এ নিবন্ধটিতে ষাটের দশকে স্বাধীনতার জন্য ধীরে ধীরে তেতে ওঠা ঢাকার কথা বলা হয়নি; বাষট্টির হামুদুর রহমান কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা নয়, ছয় দফা দাবি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা নয়, এমনকি ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের কথাও নয়।
সাধারণ পাঠকের ভালো লাগবে ও আগামী দিনের গবেষক গবেষণায় উৎসাহিত হতে পারেন বিবেচনা করে কেবল কিছু অরাজনৈতিক তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ তথ্য অন্তত ৫০ বছরের পুরনো, অধিকাংশ তথ্যই ১৯৬১-৬৭ সময়ের। উল্লেখ্য, ১৯৬১-এর আদমশুমারিতে ঢাকার জনসংখ্যা ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭১২। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৭ ও নারী ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।
ষাটের দশকে ঢাকার ব্যাংক
ঢাকায় তখন ১৩টি দেশী ও পাঁচটি বিদেশী ব্যাংক চালু ছিল। দেশী ব্যাংকগুলো হচ্ছে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক, ইস্ট পাকিস্তান প্রভিন্সিয়াল কো-অপারেটিভ ব্যাংক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব পাকিস্তান ও এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব পাকিস্তান।
বিদেশী ব্যাংক
স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল অ্যান্ড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক লিমিটেড ও অস্ট্রেলেশিয়া ব্যাংক লিমিটেড।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার আগে ঢাকায় কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক ছিল না। একমাত্র ইম্পেরিয়াল ব্যাংক (পরবর্তী সময় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় রূপান্তরিত) সরকারের ট্রেজারির কাজ ও অন্যান্য সরকারি লেনদেন করত।
ঢাকার আমদানিকারক
ষাটের দশকে ঘড়ি আমদানি করত ১৫টি প্রতিষ্ঠান: আল্লামা ওয়াচ কোম্পানি লিমিটেড, বস্টন ওয়াচ কোম্পানি, কমরেড ওয়াচ কোম্পানি, একবাল ওয়াচ কোম্পানি লিমিটেড, ফেবার-লিউবা এজেন্সি, এইচএম সিদ্দিক অ্যান্ড সন্স, লিমটন ওয়াচ কোম্পানি, ম্যাডোরিনা, অলিম্পিয়া ওয়াচ কোম্পানি, ইস্ট পাকিস্তান কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন হার্ডওয়্যার মার্ট, এমএ হাসান অ্যান্ড সন্স, এম বরকত আলী অ্যান্ড কোম্পানি, ম্যাকনিল অ্যান্ড কিলবার্ন কোম্পানি ও এম মাসুদ রাজা অ্যান্ড কোম্পানি।
দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের আমদানিকারক ছিল সাতটি প্রতিষ্ঠান: জি আথার্টন অ্যান্ড কোম্পানি, গ্রেট ইস্টার্ন ট্রেডার্স, ইস্টার্ন ট্রেডিং কোম্পানি, এমএইচ সিদ্দিক অ্যান্ড সন্স, জেডএ আনসারি অ্যান্ড কোম্পানি, লিপটন (পাক) লিমিটেড ও টার্নার গ্রাহামস।
তখন গাড়ি আমদানিকারক ছিল পাঁচটি প্রতিষ্ঠান: জেমস ফিনলে অ্যান্ড কোম্পানি, পাক-বে অ্যান্ড কোম্পানি, ডিয়েনফা মোটরস, রশিদ মোটরস, নাভানা ট্রেডার্স ও মডার্ন মোটরস।
মোটরসাইকেল ও স্কুটার আমদানি করত আটটি প্রতিষ্ঠান: আকবর আলী অ্যান্ড ব্রাদার্স, বিপি সদরউদ্দিন অ্যান্ড ব্রাদার্স, বোম্বে মোটরস অ্যান্ড সাইকেল কোম্পানি, হাসাবি অ্যান্ড কোম্পানি, ক্রিসেন্ট সাইকেল অ্যান্ড মোটর কোম্পানি, আল মদিনা স্টোরস, নিউ সাইকেল মার্ট ও পাক সাইকেল অ্যান্ড মোটর কোম্পানি।
ঢাকার পেঁয়াজ-মরিচ
সে সময় ঢাকা জেলায় ছয় হাজার একর জমিতে মরিচ চাষ হতো এবং ১ হাজার ৬৫০ টন মরিচ উত্পন্ন হতো। পেঁয়াজ ও রসুনের জন্য খ্যাত ছিল জেলার তিনটি থানা: নবাবগঞ্জ, কাপাসিয়া ও রায়পুরা (বর্তমানে কেবল নবাবগঞ্জ ঢাকা জেলার অন্তর্গত; কাপাসিয়া গাজীপুর জেলায় ও রায়পুরা নরসিংদী জেলায়)। ঢাকার ৭ হাজার ১০০ একর জমিতে ১৫ হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ ও ২ হাজার ১০০ একর জমিতে ২ হাজার ৭০০ টন রসুন উত্পন্ন হতো। অন্যান্য মসলা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় ২ হাজার ৪০০ একরে উত্পন্ন হতো আর এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩২৫ টন।
ঢাকার ১ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ একর জমিতে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ বেল পাট উত্পন্ন হয়। হিসাবটি ১৯৬৪ সালের। এ সময় সবচেয়ে পাটের দাম ভালো ছিল। প্রতি মণ ৭০ টাকা। ১৮৮৫ সালে এ দাম ছিল ৮ আনা অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৫০ টাকা।
গৃহনির্মাণসামগ্রীর বাজারদর
১৯৫৮-৬১ সময়ে গৃহনির্মাণসামগ্রীর দাম শতকরা ১৫ ভাগ বেড়ে যায়। শ্রমিকের মজুরি বাড়ে ৩৫ ভাগ আর ইট-সিমেন্ট আনার পরিবহন খরচ বাড়ে ১৯ ভাগ। সব মিলিয়ে গৃহনির্মাণ ব্যয় বেড়ে যায় ২১ ভাগ। ১৯৬১ সালের বাজারদর অনুযায়ী গৃহনির্মাণসামগ্রীর দাম উল্লেখ করা হলো, পাশাপাশি ব্র্যাকেটে যে দাম লেখা হলো তা ১৯৫৮ সালের।
* প্রথম শ্রেণীর ইট প্রতি হাজার ৯৯.৫৪ টাকা (৮৭)
* সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ (আসাম-বেঙ্গল কোম্পানি) ৯.৪৮ টাকা (৮.৪০), সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ (জাপানি) ১০.১১ টাকা (৮.০৬)
* বালি প্রতি ১০০ ঘনফুট ৪৩.৬০ টাকা (৩২.৬২)
* সেগুন কাঠ (চিটাগং টিক) প্রতি ঘনফুট ৩১.৬১ টাকা (২৪.০৭)
* এমএস রড, বেড় আট ভাগের তিন ইঞ্চি প্রতি হন্দর ৫৩.১৬ টাকা (৫৪.১৬)
* রঙ বেড় অক্সাইড বিদেশী প্রতি পাউন্ড কৌটা ১.৬৮ টাকা (১.৭৬); রঙ (সবুজ) প্রতি গ্যালন (পাকিস্তানি) ৩৪.১২ টাকা (৩১.৮২)
* টাইলস (প্রতি বর্গফুট) ৩.২৮ টাকা (২.১৯)
* জিআই পাইপ (আধা ইঞ্চি ব্যাসার্ধ প্রতি ফুট) ১.২৪ টাকা (০.৭৮)
* কংক্রিট পাইপ (৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধ প্রতি ফুট) ৩.০২ টাকা (২.৮৮)
* বাঁশ (প্রতি ১০০) ৪৩.৫৬ টাকা (৫৪.৮০)
* ঘরের টিন (২৪ গজি প্রতি দুই হন্দরের বান্ডিল ১৬৯ টাকা (১৪৮.৪০)
* দড়ি (প্রতি মণ) ১১৭.৯৭ টাকা (৯০.০৯)
লক্ষণীয় ১৯৬১-তে বাঁশের দাম বেশ কমে আসে।
স্বর্ণের দাম
১৯৫৫-৫৬ অর্থবছরে স্বর্ণের গড় দাম ছিল প্রতি ভরি ১১৯.৬৫ টাকা। তারপর দাম বাড়তে থাকে। ১৯৬০-৬১-তে দাম বেড়ে ১৬৫.৮৯ টাকায় পৌঁছে। তারপর আবার দাম পড়তে থাকে। ১৯৬২-৬৩-তে প্রতি ভরির দাম ১৩৯ টাকা। দাম কমার দুটো কারণ দেখানো হয়েছে। প্রথমত, চাহিদা হ্রাস পায়। দ্বিতীয়ত, পাটের দাম নেমে যাওয়ায় স্বর্ণের ক্রেতাদের হাতে নগদ টাকা কম।
রেলস্টেশন ও রেলপথ
স্বাধীনতার (১৯৪৭) পর ঢাকা বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্রভূমি হয়ে ওঠায় রেলওয়ের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়। ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ রেলওয়ে বিভাগকে গ্রহণ করতে হয়েছে। ১৯৫২ সালে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ফুলবাড়িয়া থেকে সরিয়ে কমলাপুরে স্থাপন করা হবে এবং তেজগাঁও ও গেন্ডারিয়া থেকে ডাইভারসন লাইন এনে এখানে সংযুক্ত করা হবে। কিন্তু আর্থিক সংস্থান করতে না পারায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। ১৯৫৭ সালে পুনরায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমান ফুলবাড়িয়া স্টেশনের উন্নয়ন করা হবে। চারটি ওভারহেড ব্রিজ তৈরি করে নবাবপুর রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, নীলক্ষেত রোড ও ময়মনসিংহ রোডের সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করা হবে। ১৯৫৮-তে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর দ্বিতীয় পরিকল্পনা বাতিল করে আবার কমলাপুরে দ্রুত কাজে হাত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং বাস্তবিকই ১৯৬০ সালে কাজ শুরু হয়। প্রথম বছরের বরাদ্দ ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পূর্ব পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে সমানভাবে ভাগ করে দেবে। প্রকল্পটি ১৯৬৭ সালে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হয়। পাকিস্তানের সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের মিলনে মূল ভবনের নকশা করা হয়। স্টেশনের প্লাটফর্মটি হবে পাকিস্তানের দীর্ঘতম, তিন হাজার ফুট।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলওয়ের প্রথম স্টেশন নারায়ণগঞ্জ, গাড়ি ঢাকার ওপর দিয়ে ময়মনসিংহ যায়। ঢাকা জেলায় এ লাইনের স্টেশনগুলো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, চাষাঢ়া, ফতুল্লা, গেন্ডারিয়া, ঢাকা (মোট ১০ মাইল), তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, টঙ্গী (মোট ২৩ মাইল), ধীরাশ্রম, জয়দেবপুর, রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুর, সাতকামাইর ও কাওরাইদ। টঙ্গী থেকে ভৈরব বাজার যে লাইনটি গিয়েছে, সে লাইনে ঢাকা জেলার অন্তর্গত স্টেশনগুলো হচ্ছে টঙ্গী, পুবাইল, আড়াইখোলা, ঘোড়াশাল, জিনারদী, নরসিংদী খানাবাড়ী, মেথিকান্দি ও দৌলতকান্দি। ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং জগন্নাথগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ ও বাহাদুরাবাদ-তিস্তামুখ ঘাট ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করে।
ঢাকার মধ্যে লঞ্চ রুট
ঢাকা জেলায় লঞ্চের সংখ্যা ৬৩৩। সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটে যাত্রী টানার প্রতিযোগিতা দেখলে অভিভূত হতে হয়। প্রথমত, লঞ্চের ভাড়া তুলনামূলক কম এবং লঞ্চ ব্যবসাটি তুলনামূলক বেশি লাভজনক।
ঢাকা থেকে লঞ্চ ভাড়ার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। প্রথম ৩০ মাইল ৩.৪ পয়সা (মাইলপ্রতি), পরবর্তী ৩০ মাইল ৩ পয়সা (মাইলপ্রতি), ৬০ মাইলের পরবর্তী যেকোনো দূরত্বের জন্য মাইলপ্রতি ২.৬ পয়সা।
স্বল্প দূরত্বে মাইলপ্রতি ৪ পয়সার বেশি নেয়া যাবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মাইলপ্রতি সর্বোচ্চ ৪.৪ পয়সা নেয়া যেতে পারে।
ঢাকার সদরঘাট থেকে জেলার মধ্যে যেসব জায়গায় লঞ্চঘাটে লঞ্চ ভেড়ে, যাত্রী ও পণ্য ওঠানামা করে, সেগুলো হচ্ছে আগলা, তালতলা, নাগেরহাট, হাসারা, গোয়ালিমেন্দ্রা, বান্দুরা, ভাগ্যকুল, ভেদরগঞ্জ, হলদিয়া, এলাসিন, সিরাজদীখান, জয়পাড়া, নাগরপাড়া, দীঘিরপাড়, ঝিটকা, ঘিওর ও মানিকগঞ্জ।
নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা জেলার অভ্যন্তরে সাতটি নির্ধারিত ঘাটে লঞ্চ যায়। তালতলা, লাখপুর, চরসিন্দুর, জাহানপুর, গোপালদী, কাওরাইদ ও সিরাজদীখান।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ঢাকার সোনারগাঁ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৬৭ মাইল দীর্ঘ একটি জলপথ কথা মা হুয়ান লিখে গেছেন।
ঢাকার রাস্তাঘাট
১৭৬৪ সালে নায়েবে নিজাম রেজা খান রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ২ হাজার ৩৮০ টাকা খরচ করে ঢাকা থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরি করেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় তেজগাঁওয়ের অনেক জায়গা দুর্গম এবং সেখানে পৌঁছা কষ্টকর বলে ঢাকার কালেক্টর মন্তব্য করেছিলেন।
ষাটের দশকে ঢাকার সিটি রোডের মোট দৈর্ঘ্য ৪৮ দশমিক ২৯ মাইল। ৪৩টি রাস্তাকে সিটি রোড বিবেচনা করা হয়। রাস্তার নামের পাশে বন্ধনীতে দৈর্ঘ্য মাইল হিসেবে উপস্থাপন করা হলো:
টয়েনবি সার্কুলার রোড (.৫৫ মাইল), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ভেতরের সব রাস্তা (২), জিন্নাহ এভিনিউ (.৫০), তোপখানা রোড (.৭৫), সার্কুলার (আউটার, ইনার ও মিডল) রোড (৪.৫০), ইস্কাটন রোড (.৭৫), তেজগাঁও শিল্প এলাকার ভেতরের সব রাস্তা (১৩), আইয়ুব এভিনিউ (.৫০), বেইলি রোড (.৩০), মগবাজার রোড (১.০৬), ময়মনসিংহ রোড (১.৩০), মিন্টো রোড (.৫৭), নীলক্ষেত রোড (.৫০), ফুলার রোড (১.০৮), ঢাকেশ্বরী রোড (.৪৩), সেক্রেটারিয়েট রোড (.৭২), কলেজ রোড (.২৭), পিলখানা রোড (.৯৪), দেওয়ান বাজার রোড (.৩০), ফিনিক্স রোড (.৩৯), স্টেশন রোড (.১০), কালিবাড়ী রোড (.১০), শিববাড়ী রোড (.০৬), অরফানেজ রোড (.৪২), পোস্ট অফিস রোড (.১৬), ঢাকেশ্বরী ও আজিমপুরের মধ্যবর্তী রোড ১ ও রোড ২ (.২০), পার্ক রোড (.১৪), হেয়ার রোড (.৪৮), রমনা রোড (১.১৪), সিটি রোড (.৪১), র্যাডিয়াল রোড (১.৫০), স্যাভেজ রোড (.২৫), সাতমসজিদ রোড (২), আজিমপুর রোড (.৮৯), গভর্নমেন্ট হাউজ রোড (.২৩), দিলকুশা রোড (.৭১), আবদুল গণি রোড (.৪১), হলি ফ্যামিলি রোড (.৫৪), এলিফ্যান্ট রোড (.৭২), ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড (৫) ও গ্রিন রোড (১.৩১)।
১৯৪৭ সালে ঢাকায় প্রথম বাস সার্ভিস চালু হয়, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ। ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে ঢাকা মোটর ভেহিকল অ্যাসোসিয়েশনের বাসের সংখ্যা ছিল ১৪০। এর মধ্যে ৮০টি শহরের ভেতর চলাচল করে। ইস্ট পাকিস্তান রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (ইপিআরটিসি) বাস ঢাকা শহরে ছয়টি রুটে চলাচল করে। মতিঝিল-গুলশান ভায়া ইডেন বিল্ডিং, গুলিস্তান-মিরপুর-১২ নম্বর সেকশন ভায়া সেকেন্ড ক্যাপিটাল, মতিঝিল-মোহাম্মদপুর ভায়া নিউমার্কেট, গুলিস্তান-মিরপুর-১২ ভায়া নিউমার্কেট, নিউমার্কেট-ক্যান্টনমেন্ট ভায়া গ্রিন রোড ও মতিঝিল-নিউমার্কেট ভায়া ফার্মগেট।
ইপিআরটিসির একটি বিলাসবহুল বাস ভাড়ায় নেয়া যায়। প্রথম ৪ ঘণ্টার জন্য ঘণ্টাপ্রতি ১০০ টাকা, পরবর্তী ৪ ঘণ্টার জন্য ঘণ্টাপ্রতি ৭৫ টাকা ও পরবর্তী ৪ ঘণ্টা ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা করে ভাড়া প্রদান করতে হয়।
ঢাকার নীল শিল্পের ধ্বংসাবশেষ
১৮০০ সালে ঢাকায় ছোট্ট দুটি নীল কারখানা ছিল। ১৮৩৩ সালে কারখানার সংখ্যা ৩৩-এ পৌঁছল। তখন উৎপাদন হতো আড়াই হাজার মণ নীল। চাষীদের হাতে আগাম ঋণ পৌঁছেছে ৩০ হাজার পাউন্ড। ইউরোপীয় শিল্প বিকাশে একসময় সব নীল কারখানাই গুটিয়ে নিতে হয়। এখনো যেসব নীল কুঠির কিছু অবশেষ ঢাকায় রয়েছে, এমন কারখানার সংখ্যা ১১। কেরানীগঞ্জের আটি, সাভারের ফুলবাড়িয়া-দুলিগ্রাম, নবাবগঞ্জের জয়পাড়া-খালিশপুর, মানিকগঞ্জের বুড়ারিয়া-তিল্লাঙ্গ, ঘিওরের মির্জাপুর-নাথপুর, হরিরামপুরের আজিমনগর-কবিরপুর, মানিকগঞ্জের সেরাজাবাজ-বালাসিয়া, শ্রীনগরের চররামানুজ-দেগুলি, রূপগঞ্জের রামচন্দ্রদী-লাদুরচর, রায়পুরের গজরারিয়া-মামদাবাদ।
বুলবুল সোপ ফ্যাক্টরির সাবান
ষাটের দশকের ঢাকায় তিনটি প্রধান সাবান উৎপাদনকারী কারখানা হচ্ছে ওয়াটারওয়েজ রোডের কমান্ডার সোপ ফ্যাক্টরি. তেজগাঁও শিল্প এলাকায় কোহিনূর কেমিক্যালস ও ইমামগঞ্জের সিরকো সোপ কেমিক্যাল।
সাবান উৎপাদনের জন্য ঢাকার খ্যাতি ছিল। বড় গামলায় তিলের তেল, চর্বি, চক পাউডার ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য সিদ্ধ করে ফুটিয়ে সাবান তৈরি করা হতো। ঢাকা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ ধরনের অন্তত ১০০ কারখানা ছিল। সাবানের কারিগররা সবাই ছিলেন মুসলমান এবং তারা ফরিদাবাদ ও ফরাশগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন।
কিন্তু ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর আমদানি করা এবং কারখানায় তৈরি সাবানের সরবরাহ ও চাহিদা দুই-ই বেড়ে গেলে কুটির শিল্প হিসেবে যে সাবান শিল্প গড়ে উঠেছিল, তা একেবারে ভেঙে পড়ে এবং অল্পদিনের মধ্যেই সবাই ব্যবসা গুটিয়ে নেন।
ঢাকা শহরের প্রাচীনতম সাবান কারখানাটির নাম বুলবুল সোপ ফ্যাক্টরি এবং তা গেন্ডারিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯০৬-০৭ সালে এ কারখানার সাবান ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিবিশনে গোল্ড মেডেল পায়। এর মালিক ছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্র সাহা, সত্য মোহন দাস ও অক্ষয় কুমার দাস। এ কারখানার ব্যবস্থাপক সরজেন্দ্র গুহ জাপানের একটি সাবান কারখানায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। এমডব্লিউ তাকেতা নামে একজন জাপানি বুলবুল সোপ ফ্যাক্টরিতে বড় বেতনে চাকরি করতেন। পরে তিনি নিজেই নিমতলায় একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
স্বাধীনতার পর কলকাতা ও বিদেশ থেকে আসা সাবান বুলবুল ও তাকেতার বাজার ছিনিয়ে নেয়। ফলে দুটো কারখানাই বন্ধ হয়ে যায়।
বাটার উৎপাদন দৈনিক ৩ হাজার ২০০ জোড়া জুতো
১৯৬২ সালে বাটা সু ফ্যাক্টরি টঙ্গীতে কারখানা খোলে এবং দ্রুত উৎপাদন শুরু করে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদন ছিল দৈনিক ৩ হাজার ২০০ জোড়া জুতো। ঢাকার পাকা সু ইন্ডাস্ট্রি বছরে ৫ হাজার ৪০০ জোড়া ও ঢাকা বুট ফ্যাক্টরি বছরে ৭ হাজার ৭০০ জোড়া জুতো বাজারে আনে। এছাড়া ছোট-বড় আরো ২০টি কারখানায় নিয়মিত জুতো তৈরি হচ্ছে।
মাদ্রাজ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শচীন্দ্রনাথ ঘোষ ঢাকায় প্রথম ট্যানারি খুললেন। তার মূলধন ছিল ৫০ হাজার টাকা। ঢাকার বেপারিরা চামড়া পাঠাতেন কলকাতায়। এবার তারা ঢাকামুখী হতে শুরু করলেন। লক্ষ্মীবাজার, মালিটোলা ও নবাবপুরে শতাধিক চর্মকার জুতো বানাতেন। চামড়ার দোকান ছিল চার-পাঁচটি। শচীনবাবুর ট্যানারিতে উৎপাদন শুরু হওয়ামাত্রই তা একটি ভালো বাজার পেয়ে গেল। এদিকে ১৯০৬-১১-এর স্বদেশী আন্দোলন বিদেশী সামগ্রী বর্জনের প্রেরণা দিল। হুইটম্যান অ্যান্ড সন্স কোম্পানি কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার জুতো আমদানি করত। কিন্তু স্বদেশী আন্দোলন চলাকালে তারা ১০০ টাকার জুতোও বিক্রি করতে পারেনি।
হুইটম্যান অ্যান্ড কোম্পানির নামটা বিদেশী হলেও এটি পুরোপুরি দেশী মালিকানাধীন। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পরও কাঁচা চামড়ার অধিকাংশই কলকাতার ট্যানারিতে যেত। ১৯৬২-তে ঢাকায় ট্যানারির সংখ্যা ২৬-এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে এশিয়া ট্যানারিজ, চাইনিজ লেদার, ঢাকা ট্যানারিজ, ইস্ট পাকিস্তান ক্রোম ট্যানারিজ, ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট পাকিস্তান ট্যানারি, দিলকুশা ট্যানারি, ইমাম ট্যানারি, ওরিয়েন্ট ট্যানারি, এসএনএ ট্যানারিজ, শালিমার লেদার করপোরেশন, তাজ ট্যানারি, ওমর ট্যানারি ও ফেরদৌস ট্যানারি।
ফ্যাশনদুরস্ত ও অভিজাত দোকানপাট
ঢাকার সবচেয়ে ফ্যাশনসচেতন, আধুনিক ও অভিজাত শপিং সেন্টার চারটি: জিন্নাহ এভিনিউ, বায়তুল মোকাররম, স্টেডিয়াম চত্বর ও নিউমার্কেট।
রমনা গ্রিন, রেসকোর্স, আউটার স্টেডিয়াম ও ধানমন্ডি লেক এলাকা বাগানসমৃদ্ধ। এখানে হাঁটার ও বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরনো শহরে বাহাদুর শাহ পার্ক, আরমানিটোলা পার্ক ও আরো কিছু ছোট পার্ক রয়েছে।
শহরে চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হল রয়েছে: বলাকা, গুলিস্তান, মুন ও স্টার। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আরো আটটি সিনেমা হল আছে।
তিন নেতার আকর্ষণীয় স্মৃতিসৌধ এ সময় নির্মাণ করা হয়। এ কে ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেন ২৭ এপ্রিল ১৯৬২, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৩ ও খাজা নাজিম উদ্দিন ২২ অক্টোবর ১৯৬৪।
১৯৬৫ সালে ঢাকার পুলিশ, থানা, ফাঁড়ি ও জেল
একজন এসপি, চারজন এডিশনাল এসপি (শহর, অপরাধ, শিল্পাঞ্চল ও সদর দপ্তর), দুজন এসডিপিও (সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ), ছয়জন ডিএসপি, ২৮ জন ইন্সপেক্টর, ১৯৪ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৪৯ জন সার্জেন্ট, ১৭৬ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর, ২০৬ জন হেড কনস্টেবল, ৫৯ জন নায়েক ও ৩ হাজার ৩৭৪ জন কনস্টেবল ঢাকা জেলায় কর্মরত। প্রতি ১ হাজার ৫১০ জন নাগরিকের জন্য একজন কনস্টেবল। ১৯৬৩-৬৪ সালে ঢাকা জেলার পুলিশের জন্য প্রকৃত ব্যয় ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৬ টাকা।
পুলিশকে সহায়তার জন্য জেলায় ৪৫৪ জন দফাদার ও ২ হাজার ৪২৫ জন চৌকিদারও কর্মরত। তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সার্কেল অফিসারের (উন্নয়ন) অধীনে কাজ করেন।
ঢাকা সদর মহকুমার থানাগুলো হচ্ছে কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, লালবাগ, রমনা, তেজগাঁও, কেরানীগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ, জয়দেবপুর, টঙ্গী, সাভার, কালিয়াকৈর, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও দোহার। নারায়ণগঞ্জ মহকুমার থানাগুলো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, বৈদ্যারবাজার, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, নরসিংদী, রায়পুরা, শিবপুর ও মনোহরদী।
মুন্সীগঞ্জের থানা: মুন্সীগঞ্জ, গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ি, সিরাজদীখান, শ্রীনগর ও লৌহজং।
মানিকগঞ্জের থানা: মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া, সিঙ্গাইর, শিবালয়, ঘিওর, নতপুর ও হরিরামপুর। এ জেলায় তখন ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ছিল: বাবুবাজার, বংশাল, নবাবগঞ্জ, চক, লালবাগ, আজিমপুর, নীলক্ষেত, নবাবপুর, গেন্ডারিয়া, ফরিদাবাদ, ওয়ারী, কাকরাইল, বাবুপুরা, নারিন্দা, নয়াসড়ক, কায়েতটুলি, ডেমরা, মতিঝিল, ধানমন্ডি পূর্ব, ধানমন্ডি পশ্চিম, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, শীতলক্ষ্যা, টানবাজার, চাষাঢ়া, বন্দর, মদনগঞ্জ, ধামগড়, হাজীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ।
১৯৬৪ সালের পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার অপরাধচিত্র: ডাকাতি ১৫২, দস্যুতা ১১২, সিঁধেল চুরি ২ হাজার ৩৯৯, চুরি ৩ হাজার ১৩৬, খুন ১৬৬, দাঙ্গা ১ হাজার ৮১ ও অন্যান্য অপরাধ ২ হাজার ১৪৬টি।
মোগল আমলেও ঢাকায় জেলখানা ছিল। ১৭৭৫ সালে ঢাকা জেলের ১১০ জন কয়েদির ৯৫ জন শিকল পরা অবস্থায় রাস্তা উন্নয়নের কাজ করত। ১৮৩৭ সালে ঢাকা জেলের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৮০০ করা হয়। ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৯৩১ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। ১৯৬৪ সালে গড়ে দৈনিক অবস্থানকারী কয়েদির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৯১।
বইয়ের সুদিন
১৯৬৫ পর্যন্ত মার্কিন সরকারের সাহায্যপুষ্ট ফ্রাঙ্কলিন বুকস প্রোগ্রাম বিভিন্ন বিষয়ের ১৭৩টি অনূদিত বই প্রকাশ করে। কিছুসংখ্যক বইয়ের নাম উদ্ধৃত করা হলো:
চার বোন চার মন, ডাইনোসরের রাজ্যে, সেকালের আজব জানোয়ার, দানব মাছের আজব কথা, বিচিত্র দেশ আফ্রিকা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার, পোকামাকড়ের দেশে, ফুলের রাজ্যে, শরীর চলে কলের মতো, আলো, অ্যালান পোর শ্রেষ্ঠ গল্প, মাটির নিচে আরেক জগত, আবিষ্কারের খেলাঘর, রহস্যটা জানতে হবে, টেলফোন কী করে কাজ করে, উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু, আমার দেশের রূপকাহিনী, গুড আর্থ, বিদেশী ছোট গল্প, ছোট থেকে বড়, মহীয়সী নারী, চেনা আছে জানা নেই, চলো যাই বই পড়ি, বিশ্বরহস্যে আইনস্টাইন, ধূসর পৃথিবী, বেপরোয়া বালিকা, ইতালির জনক গ্যারিবল্ডি, বিদ্যুতের জয়যাত্রা, রেডিও টেলিভিশনের কথা, বিজন বনের রূপকথা, আরব জাতির ইতিকথা, ছোটদের বিশ্ব ইতিহাস, মহাবীর পরমাণু, শক্তি তোমার হাতের মুঠোয়।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড প্রকাশ করেছে মো. আবদুল জব্বারের খগোল পরিচয়, গোলাম মোস্তফার হযরত আবু বকর, দৌলতুন্নেসা খাতুনের সমাজকল্যাণ, মুনির চৌধুরীর পুস্তিকা বেঙ্গলি টাইপরাইটার।
পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ড প্রকাশ করেছে আনিসুজ্জামানের মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য, শামসুর রাহমানের রৌদ্র করোটিতে, আলাউদ্দিন আল আজাদের ক্ষুধা ও আশা, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অন্বেষণ, হাসান আজিজুল হকের সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, আহমেদ রফিকের রঙের আকাশ, হাসান হাফিজুর রহমানের আরো দুটি মৃত্যু।
পাদটীকা: ঢাকার নাম সুবেদার ইসলাম খান করেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর। ষাটের দশকে দ্বিতীয় রাজধানী ঢাকার নাম আমাদের আমলেই হয়েছিল আইয়ুবনগর। নামটি টেকেনি। তখনকার আইয়ুবগেট এখন আসাদগেট।
(ষাটের দশকের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার ও স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইয়ারবুক ভিত্তি করে রচিত)






