এককালে আগ্রার নদীতীর মোগল ভারতের অন্যতম মহান দর্শনীয় এলাকা তৈরি করেছিল। সম্রাট আকবরের (শা. ১৫৫৬-১৬০৫) নতুন করে নির্মাণ করা বিশাল দুর্গ এবং তাজমহলের (সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ, মৃত্যু: ১৬৩৩ সমাধি হিসেবে নির্মিত) যমুনা নদীর দুই পারে সুবিশাল ম্যানসন, প্রাসাদোপম বাড়িঘর, জাঁকালো সমাধি এবং রাজকীয় উদ্যান ছিল। যুবরাজ ও মানসাবদারদের বাড়িগুলো ছিল দুর্গের ডান তীরে নদীর ডানে উজান ও ভাটিতে; বাম তীর মূলত রাজকীয় উদ্যানের জন্য নির্ধারিত ছিল। সম্রাট বাবরই (শা. ১৫২৬-৩০) প্রথমবারের মতো তাজমহলের প্রায় উল্টো দিকে উদ্যান তৈরি করেছিলেন। নদীর বাম তীরে বিন্যস্ত অন্য রাজকীয় ভবনগুলো প্রধানত সম্রাট জাহাঙ্গীর (শা. ১৬০৫-২৭) এবং সম্রাট শাহজাহানের (শা. ১৬২৮-৫৮) শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহান নদীর তীরের জমিন তাদের ছেলে এবং সাম্রাজ্যের বনেদি লোকদের দান করেছিলেন। জাহাঙ্গীরের প্রভাবশালী ইরানি স্ত্রী নূরজাহান বর্তমানে রামবাগ নামে পরিচিত উদ্যানটি স্থাপন করেন। বাবা ইতিমাদ আল-দৌলা এবং মা আসমত বানু বেগমের উদ্যানকেও খোদ আগ্রার অন্যতম প্রথম সমাধিক্ষেত্রে পরিণত করেন তিনি। অন্যদিকে স্বয়ং মমতাজ তার মেয়ে জাহানারার হাতে সমাপ্ত একটি উদ্যানের কাজ শুরু করেছিলেন। সম্রাট ও রাজমহলের নারীরা বাদে নদীর তীরে সমাধি বা উদ্যান স্থাপনকারী বাকি সবাইই ছিলেন মানসাবদার (দরবারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা)।

জমি কেনাকাটা করা যেত, তবে নদীতীরের বনেদি জায়গাগুলো সম্রাট অভিজাতদের দান করতেন। তাদের মৃত্যুর পর সেটা আবার ফিরিয়ে নেয়া যেতে পারত। বেশকিছু বাগানবাড়িই পরে সমাধি উদ্যানে পরিণত করা হয়েছে। শাহজাহান ১৬৪৮ সালে দিল্লিতে রাজধানী সরিয়ে নিলে আগ্রার অবনতি ঘটে এবং এসব উদ্যান ও সমাধি সম্রাটের কাছে গুরুত্ব হারায়। ফলে বেশির ভাগ বাড়ি ও উদ্যান এখনো সেগুলোর শেষ স্বত্বাধিকারী শাহজাহানের নামেই পরিচিত।

দুর্গ ও তাজমহল বাদে নদীর উজানে বাম তীরে ইতিমাদ আল-দৌলার সমাধির চারপাশের উদ্যান ও সমাধিগুলোই অতীত জৌলুস নিয়ে টিকে আছে বলা যায়। ১৮০৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত শহরটি অষ্টাদশ শতকে আফগান হানাদারের পাশাপাশি বারবার স্থানীয় খুনে জাত, রোহিল্লা ও মারাঠাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে। এব্বা কোচ ২০০৬ সালে প্রকাশিত তার তাজমহল গ্রন্থে আগ্রার নদীতীরের অনুপুঙ্খ গবেষণা করেছেন। এ গ্রন্থে উপস্থাপিত প্রমাণগুলোকে এখন সম্প্রতি ব্রিটিশ লাইব্রেরির হাতে আসা একটা গুরুত্বপূর্ণ বর্ণিল স্ক্রোল (ওর. ১৬৮০৫) দিয়ে সমর্থন করা যেতে পারে। আঁকা ও লেখা এ স্ক্রোলটি শহরের পূর্ণদৈর্ঘ্য বরাবর বয়ে চলা নদীর দুই তীরের দালানকোঠার উচ্চতা তুলে ধরেছে। স্ক্রোলটির দৈর্ঘ্য ৭৬৩ সেমি ও প্রস্থ ৩২ সেমি।

স্ক্রোলটি একদিক থেকে ভারতীয় টপোগ্রাফিক্যাল ম্যাপিংয়ের সঙ্গে মিল রেখে আঁকা হয়েছে। নদী স্রেফ স্ক্রোলের মাঝ বরাবর আঁকা একটা ফাঁকা সোজা পথমাত্র। এটার বিশাল বাঁককে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এদিকে দুপাশের দালানকোঠা ও উদ্যানগুলোকে একটা সোজা বেজ লাইন বরাবর স্তম্ভ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুতরাং নদীর দুই পারের দালানকোঠা ও লিপিগুলো বিপরীত দিকের কাঠামোগুলোর প্রেক্ষিতে উল্টো হয়ে আছে। প্রতিটি দালানের মাথায় ইংরেজি ও উর্দু লিপি রয়েছে। সেগুলোর দুটো স্ক্রোলটির আনুমানিক বয়স বের করায় সাহায্য করেছে। তাজমহলের কাছেই ‘মেজর টেইলরের উদ্যান’ উল্লেখ করা আছে। তিনি বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ার জোসেফ টেইলর। ১৮০৯ থেকে ১৮৩৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আগ্রায় কাজ করেছেন তিনি। ১৮২৭-৩১ সালে তার পদবি মেজর ছিল। দুর্গের রাজকীয় মহলে পরিবার নিয়ে বাস করতেন (১৮৩১ সাল নাগাদ এর আর অনুমোদন ছিল না)। এছাড়া তাজমহলের মেহমানখানা (খোদ সমাধির দুপাশে রাজকীয় সফরের জন্য সমাবেশস্থল) এবং লাগোয়া রিভার টাওয়ারে বিভিন্ন কামরার স্যুট যোগ করেছিলেন। অবশ্য এ প্রমাণটুকু দুর্গের উত্তরে আগ্রার বিখ্যাত কামানের অনুপস্থিতিতে বিঘ্নিত হয়েছে। ১৮৩৩ সালে বিক্রি করে দিতে উড়িয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত নদীর দিক থেকে সব দৃশ্যে তুলে ধরা হতো এটা। আপাতত স্ক্রোলের সময়কাল আনুমানিক ১৮৩০ সাল বলেই মনে করা হচ্ছে। অবশ্য শিল্পী সব নির্মাণই নতুন করে এঁকেছেন এমন নয়, বরং বেশির ভাগ ভারতীয় শিল্পীর মতো কোনো কোনোটির জন্য আগের ভাষ্যের ওপরও নির্ভর করেছেন বলে জোর দিতে হবে এখানে। উদাহরণস্বরূপ জাফর খানের সমাধির বেলায় একটা মূল পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, এটি ফ্লোরেন্টিনা সেলের ১৮৩০ সালের নোটবুকের একটা ড্রইংয়ের তুলনায় বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত।

এ স্ক্রোল প্রথমবারের মতো অনেকটা নদীর উল্টোতীরে ১৬১১ সালে জাহাঙ্গীরকে বিয়ে করার পর নূরজাহানের নির্মিত জাফর খানের দাদা ইতিমাদ আল-দৌলার সমাধির মতো সমাধিটিকে দোতলা কাঠামো হিসেবে দেখিয়েছে। এভাবে নিজের পরিবারকে সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। নূরজাহানের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত যমুনা নদীর উজানে বিভিন্ন কাঠামো স্ক্রোল থেকে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রমাণ। জাফর খানের সমাধি থেকে কিঞ্চিৎ উজানেই নূরজাহানের ভাই ও বোন ইতিকাদ খান (মৃত্যু: ১৬৫০) এবং মনিজা বেগমের উদ্যান। জাফর খান (মৃত্যু: ১৬৭০) ছিলেন নূরজাহানের আরেক বোনের ছেলে। তারই চাচাতো বোন, আসফ খানের মেয়ে ও মমতাজের বোন ফারজানা বেগমকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। এভাবে তিনি জাহাঙ্গীরের উজির ক্ষমতাবান আসফ খানের একাধারে মেয়ে জামাই এবং ভাস্তে, আবার শাহজাহানের ভাইয়ের শ্যালকও। নদীর ভাটিতে দুর্গের কাছাকাছি যুবরাজদের ম্যানসনের মতো তার ম্যানসনটাও আসফ খানের ম্যানসনের অনুরূপ।

দুর্গ থেকে ভাটির দিকে ছিল জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের বেশ কয়েকজন জাঁদরেল সভাসদের ম্যানসন— ইসলাম খান মাশাদি, আসফ খানের মেয়েজামাই আজম খান, মহব্বত খান (জাহাঙ্গীরের ঠগ সেনাপতি), অম্বরের রাজা মান সিং (তাজমহলের জায়গাসহ আগ্রার জমির মালিক ছিলেন তিনি, আগ্রার অন্যান্য ম্যানসনের বিনিময়ে শাহজাহানের সঙ্গে অদল-বদল করেছেন) এবং ইরানের প্রথম আব্বাসের দরবারে জাহাঙ্গীরের দূত খান আলম বয়স ও আফিমের নেশার কারণে শাহজাহানের আমলেই অবসর নিয়ে আগ্রায় নিজের উদ্যানে উঠেছিলেন। মমতাজের সমাধির পাশেই তার ম্যানসন।

নদী পেরিয়ে আবার উজানের দিকে ফিরে গেলে: স্ক্রোলের বাম দিকের বা পূর্ব তীরের উদ্যান ও সৌধগুলো উল্টো দিকের কাঠামোর বিপরীত ক্রমানুযায়ী নম্বর দেয়া হয়েছে। এ পারে দালানকোঠার সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম, তবে রাজকীয় উদ্যানের সংখ্যা বেশি।

স্ক্রোলের অজ্ঞাত লিপিকার শাহজাহান স্বয়ং তার কবরের জন্য তাজমহলের (‘সম্রাট শাহজাহান নিজের কবর হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন।’) উল্টো দিকে মাহতাব বাগ বা চন্দ্রালোকিত বাগান নির্মাতা হওয়ার ভ্রান্ত ধারণাই অনুসরণ করেছেন। আসলে সম্রাট উল্টো তীরের মমতাজমহলের সৌধ দেখার জন্য চারবাগ উদ্যান হিসেবে বিন্যস্ত করেছিলেন (বিভিন্ন রাস্তা ও নালার মাধ্যমে চার ভাগে বিভক্ত) একে। একটা অষ্টাভুজাকৃতি দীঘির জলে তাজমহলের প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। এটা স্ক্রোলে তুলে ধরা বাংলা তাঁবুর ঠিক সামনে।

বাম তীর মূলত আরো উজানে জাহাঙ্গীরের উজির ইতিমাদ আল-দৌলা এবং তার স্ত্রীর সমাধিসহ টিকে থাকা কিছু রাজকীয় কাঠামো ও রাজকীয় উদ্যানের দখলে রয়েছে। তার স্ত্রীর মৃত্যুর অল্পদিন পরেই ১৬২২ সালে উজিরের মৃত্যু হলে জাহাঙ্গীর তার সম্পত্তি নূরজাহানকে দান করেন। ফলে তিনি যমুনার তীরে তার উদ্যানে বাবা-মায়ের সমাধি নির্মাণ করতে পেরেছিলেন (মানসাবদের সব সম্পত্তি সাধারণত তাদের মৃত্যুর পর আবার রাষ্ট্রের মালিকানায় ফিরে যেত)। নদীর উজানেই রয়েছে জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় ছেলে সুলতান পারভেজের বিধ্বস্ত সমাধি। অতিরিক্ত মদ্যপানের নেশার ফলে ১৬২৬ সালে মারা যান তিনি।

নদীর উজানে রয়েছে ওয়াজির খানের সমাধি। শাহজাহানের শাসনামলে হাকিম আলিম আল-দীন উপাধির মালিক ওয়াজির খান অন্যতম সম্মানিত মানুষ ছিলেন। ১৬৩১-৪১ মেয়াদে পাঞ্জাবের গভর্নর ছিলেন তিনি। লাহোরের বিভিন্ন স্থাপত্যকর্মে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার সুবাদে খ্যাত হয়ে আছেন। এখানে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘসময় গভর্নরের দায়িত্ব থাকায় একটা বিখ্যাত মসজিদ ও হাম্মামখানা নির্মাণ করেছিলেন। আগ্রায় তার উদ্যানের স্রেফ কর্নার টাওয়ার টিকে আছে, কেন্দ্রীয় তাঁবু এবং এর তাহখানা এখন ধ্বংসপ্রায়।

ওয়াজির খানের সমাধির পাশে আফজাল খান শিরাজির সমাধি। শাহজাহানের অধীনে দিওয়ান-ই-কুল বা অর্থমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ১৬৩৯ সালে লাহোরে মারা যান। তার লাশ আগ্রায় এনে তার জীবদ্দশায় নির্মিত সমাধিতেই কবরস্থ করা হয়। এর বাইরের অংশ লাহোরের বিশেষ ধরনের রঙিন টাইলসে অলঙ্কৃত। লাহোর দুর্গ এবং ওয়াজির খানের মসজিদের দেয়ালে যেমনটা দেখা গেছে। সমাধি টিকে আছে, কিন্তু এর মূল অলঙ্করণ হারিয়ে গেছে বলা চলে। ভেতরের অংশে নতুন রঙ লাগানো হয়েছে।

জাহানারা (১৬১৪-৮১) ছিলেন শাহজাহান ও মমতাজের সবচেয়ে বড় সন্তান ও মেয়ে। ১৬৩১ সালে মায়ের মৃত্যুর পর বাবার বিশেষ স্নেহের জায়গা পেয়েছিলেন। তিনিই তখন বেগম সাহিবা হয়ে সম্রাটের সংসার সামলেছেন। আগ্রার নদীতীরের অন্যতম বৃহৎ উদ্যানটি তার। জাহাঙ্গীরের শাসনামলে তার মা-ই এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এটাই তাজের পৃষ্ঠপোষকতাকে সম্পর্কিত করার মতো একমাত্র ভিত্তি। কর্নার টাওয়ারের নিচের দুটো তলার অসমাপ্ত খিলানে অতীত নির্মাণ পর্যায় লক্ষ করা যেতে পারে। এর সঙ্গে জাহানারা অপেক্ষাকৃত ছোট বাগ তৈরি করেছিলেন। সেগুলোর মাত্র একটা টিকে আছে এবং নদীর মুখোমুখি বিশাল তাঁবু হারিয়ে গেছে। সুতরাং নদীতীরের বিস্তারিত স্তম্ভ দেখানোর বেলায় স্ক্রোলের গুরুত্ব অনেক।

জাহানারার উদ্যানের পাশে এখন রামবাগ নামে পরিচিত নূরজাহানের উদ্যান। ১৬১১ সালে শাহজাহানের সঙ্গে বিয়ের অল্প পরেই তিনি এ বাগানটি স্থাপন করেছিলেন বলে মনে হয়। এটা আগ্রায় টিকে থাকা অন্যতম প্রাচীন মোগল উদ্যান। উদ্যানটির নাম রাখা হয়েছিল বাগ-ই নূর আফশান, সাধারণভাবে পরিচিত নাম রামবাগ পরবর্তী সময়ের সংক্ষিপ্ত নাম আরামবাগের অপভ্রংশ। একটা উঁচু টেরাসে দীঘির দু’পাড়ে মুখোমুখি দাঁড়ানো উন্মুক্ত বারান্দা ও রুদ্ধ কামরা নিয়ে নির্মিত দুটো তাঁবু নদীর কিনারে শেষ হয়েছে। একটা তাহখানা রয়েছে নিচে। পরবর্তীকালের মোগল উদ্যানের মতো এটির সমরূপ হওয়ার কথা ছিল না। তাঁবুগুলো নদীর পাড়ের উঁচু টেরাসের দক্ষিণ প্রান্ত দখল করেছে।

এ অনন্য স্ক্রোল থেকে সময়ের ধ্বংসলীলা, অবহেলা এবং যুদ্ধবিগ্রহ সত্ত্বেও ১৮৩০ সালেও নদীর কিনারা বরাবর আগ্রার রাজকীয় অতীতের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ থাকার কথা জানতে পারি আমরা। কিছুটা বিধ্বস্ত অবস্থায় হলেও উল্লেখযোগ্য মানসাবদারি এবং রাজকীয় ম্যানসনসহ বহু টাওয়ার ও ফ্যাসাডে টিকে আছে। ১৮৫৮ সালের বিদ্রোহের পর নাটকীয়ভাবে ছবি পাল্টে যায়। দিল্লির মতো, যেখানে গোলাবর্ষণ নির্বিঘ্ন করতে শহরের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ভূমিসাৎ এবং দুর্গের কাছাকাছি সব ম্যানসন উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। অবশিষ্ট উদ্যানের ভেতর দিয়ে নদীর ডান তীর বরাবর রাস্তা তৈরি হয়েছে। রেল ও রাস্তার জন্য যমুনা নদীর বুকে সেতু নির্মাণের ফলে দু’পারের পরিবেশই নষ্ট হয়েছে। বাম তীরের উত্তর প্রান্তের অল্প কিছু রাজকীয় উদ্যান কোনোভাবে টিকে আছে। বাদবাকি সবকিছু শস্যক্ষেতে পরিণত করা হয়েছে। এখন আগ্রার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে জায়গা দিতে বাড়িঘর নির্মিত হচ্ছে। রাজকীয় রাজধানী হিসেবে আগ্রার তুঙ্গ অবস্থা ফুরিয়েছে আজ ৪০০ বছর। সে সময় আর আজকের মাঝামাঝি একটা সময়ে ঝুলে থাকা স্ক্রোলটি এককালে তা কেমন ছিল, তার মূল্যবান ঝলক জোগায় আমাদের।