[রচনাটি মূলত এয়ার ভাইস মার্শাল কপিল কাকের (অব.) India’s grand strategy for the 1971 War -সংক্ষিপ্ত অনুস্মৃতি। বন্ধনীভুক্ত অংশ অনুবাদকের]
১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে পাকিস্তানে সংকটের যে বিস্ফোরণ তা রাজনৈতিক নয়, আদর্শগতও নয়। জাতিগত ‘ফল্ট লাইনে’ যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে, তার সমাধানে পাকিস্তানের অক্ষমতা বা অনিচ্ছাতে সংকটের মূলটি প্রোথিত। বাঙালি জনগোষ্ঠী পাকিস্তানের লোকসংখ্যার ৬০ ভাগ। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭০-এর নির্বাচন তাদের একটি দুর্লভ সুযোগ এনে দিল। শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের বৈধ দাবিদার হলেন। কিন্তু জুলফিকার আলী ভুট্টোর চাওয়া ছিল অখণ্ড পাকিস্তানের না হলেও অন্তত পশ্চিম পাকিস্তানের অবিসংবাদী নেতা হিসেবে ক্ষমতা নেবেন। তাতে পাকিস্তানের যা ক্ষতি হওয়ার হোক। এখান থেকেই পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটি সবচেয়ে মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হলো।
টিএন কাউল লিখছেন—
পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ভুট্টোর ফাঁদে পা দিল এবং হিটলারের শাসনের পর দেখা যায়নি এমন সহিংসতা নির্যাতন, নিপীড়ন, হিন্দু ও বুদ্ধিজীবী নিধনের আশ্রয় নিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করার এটাই ছিল দ্বিতীয় ট্রিগার। প্রথমটি সেখানকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ। ১৯৭০-এর ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাস-পরবর্তী সরকারের দুর্বল সাড়া ইসলামাবাদের কাছ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবোধকে আরো তীব্র করে তোলে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দুর্বৃত্তায়নের মাঝখানে পাকিস্তান আরো একটি দুষ্কর্ম করে ফেলে। ৩০ জানুয়ারি ১৯৭১ জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিদ্রোহীদের হাইজ্যাক করা ইন্ডিয়ার এয়ারলাইনসের ফকার ফ্রেন্ডশিপ উড়োজাহাজটি উড়িয়ে দেয়। এর পরই ভারত একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের ওপর দিয়ে পাকিস্তানের সব সামরিক-বেসামরিক উড়োজাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করে দেয়। এতে পাকিস্তানের ওপর মারাত্মক আঘাত আসে। এই সিদ্ধান্তের কারণেই অক্টোবর-নভেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সৈন্য ও রসদের সমারোহ ঘটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রজার্স ২৪ নভেম্বর ১৯৭১ প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে বলেন, ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য আর অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাতে ২ হাজার ৫০০ মাইল ঘুরে যেতে হয়, এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার। আমার বিবেচনা বলছে, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।
শরণার্থীর জোয়ার
ভারতের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং কল্যাণের পথে সবচেয়ে বড় হুমকি ২৫ মার্চের পর পাকিস্তান ছেড়ে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর অনিঃশেষ স্রোত। ২১ এপ্রিল সেখানে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ, ১৪ মে তা বেড়ে হলো ১৪ লাখ ৮০ হাজার। অধিকাংশই জড়ো হয়েছে পশ্চিম আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছেন, তারা ‘ভিকটিমস অব ওয়ার’— সামরিক সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। জুলাই নাগাদ শরণার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখ এবং নভেম্বরে ৯০ লাখে পৌঁছাল। পাকিস্তান বেশ সাফল্যের সঙ্গে পূর্ব বাংলার ৮ থেকে ১০ শতাংশ অধিবাসীকে ঠেলে ভারতে পাঠিয়ে দিল। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে ভারতে রফতানি করে দিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকির সৃষ্টি করল। ২৪ মার্চ ইন্দিরা গান্ধী বললেন, ‘যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল, তাই ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় পরিণত হলো।’ ক্রমবর্ধমান শরণার্থী ভারতের আর্থিক অবকাঠামের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করে। ইন্দিরার তত্কালীন রাজনৈতিক সহযোগী পি এন ধরকে স্বীকার করতে হয়েছে, মে মাসে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় তিনি মানুষের দুর্দশার মাত্রা দেখে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন। এ অবস্থায় ভারতের সাড়া কেমন হবে, তিনি তখনই ঠিক করে ফেলেছিলেন।
রঘু রাইয়ের ক্যামেরায় শরণার্থী ১৯৭১
শরণার্থীর উপস্থিতি এবং শরণার্থী আগমনের অব্যাহত ধারা ভারতের জন্য বহুমাত্রিক নিরাপত্তা সংকটের সৃষ্টি করে। বিদ্রোহীদের দমনের নামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকাকে যুদ্ধাঞ্চল বানিয়ে রাখে। প্রথমত. শরণার্থী বেশে বহুসংখ্যক পাকিস্তানি গোয়েন্দা ভারতে প্রবেশ করে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি ও নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত হয়। ১৯৭১-এর আগস্ট নাগাদ আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ৪০০ পাকিস্তানি গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়। দ্বিতীয়ত. ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ পড়ে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। তৃতীয়ত. এমনিতেই যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অস্থিতিশীল রাজ্য হিসেবে পরিচিত, সেখানে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর সমাগম রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়িয়ে দেয়। চতুর্থত. বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতি পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা সৃষ্টি করে। (কপিল কাক যে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন, তা হচ্ছে নক্সালবাড়ি আন্দোলনের ঢেউ এবং এর সঙ্গে বিভিন্ন মতাদর্শের শরণার্থীর সক্রিয় উপস্থিতি ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনা করতে পারে, চলমান আন্দোলনগুলো আরো বেগবান করতে পারে বলে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে।)।
ভারতীয় কর্মকৌশল
ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাকিস্তানের সাংবিধানিক সংকট, সেনা নির্যাতন ও শরণার্থীর স্রোত পর্যবেক্ষণ করছিল। একজন বিদেশী পর্যবেক্ষক বললেন, ভারতীয় মন্ত্রিপরিষদকে মার্চের শেষে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শ ছিল, ভারত পূর্ব বাংলার আশু সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য এখনো প্রস্তত নয়। বাঙালিদের সামরিক সাহায্য করতে হলে তাদের আরো কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে। গ্রীষ্মের শুরুর দিকে পাকিস্তান যখন বুঝতে পারে, ভারত সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নেয়নি, তখন আওয়ামী লীগের বৈধ রাজনৈতিক দাবি না মানার প্রশ্নে আরো অনমনীয় হয়ে ওঠে।
জুনের প্রথম সপ্তাহে রানীক্ষেতের বক্তৃতা এবং শোকসভার ভাষণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্কবার্তা শুনিয়ে দেন। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথাশীঘ্র সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে সমস্যার ‘অন্য ধরনের সমাধান বিবেচনা করতে বাধ্য হতে হবে’। প্রকৃতপক্ষে শরণার্থীদের জন্য সহানুভূতি পৃথিবীর সর্বত্রই প্রকাশিত হয়। আই এন দীক্ষিত লিখেছেন, ‘পূর্ব বাংলার সংকট মোকাবেলার জন্য সরকার দ্বিমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রথমত. পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন জানায়, যাতে পাকিস্তান ১৯৭০-এর নির্বাচনের ম্যান্ডেট মেনে নিতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয়ত. দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন করে। দ্বিতীয় উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান সমর্থনের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। অধিকন্তু পাকিস্তানের পক্ষে চীনের ওকালতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন আঁতাত ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জেমস অলিভারের আঁকা ইন্দিরা গান্ধী
১৯৭১-এর নভেম্বরে ইন্দিরা গান্ধী ছয় দেশ সফরের সময় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত চায় শরণার্থীরা গ্রহণযোগ্য শর্তে অবিলম্বে নিজ দেশে ফিরে যাক। তিনি চান পূর্ব বাংলার মানুষ এবং পাকিস্তান সরকারের মধ্যে একটা সমঝোতা সৃষ্টি হোক, পাকিস্তানের বর্তমান কাঠামোর আওতায় সমঝোতা হবে নাকি পাকিস্তান কাঠামোর বাইরে হবে, শেষদিকে তিনি এটা বেঁধে দেননি। ওদিকে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার বিকল্প পথগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে আসছিল। সৌভাগ্যক্রমে বর্ষা মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়ায় ভারতের চূড়ান্ত কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে জনমত গঠনের সময় পাওয়া যায়।
সংকটের গভীরতা ও শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের অনিশ্চয়তা ভারতকে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভারতীয় লোকসভায় এবং একাধিক রাজ্যসভায় মুক্তিবাহিনীকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা করার, বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার এবং পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করা পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ও কূটনীতিকদের জায়গা দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
ভারতে সামনে তখন দুটো বিকল্প— সরাসরি পশ্চিম পাকিস্তানকে সামরিকভাবে সাহায্য করে পূর্ব বাংলার বিদ্রোহ দমন করা অথবা সরাসরি বাংলাদেশকে সাহায্য করা, যাতে স্বাধীন দেশ হিসেবে এর অভ্যুদয় ঘটতে পারে।
মে-জুন মাসে যখন বোঝা গেল, ভারত সংকটের সামরিক সমাধানের দিকে যাচ্ছে না, তাজউদ্দীনের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার চাপ এলে মিসেস গান্ধী দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘যতক্ষণ না বাংলাদেশীরা তাদের দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে, পৃথিবীকে দেখাতে পারছে যে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে জনগণ তাদের সাথে আছে, ততক্ষণ ভারত সে পথে এগোবে না। ভারতের হস্তক্ষেপ কেবল এই ধারণা দেবে যে, ভারত পাকিস্তানকে ভেঙে দুই টুকরো করে বাংলাদেশে পুতুল সরকার বসাতে চাচ্ছে।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘যখন সময় আসবে, তখন আমরা সাড়া দেব।’
ভারতের ভেতরে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী গণমাধ্যমে এ ধারণা প্রচার করতে শুরু করে যে, পাকিস্তানকে দু’খণ্ড করলে সেখানে ভারতের কোনো জাতীয় স্বার্থ নেই বরং পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করলে দুর্বল অংশের ‘অর্থনৈতিক ও সামরিক দায়’ থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তান বরং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, পাকিস্তানের শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারতের জন্য বড় হুমকি।
একদল মনে করে, পূর্ব বাংলার সংগ্রামী মানুষকে স্বাধীন করতে সহায়তা করলে সঙ্গত কারণেই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সংগ্রামী ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে উসকে দেয়া হবে। কাজেই পাকিস্তানকে কেবল কূটনৈতিক চাপের মধ্যে রাখাই সমীচীন হবে।
কে সুব্রামানিয়াম অবশ্য স্পষ্ট করেই বলেন, ‘প্রভাবিত করার কূটনীতি যখন ব্যর্থ হয়, স্বীকার করতেই হবে শক্তির হুমকি ও শক্তির প্রয়োগ তখন জরুরি হয়ে পড়ে।’
২৫ মার্চ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের সাড়া পর্যবেক্ষণ করলে এটা স্পষ্ট হয় যে, ভারত একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইন্দিরা গান্ধী ও তার মুখ্য উপদেষ্টারা একমত হন যে, ভারতের জাতীয় স্বার্থ যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে যুদ্ধের আশ্রয় নেয়া দরকার হতে পারে।
কে সুব্রামানিয়ামের যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হয় যে, এক কোটি শরণার্থী লালনপালনের যে ব্যয়, যুদ্ধের ব্যয় তার চেয়ে কম। ভারত এই হিসাবটি সনাতন অর্থনীতির লাভ-ক্ষতির বিশ্লেষণ দিয়ে করেনি, সমকালীন পৃথিবীর অনেক যুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কাহিনীও সামনে নিয়ে এসেছে।
ইন্দিরার সঙ্গে তার সেনাপ্রধান স্যাম মানেকশ
১৯৭১-এর অক্টোবরের প্রথম দিকে ইয়াহিয়া খান তার সমর প্রস্তুতির মাধ্যমে যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দেন। পাকিস্তান পশ্চিম সীমান্তের বেসামরিক জনগণকে সরিয়ে সেনা মোতায়েন করতে শুরু করে।
২৫ নভেম্বর ১৯৭১ ইয়াহিয়া খান ঘোষণা দেন, ‘আগামী ১০ দিন আমি রাওয়ালপিন্ডিতে না-ও থাকতে পারি। আমি তখন হয়তো যুদ্ধে লড়ব।’
পাকিস্তান সংকটটিকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে আসে, যেখানে যুদ্ধই হয়ে পড়ে অনিবার্য একমাত্র পছন্দ। ভারতীয় অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব পড়বে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলবে। তার পরও ইন্দিরা গান্ধী সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠতম সিদ্ধান্তটিই নিলেন। যুদ্ধের মাধ্যমেই ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে। শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার জন্য ও তাদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে হবে।
এটা মনে রাখা প্রয়োজন, পাকিস্তানের পশ্চিম বা পূর্বাংশ বা কোনো এলাকা চিরস্থায়ী দখলে রাখার অভিলাষ ভারতের কখনো ছিল না। টি এন কাউল লিখেছেন, জায়গা দখলের জন্য ভারত কখনো অন্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যায়নি। যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করার কৌশলে ভারত বিশ্বাস করে না। ভারত সবসময়ই আন্তর্জাতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১-এর যুদ্ধের আগে, যুদ্ধের সময় এবং যুদ্ধের পর বারবার বলেছেন, পাকিস্তানের বাংলাদেশী ভূখণ্ড দখলে রাখার কোনো পরিকল্পনা ভারতের নেই।
বৈদেশিক সম্পর্কের কর্মকৌশল: বৃহত্শক্তি
১৯৬৬-র তাসখন্দ চুক্তির পর সোভিয়েত ইউনিয়নও পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুসুলভ হয়ে ওঠে এবং ১৯৭১ পর্যন্ত সামরিক সরবরাহ অব্যাহত রাখে। ১৯৬৮ সাল থেকে সোভিয়েত বৈদেশিক নীতিতে এটা স্পস্ট হয় যে ভারত ও পাকিস্তানের কেউ মিত্র না হলেও তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ঠেকাতে সাহায্য করবে। আর চীনের হুমকির বিরুদ্ধে ভারত হয়ে উঠবে প্রধান মিত্র ও সহায়তাকারী।
তবে পাকিস্তান ও চীনের ক্রমাগত হুমকিতে ভারতও উদ্বিগ্ন ছিল। কাজেই পারস্পরিক স্বার্থে সোভিয়েত-ভারত সম্পর্ক আরো নিবিড় হলো। ৯ আগস্ট ১৯৭১ স্বাক্ষরিত হয় ভারত সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার কারণে এ চুক্তি জনগণের কাছে আরো বেশি গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসিত হলো।
অবশ্য এ চুক্তিকে ভারতের জোট নিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে যাওয়া বলে সমালোচনা করা হলো। ভারতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাঁড়াশি আক্রমণ ঠেকাতে এটি ভারতীয় কর্মকৌশল বলে আমেরিকা মনে করল।
চীন ও আমেরিকার পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত-ভারত মৈত্রী চুক্তিকে মনে করা হলো চীন ও আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিকার। ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তির প্রাথমিক প্রেক্ষাপট— এমনকি টাইপ করা কোনো চিঠিও নেই, কেবল হাতে লেখা চিরকুট ও নোট। কিন্তু সোভিয়েত ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে শেষ মুহূূর্তে ডি পি ধরকে প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কোসিগিনের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে বসতে হলো এবং তিনি তাকে উপমহাদেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ বোঝালেন। এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের দায়িত্ব কী হবে, তা কাগজে-কলমে লিখিত হলো।
চীন-সোভিয়েত সীমান্তে আমুর নদী বরাবর এত দিনের ৩-৪ ডিভিশন সৈন্যের পরিবর্তে সোভিয়েত সরকার ৪৪ ডিভিশন সৈন্য মোতায়েন করল এবং চীনের সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কা এতে হ্রাস পেল।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী কূটনৈতিক চাপ-হুমকির মুখেও ভারতকে সহায়তার প্রশ্নে সোভিয়েত ইউনিয়ন অনড় থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ততদিনে আমেরিকার সীমাবদ্ধতা বুঝে ফেলেছে। আমেরিকা অল্প কিছু কার্ডই বারবার খেলছে, তা ধরা পড়ে গেল।
হেনরি কিসিঞ্জার ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে জানালেন, ভারতীয় সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটাতে চীনের ওপর যে চাপ দেয়া হয়েছে তাতে কাজ হয়েছে, তবে এর জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন যদি ভারতকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, তার ফল মারাত্মক হবে। তিনি বললেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি আপনাকে অবশ্যই সতর্ক করতে চাই আমাদের ধাপ্পাটা যদি ধরা পড়া যায়, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ে যাব।’
এদিকে মার্কিন চাপে সোভিয়েত ইউনিয়ন নমনীয় হয়ে ভারতকে সতর্ক করে দিল, পশ্চিম পাকিস্তান দখল কিংবা পাকিস্তানের আওতাধীন কাশ্মীর দখলের উদ্যোগ যেন তারা না নেয়। তাছাড়া এটা ভারতের কর্মকৌশলের অন্তর্ভুক্ত নয়।
পাকিস্তানকেন্দ্রিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ভারত-সোভিয়েত সম্পর্ককে আরো জোরদার ও সক্রিয় করে তুলল। একদিকে চীনের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের বৈরিতা, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে উভয়েরই আগ্রহ। ১৯৬৫তে সোভিয়েত মধ্যস্থতা ও তাসখন্দ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল। একাত্তরে নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এল। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকাতে তারা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ল। হোয়াইট হাউজের মূল উদ্বেগ পূর্ব পাকিস্তানের অস্থিতিশীলতা যেন যুদ্ধে পরিণত না হয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়! সে সময়টা চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বরফ গলানোর কাল। আঞ্চলিক কোনো যুদ্ধ যাতে এ কৌশলগত পদক্ষেপে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে উদ্বেগ তাদের ছিল। সংকট যখন তুঙ্গে, তখন ঢাকা ও কলকাতায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেলদের প্রতিবেদন ও পরিস্থিতি মূল্যায়নপত্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়নি। উপেক্ষিত হয়েছে ঢাকা থেকে পাঠানো আর্চার কে ব্লাডের গোপন প্রতিবেদন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের অনেক কর্মকর্তাকে নিক্সন মনে করতেন ভারতপন্থী। ভারতীয় নেতৃত্ব এই মতানৈক্যকে কাজে লাগাতে পেরেছে। ভারতের ওপর প্রভাব বিস্তার করার মার্কিন ক্ষমতা যে খুব সীমিত, এটা উভয় দেশেরই জানা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র যখন বঙ্গোপসাগরে নৌবহর পাঠায়, ভারতীয় হিসাব বলে দেয় নৌবহর পৌঁছার আগেই ঢাকার পতন ঘটবে। ইন্দিরা গান্ধী এবং তার উপদেষ্টা বুঝে নিলেন, মার্কিন এ নৌ পদক্ষেপ কেবল পশ্চিম পাকিস্তান, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্য।
তবে বঙ্গোপসাগরে প্রথমে সপ্তম নৌবহরের আগমন পরবর্তী সময়ে ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং আড়াই বছর পরে (ইন্দিরার শাসনকালে) সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে সক্ষম করে তুলেছে।
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীন যেমন বিবৃতি দিয়েছিল, একাত্তরেও তাই। ১৩ এপ্রিল ১৯৭১ চীনের প্রধানমন্ত্রী মাত্র কয়েকটি শব্দে একটি চিঠি লিখলেন, ‘সম্প্রসারণবাদী ভারত যদি পাকিস্তানে আক্রমণের দুঃসাহস দেখায়, সেক্ষেত্রে চীন সরকার ও চীনের জনগণ পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থন জোগাবে এবং পাকিস্তানের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার লড়াইয়ে সেখানকার জনগণের পাশে দাঁড়াবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির পর পাকিস্তানের জন্য চীনের সামরিক সহায়তা অব্যাহত থাকে।
চীনের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কি সত্যি ছিল, যা ভারতের স্বার্থকে বিপন্ন করতে পারত?
ভারতীয় কর্মকৌশল সম্ভবত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রচিত। প্রথমত. পশ্চিম পাকিস্তানের ভ্রান্ত বিশ্বাস যে চীনের সহায়তার পূর্বাংশের যুদ্ধে তারা জিতে যাবে। নভেম্বরের গোড়ার দিকে চীনফেরত ভুট্টো বলেছিলেন, তার সফরকালে চীন তাকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা পাকিস্তানের হয়ে লড়বে।
২৮ জুলাই ১৯৭১ নিক্সন ও কিসিঞ্জারের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যান্ড বলেছেন, ‘ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব চীনকে টেনে আনবে। প্রকৃতপক্ষে যা আমেরিকা ও পাকিস্তানের অজানা, তা হচ্ছে এপ্রিলের পর থেকে নভেম্বরে ভুট্টোর সফরের মাঝখানে চীনও তার বিদেশ নীতিতে পরিবর্তন এনে পাকিস্তানের জন্য কেবল সমর্থন ব্যক্ত করেছে। কারণ চীনের মূল্যায়নে পাকিস্তানের কাঁধ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বোঝা সরে যাওয়া এবং ভারতের শরণার্থীর বোঝা নামানোর জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টিই ছিল অনিবার্য।’
দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল হিমালয়ের সন্নিকট রাষ্ট্র নেপাল, ভুটান, সিকিমের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ট যে, এ অঞ্চল ভারতের জন্য কৌশলগত বাফার জোনের কাজ করতে থাকে (পরে সিকিমকে ভারত নিজ দেশের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়)।
তৃতীয় বিষয়টি সম্পূর্ণ সামরিক— হিমালয়ের গিরিখাতে প্রবেশযোগ্যতা। বরফ আচ্ছাদিত এ গিরিখাত সম্পর্কে আমেরিকা ভালো অবহিত নয়। বছরের কিছু সময় আবহাওয়ার কারণে এ পথ তুষাররুদ্ধ ও অগম্য হয়ে ওঠে।
নৈকট্য ও অভিজ্ঞতার কারণে এ তিনটি বিষয়ে ভারতের মূল্যায়ন ছিল সঠিক। চীনের ঘোষিত ভারত বিরোধিতার কারণে চীনের সঙ্গে বক্তব্যের বাড়তি ব্যাখ্যা করে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান ধরে নিয়েছে চীন সামরিক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
ইন্দিরার মহাকর্মকৌশল
১৯৭১-এ সাফল্যের প্রশংসা প্রাপ্য ইন্দিরা গান্ধীরই। তিনিই ‘মাস্টার স্ট্র্যাটেজিস্ট’ এবং দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী। তিনি তার সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং তাদের লড়াই করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। এই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট, পরিকল্পনায় ছিল পেশাদারিত্ব এবং তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ছিল অনবদ্য।
তিন বাহিনীর কাজে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে অবদান রেখেছে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় উত্তর আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনী যে গতিতে এগিয়েছে, তারপর এই প্রথম সবচেয়ে দ্রুততার সঙ্গে কোনো সেনাবাহিনী এগিয়ে গেছে। ১৯৭১-এর যুদ্ধে পশ্চিম ভারতের লড়াইটা ছিল প্রতিরক্ষামূলক আর পূর্ব পাকিস্তানে চালানো হয়েছে সৃজনশীল কৌশলগত আক্রমণ। ভারতীয় বিমান বাহিনী দুদিনেই পূর্ব পাকিস্তানের আকাশ দখল করে নিল। আর এতেই পাঁচ ডিভিশন শক্তিশালী ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি সেনাঘাঁটি ও ক্যান্টনমেন্ট পাশ কাটিয়ে ফেরি-সেতু নিরাপদে পেরিয়ে দ্রুত এগিয়ে গেল। কক্সবাজারে হলো সফল অ্যাম্ফিবিয়ান আক্রমণ, টাঙ্গাইলে প্যারাট্রুপার, ১২টি ছোট এমআই ৪ হেলিকপ্টার পার করে দিল এক ব্রিগেড সৈন্য, ২ কিলোমিটার প্রশস্ত মেঘনা নদী। রকেট আক্রমণ হলো গভর্নর হাউজে, গভর্নর পদত্যাগ করলেন। আত্মসমর্পণ করল ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য।
যেহেতু দৃষ্টি ছিল পূর্ব রণাঙ্গনে, দুই পক্ষ অপেক্ষা ও আক্রমণের খেলা খেলছিল। পাঞ্জাব, সাকারগড়, আখনুর আর নয়াচরে ভারতের সফল্য। লঙ্গওয়ালা ও কারগিল চলে এল ভারতীয় দখলে। সিমলা চুক্তির কারণে দখল করা জায়গা ছেড়ে দিতে হলো। দখল করা কাশ্মীরের অংশ ছেড়ে দেয়ার জন্য সিমলায় কোনো চাপ দেয়া হয়নি। দেয়াটাই যুক্তিযুক্ত হতো।
একাত্তরের সাফল্যের মুকুট ইন্দিরা গান্ধীর। তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম, তিন বাহিনী প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ, এয়ার চিফ মার্শাল প্রতাপ লাল, অ্যাডমিরাল এস এম নন্দা, প্রতিরক্ষা সচিব কে বি লাল, পররাষ্ট্র সচিব টি এন কাউল, গোয়েন্দা প্রধান আর এন কাউ, পলিসি প্লানিং প্রধান ডিপি ধর আর বিশ্বস্ত মুখ্যসচিব পিএন হাকসার।
একাত্তরে ইন্দিরার নেতৃত্বে ভারতের যে সাফল্য, যুদ্ধের ইতিহাসে তা স্মরণীয়।





