাছাকাছি আসে হুথি, হেজবুল্লাহ ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর নিকি হ্যালির ২০১৭ সালে দেয়া তথ্যানুসারে, হুথিরা যেসব লক্ষ্যমাত্রায় আঘাত হানছে, তাতে তেহরানের মাসে ব্যয় হয়েছে কয়েক মিলিয়ন ডলার মাত্র। কিন্তু রিয়াদের ব্যয় হয়েছে মাসে ৬ বিলিয়ন ডলার। অবশেষে ২০২২ সালে এসে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ছয় মাস পর সে চুক্তি ভেঙে গেলেও তারা আগের মতো আর তুমুল যুদ্ধে জড়ায়নি। ইয়েমেন যুদ্ধ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে হুথিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ থেকে তাদের দখল ছেড়ে দিয়েছে। তারা সৌদি আরবের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তিতে যেতে চাইছে, যাতে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ও তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে।

সমুদ্র মাইন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনসহ অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র ও কারিগরি সুবিধা দিয়ে হুথিদের সহায়তা করে ইরান। ইরানের ‘‌অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হুথিরা। অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স হলো যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে ইরানের নেতৃত্বে গঠিত আঞ্চলিক সামরিক জোট। প্রথম দিকে ইরান থেকে আলাদা আলাদা সরঞ্জাম চোরাপথে ইয়েমেনে এনে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরি করত হুথিরা। তবে পরবর্তী সময়ে তাদের যুদ্ধাস্ত্রের বেশ উন্নতি ঘটেছে। তাদের প্রযুক্তি লোহিত সাগরে বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম। ভূগোল ও প্রযুক্তিগত দিক বিচারে হামাস কিংবা হিজবুল্লাহর মতো হুথিরা ততটা শক্তিশালী নয়, কিন্তু লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে তাদের হামলা ইসরায়েল ও এর মিত্রদের বেশ সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে। সাগরের এ অংশের অন্যরকম গুরুত্ব রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ইয়েমেন উপকূলের বাব-এল-মান্দেব থেকে মিসরের উত্তরাঞ্চলে সুয়েজ খাল পর্যন্ত বিস্তৃত এ সাগর। বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটা অংশই এ পথ দিয়ে যায়। ২০২১ সালে ‘‌এভার গিভেন’ নামে একটি জাহাজ সুয়েজ খালে আটকে পড়ায় প্রায় এক সপ্তাহ এ পথে বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য সরবরাহ স্থগিত থাকে, যাতে বিশ্ব পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও লাগে ভাটার টান।

২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ টার্গেট করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। হুথিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় খাবার ও ওষুধ প্রবেশ করতে না দিলে তারা থামবে না। এতে বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে জন্ম নিয়েছে নতুন সংকট। বিশ্ব বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। হুথি যোদ্ধাদের হামলা এড়াতে চাইলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকা হয়ে অধিকতর দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে, তাতে উড়োজাহাজ খরচও বেড়ে যাবে বহুগুণ। পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের দামও বাড়িয়ে দেবে। করোনা মহামারী-পরবর্তী মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সংকটে রয়েছে বিশ্ব। সেখানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরের সংকট। জায়েদি বিশ্বাসের পুনর্জাগরণ ও ইয়েমেনকে বিদেশী প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা দলটি এখন কেবল ইয়েমেনের রাজনীতিতে না; বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে উঠেছে।

আহমেদ দীন রুমি: লেখক