মুর্শিদাবাদ শহর ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে মূলত বাংলা সুবার এক গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। মুর্শিদ কুলি খান এ সময় জাহাঙ্গীরনগর, আজকের ঢাকা শহর থেকে মকসুদাবাদে, অধুনা মুর্শিদাবাদ, তার রাজধানী স্থানান্তর করেন। এ সময়ে বহু মসজিদ, প্রাসাদ, রাস্তাঘাট, তোরণ, স্মৃতিসৌধ এ শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনিই এ শহরের নামকরণ করেন মুর্শিদাবাদ। এ সময় থেকে ১৮৮১ অবধি মুর্শিদাবাদ তথা সুবা বাংলায় (বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা) তিনটি রাজবংশ রাজত্ব করেছে। ক্রমানুসারে এ রাজবংশগুলো হলো নাসিরি রাজবংশ (১৭০৪-৪০ খ্রিস্টাব্দ), আফশার রাজবংশ (১৭৪০-৫৭ খ্রিস্টাব্দ) ও নাজাফি রাজবংশ (১৭৫৭-১৮৮১ খ্রিস্টাব্দ)। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব রাজবংশই শিয়া ধর্মাবলম্বী ছিল। ফলে এ অঞ্চলে একদা বহু ইমামবাড়া, কারবালা ও একটি মদিনা গড়ে ওঠে। কিন্তু ভাগীরথী নদীর গতি পরিবর্তন ও আবহাওয়ার অবক্ষয়ের ফলে বহু সৌধ আজ কালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে কেবল তিনটি স্থাপত্যকীর্তি বর্তমান, যা সরাসরি শিয়া ধর্মাচরণের সঙ্গে সংযুক্ত। এ আলোচনায় একটি মদিনা, একটি কারবালা বা হোসাইনিয়া ও একটি ইমামবাড়ার গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলী তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
এর আগেই উল্লেখিত হয়েছে যে মুর্শিদাবাদের নবাবরা সবাই শিয়া গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নবাব মুর্শিদ কুলি খান দাক্ষিণাত্য থেকে বাংলায় এসেছিলেন জানা গেলেও কেন এবং কীভাবে এরা শিয়া ধর্মাচরণের সঙ্গে যুক্ত হন, এর সঠিক কারণ অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। আব্দুল করিম সাহেব তার ‘মুর্শিদ কুলি অ্যান্ড হিজ টাইমস’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘মুর্শিদ কুলি একজন দক্ষিণ ভারতীয় ব্রাহ্মণ পরিবারের মানুষ ছিলেন। এক্ষেত্রে একটি ব্যাখ্যা সম্ভব, যিনি তাকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন, তিনি হয়তো শিয়া ইসলামে বিশ্বাসী ছিলেন। তবে তার নাম এখনো ইতিহাসে পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি এ কথাও বিচার্য যে আলিবর্দি খান ও মীর জাফর ভিন্ন বংশের মানুষ হলেও তারা শিয়া ধর্মাবলম্বী কীভাবে হলেন এবং দিল্লিতে মোগল সম্রাটেরা সুন্নি ইসলামপন্থী হওয়া সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদের নবাবরা কেন শিয়াপন্থী হয়েছিলেন তার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা এখনো সম্ভব হয়নি।’
মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষের শেষ নবাবি রাজধানী মুর্শিদাবাদ, অধিক পরিচিত হাজারদুয়ারি ও নিজামাত ইমামবাড়ার জন্য। কিন্তু এছাড়া বহু স্থাপত্যকীর্তি শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে। একদা এক উন্নত, সমৃদ্ধ শহর ছিল মুর্শিদাবাদ। স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ একে লন্ডনের থেকেও বেশি আড়ম্বরপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু বর্তমানে এটি একটি ছোট শান্তিপূর্ণ শহর। তবে মহররমের সময় এর এক নতুন রূপ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মহররম হলো বছরের সেই সময় যখন পৃথিবীর মুসলমানরা হজরত মুহাম্মদের (দ.) পৌত্র ইমাম হোসাইনের অকালমৃত্যুর জন্য শোক পালন করেন। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার ময়দানে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ইমাম হোসাইন প্রাণ হারান। এ সময় শিয়া মুসলমানরা আলম (শিয়া ধর্মীয় প্রতীকী একটি পতাকা), তাজিয়া (হোসাইনের সমাধির প্রতিরূপ) ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল করে সমগ্র শহর পরিদর্শন করেন। মহররম হলো মুসলমান চান্দ্র পঞ্জিকার প্রথম মাস, যে সময়ে শিয়া ধর্মাবলম্বীরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মজলিস করেন ও কারবালার যুদ্ধের বীরগাথা বর্ণনা করেন। প্রতি বছর বহু মিছিল শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে মুর্শিদাবাদ শহরের বিখ্যাত নিজামাত ইমামবাড়ায় মিলিত হয়। সমগ্র ইমামবাড়া অঞ্চলটি আলোকিত করে তোলা হয়। এ শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান এই ৪০ দিন ধরে গভীর মননশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।
যেহেতু প্রতিটি মসজিদের একটি নির্দিষ্ট ও সনাতন স্থাপত্যরীতি আছে তাই মুর্শিদাবাদের নবাব ও তাদের আমলে নির্মিত মসজিদগুলোয় শিয়া স্থাপত্যের স্বতন্ত্র কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায় না। তবে এখানে বলে রাখা অবশ্যই প্রয়োজন যে মুর্শিদাবাদের মসজিদের একটি বিশেষ সংযোজন হলো তিন কিংবা পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদে কেন্দ্রীয় গম্বুজের দুই ধারে খিলানবিশিষ্ট গম্বুজ লক্ষ করা যায়, যা অনেক সময় তাজিয়াসদৃশ হয়। একটি বিশেষ স্থাপত্যে শিয়া প্রভাব তার মধ্যে ব্যবহৃত শিয়া ধর্মীয় উপাদান বা মোটিফ থেকে পরিস্ফুট হয়। এক্ষেত্রে হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা ফোর্ট, চারমিনার অথবা আহমেদনগরে অবস্থিত দামড়ি মসজিদে আলমের উপস্থিতি কিংবা লখনৌর স্থাপত্যে মাছের অলংকরণ শিয়া প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে আলোচিত মধ্যযুগীয় শহর মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রেও খুব সামান্য হলেও এরকম বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। মুর্শিদাবাদের নবাব ও বিভিন্ন ধনী ব্যবসায়ীরা, যারা প্রচুর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন, তারা তাদের প্রাসাদের মূল ফটকের ওপরে ত্রিভুজাকার পেডিমেন্টে সিংহের অলংকরণ ব্যবহার করেছেন। হাজারদুয়ারি, জগৎ শেঠের বাড়ি, নশিপুর প্রাসাদ ও কাঠগোলার বাগানবাড়িতে আমরা এ বিশেষ প্রতীক প্রত্যক্ষ করতে পারি। মুর্শিদাবাদে এটি রাজকীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শিয়া ইসলাম অনুসরণকারীরা ‘আলী আসাদুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সিংহ’ হিসেবে গণ্য করেন।
যে তিনটি বিশেষ স্থাপত্য নিয়ে আজকের এ আলোচনা তার প্রথমটি হলো মদিনা। মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ও নিজামাত ইমামবাড়ার মাঝে এ ছোট্ট বর্গাকৃতি মোগল পেঁয়াজাকৃতির গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপত্যকীর্তিটি একেবারেই অনন্য। এ অঞ্চলে নবাব সিরাজউদদৌলার পৃষ্ঠপোষকতায় যে নির্মাণটি সম্পর্কে সব ঐতিহাসিক ও ইতিহাস অনুরাগী একমত, এই মদিনা হলো সেই স্থাপত্য (আনুমানিক ১৭৫৬-৫৭ খ্রিস্টাব্দ)। জনশ্রুতি অনুযায়ী এ মদিনার ভিত্তি প্রতিষ্ঠার সময় স্বয়ং নবাব সিরাজ কারবালা থেকে নিয়ে আসা মাটি ফেলেছিলেন। এটি সিরাজের বানানো কাঠের ইমামবাড়া, যা আজ আর নেই, অংশ ছিল। এটিও একটি শিয়া স্থাপত্য। মদিনা সম্পূর্ণরূপে মোগল স্থাপত্যের অনুকরণেই নির্মিত। এতে চার কোনার স্তম্ভে ‘ছত্রী’ অলংকরণ দেখা যায়, যা রাজপুত বৈশিষ্ট্য হলেও মূলত আমরা মোগলদের মাধ্যমেই সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। তবে মদিনার বারান্দার রেলিং ও এতে ব্যবহৃত নির্দেশিত খিলান গথিক স্থাপত্যের ধারা অনুসরণ করে।
হোসেনি দালান হলো এর পরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য, যা সরাসরি শিয়া ধর্মীয় উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত। কারবালার স্থাপত্য ‘রোওযার’ দ্বারা অনুপ্রাণিত। রোওযা হলো পারস্য দেশের সমাধির নামান্তর। কারবালার যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থিত হোসাইন ও হাসান ভ্রাতৃদ্বয়ের সমাধিক্ষেত্রের এটি একটি বেদনাদায়ক প্রতিরূপ। হোসেনি দালান কারবালা কিংবা হোসাইনিয়া নামেও পরিচিত। মহররমের সময়ে এখানে তাজিয়াটি রাখা থাকে। তাজিয়া রাখার জায়গাটি ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে আম্বর আলী খানের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। মূল ফটকের ওপর আটকানো শিলালিপি থেকে জানা যায় যে ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে দারাব আলী খান এখানে একটি মসজিদ স্থাপন করেন এবং জায়গাটিকে বড় করেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন, আম্বর আলী খান ও দারাব আলী খান দুজনই এ সময় মুর্শিদাবাদ দরবারের প্রবল প্রভাবশালী আমির ছিলেন। হোসেনি দালান ও মসজিদ খুবই সাদামাটা একটি স্থাপত্য। দালানটি আয়তাকার সমতল ছাদবিশিষ্ট একটি নির্মাণ। অন্যদিকে মসজিদটি এক গম্বুজ ও বর্গাকার। এ মসজিদে শুধু মেয়েরা নামাজ পড়ে। প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে ‘নজর’ বা বিশেষ প্রার্থনাও হয়।
নিজামাত ইমামবাড়াটি পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বৃহৎ ইমামবাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়। ‘ইমামদের বাড়ি’ থেকে ইমামবাড়া শব্দটির উৎপত্তি বলে অনেকে গণ্য করেন। বাংলা ও লখনৌ ছাড়া ইমামবাড়া শব্দটি আর কোথাও ব্যবহৃত হয় না। হায়দরাবাদ ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু স্থানে এ প্রকার স্থাপত্যকে অসুরখানা বলে অভিহিত করা হয়। মুর্শিদাবাদের ইমামবাড়াটি বর্তমানে ২০৯ মিটার দীর্ঘ। ১৭৫৬-৫৭ খ্রিস্টাব্দে নবাব সিরাজউদদৌলা একটি বৃহৎ ও অপূর্ব কারুকার্যমণ্ডিত
কাঠের ইমামবাড়া স্থাপন করেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ স্থানেই নবাব ফেরেদুন জাহর পৃষ্ঠপোষকতায় ও সাদিক আলী খানের তত্ত্বাবধানে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে একটি নতুন ও বৃহৎ ইমামবাড়া প্রতিষ্ঠা হয়। এ ইমামবাড়ার মধ্যে একটি ‘Chamber of Mourning’ কিংবা ‘শোক পালনের প্রকোষ্ঠ’ আছে। প্রকোষ্ঠটি এক গম্বুজবিশিষ্ট, অষ্টকোণাকৃতি এবং tuscan স্তম্ভ সমন্বিত একটি বারান্দা একে ঘিরে রয়েছে। এর মধ্যেই মহররমের মূল অনুষ্ঠান হয়। এ স্থাপত্যের চারধারে আরেকটি স্তম্ভমণ্ডিত বারান্দা আছে, যাকে মেম্বারদালান বলা হয়। এ মেম্বরদালানে মিম্বার থাকে। এ মূল ইমামবাড়ার পাশেই একটি লোহার গেটের অন্য প্রান্তে রয়েছে এক সুদৃশ্য পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ ও একটি সরাইখানা। ইমামবাড়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত ফটকের ওপর থাকা শিলালিপি থেকে জানা যায় যে মসজিদটি ও সরাইখানা ফেরেদুন জাহের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত। মসজিদটি মুর্শিদাবাদের আরো বেশ কয়েকটি ইসলামীয় উপাসনালয়ের মতো তিনটি গম্বুজ ও দুটি খিলান গম্বুজসংবলিত। এ মসজিদে আমরা Ionian স্তম্ভ দেখতে পাই। এখানে গম্বুজে ও চারকোনার স্তম্ভে মোগল প্রভাব ও অলংকরণে আঞ্চলিক প্রভাব থাকার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিও অনুসৃত হয়েছে। এ প্রভাব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্তরে ইউরোপীয়দের যে দাপট তারই এক সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
মুর্শিদাবাদের স্থাপত্যশৈলী এক অখণ্ড ভারতের চিত্র তুলে ধরে। প্রথম দিকের মসজিদে, যেমন কাটরা মসজিদ, আমরা মোগল-পূর্ববর্তী সুলতানি আমলের গম্বুজের আদল পাই, পাশাপাশি দাক্ষিণাত্যের মসজিদ স্থাপত্য ঘরানাও অনুসরণ করা হয়েছে। এর পরের মসজিদগুলোয় মূলত মোগল প্রভাব দেখা যায়। আঞ্চলিক অলংকরণও এ অঞ্চলের মসজিদে ব্যবহৃত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে আফসার রাজবংশ ও নাজাফি রাজবংশের প্রায় সব মসজিদের কিবলার বাইরের অংশে দোচালা ও খিলান গম্বুজের মতো নকশা দেখা যায়। প্রায় এ সময় থেকেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের প্রভাব এখানকার স্থাপত্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। Venetian পঙ্খের কারুকার্য, cartouch অলংকরণ প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সব ধরনের স্থাপত্যে লক্ষণীয়।
মুর্শিদাবাদ শহরের আনাচে-কানাচে বহু ছোট ও অনামি কারবালা ও ইমামবাড়া রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর পৃষ্ঠপোষক কিংবা নির্মাণের তারিখ সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তাই এ প্রতিবেদনে সেগুলোর উল্লেখ সম্ভব হলো না। অষ্টাদশ শতাব্দীর এ নবাবি শহরে বাখারিগালি নামক এক অঞ্চলে আজও ইরান প্রদেশ থেকে আসা শিয়া ধর্মাবলম্বী বহু মানুষ রয়েছে, যাদের আগমনের সময় কিংবা কারণ সম্পর্কে তারা নিজেরাও ঠিকমতো অবহিত নয়। তবে বহু পুরুষ আগে মূলত তারা ব্যবসায়িক কাজেই এ দেশে এসে, এখানকার মানুষ হয়ে গেছে, এটা আন্দাজ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভারত তথা বাংলার বেশ প্রভাব পড়েছে। তবে তাদের ভাষা, চেহারা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে আজও মধ্যপ্রাচ্যের সাংস্কৃতিক আবহ তারা বহন করার চেষ্টা করছে। সে কারণেই হয়তো বর্তমানের এ প্রবল অবক্ষয় ও পরিবর্তনের মধ্যেও মুর্শিদাবাদ শিয়া ঐতিহ্য তথা নবাবি সংস্কৃতির এক বড় অংশকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
তথ্য নির্দেশিকা
পি সি মজুমদার, দ্য মুসনাদ অব মুর্শিদাবাদ, মুর্শিদাবাদ, ১৯০৫
আব্দুল করিম, মুর্শিদ কুলি খান অ্যান্ড হিজ টাইমস, ঢাকা, ১৯৬৩
ক্যাথিরিন বি আশার, ইনভেন্ট্রিজ অব কি মনুমেন্টস, দি ইসলামিক হেরিটেজ অব বেঙ্গল, জর্জ মিচেল এডিটেড, প্যারিস, ১৯৮৪
অনিরুদ্ধ রায়, মধ্যযুগের ভারতীয় শহর, কলকাতা, ১৯৯৯
সুশীল চৌধুরী, নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, ২০০৮
সংহিতা সেন, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসমূহ: মুর্শিদাবাদ, বাংলাদেশের ইতিহাস, সুলতানি ও মোগল যুগ (আনুমানিক ১২০০-১৮০০ অব্দ), প্রথম খণ্ড, রাজনৈতিক ইতিহাস, সম্পাদক আব্দুল মোমিন চৌধুরী, ঢাকা, ২০২০
ড. সংহিতা সেন: গবেষক, কলকাতা





